উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বগুড়া বিএনপির নেতারা!

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  বগুড়া ব্যুরো

ফাইল ছবি

বগুড়ায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা বলছেন, আগে জনগণ তারপর দল। আবার কেউ বলছেন, দলের নির্দেশনা আছে বলেই তারা ভোটে যাচ্ছেন। এতে নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি বগুড়ায় সফরকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেছেন, তারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। বগুড়ার বর্তমান কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতাদের প্রশ্নের উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ একই কথা বলেছেন। এদিকে জামায়াতও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে জেলার ১২ উপজেলার বিএনপির সাতজনের মধ্যে ছয়জন এবং জামায়াতের পাঁচজন চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার জেলা বিএনপির জরুরি সভায় মনোনয়ন জমাদানকারী নেতাদের নির্বাচন থেকে সরে আসতে নির্দেশ দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন লিখিতভাবে প্রতিটি উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্বাচনে অংশ না নিতে চিঠি দেন।

চিঠিতে এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে।

প্রার্থীদের নিয়ে সভা করায় শহর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানো নোটিশ করা হয়েছে। এরপরও বগুড়া সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

কোনো কোনো নেতা বলছেন, কেন্দ্র তাদের পক্ষে আছে। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় নেতা তাদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। তাই তারা কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ অমান্য করে তৃণমূলের দাবিকে মূল্য দিচ্ছেন।

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, কেন্দ্র তাদের পক্ষে আছেন বলেই তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। শুধু স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা ব্যক্তিগত ঈর্ষা থেকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, যত বাধাই আসুক নির্বাচন করব। নির্বাচনে অংশ না নিতে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো চিঠি পায়নি।

বগুড়া সদর উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও সদর উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমা আকতার জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাই তিনি দলীয় নির্দেশ অমান্য করছেন না। তিনি তৃণমূলের দাবিতে নির্বাচন করবেন।

শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং ওই উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশার জানান, বুধবার স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছেন বলেই তিনি অনেকের মতো প্রার্থী হয়েছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বিউটি বেগম জানান, তার কাছে আগে জনগণ তারপর দল। তাই তিনিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

বিএনপির অন্য কয়েকজন প্রার্থী হলেন- সারিয়াকান্দি উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান হিরু মণ্ডল, অ্যাডভোকেট নূরে আযম বাবু, সোনাতলা উপজেলায় জিয়াউল হক লিপ্পন, নন্দীগ্রামে অ্যাডভোকেট রাফি পান্না, আহসান বিপ্লব রহিম, আলেকজান্ডার ও মাহফুজুর রহমান, কাহালুতে ফরিদুর রহমান ফরিদ ও হুমায়ুন কবির খোকা, শেরপুরে জানে আলম খোকা, ধুনটে আলিমুদ্দিন হারুন ও আকতার আলম সেলিম, গাবতলীতে একিউএম ডিফেন্স সুমন, শফিকুল ইসলাম ভোদন ও এহসানুল বাশার এবং শাজাহানপুর উপজেলায় যুবদল সভাপতি এনামুল হক শাহীন।

বগুড়ার ধুনট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম মামুন জানান, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বগুড়ায় বিএনপি ও জামায়াতের ১২ উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে ১১ জন নির্বাচন থেকে দূরে আছেন। যদিও তারা দলীয় প্রতীকে ভোট করলে আবারও নিশ্চিত বিজয়ী হতেন।

তিনি বলেন, এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই বিএনপির সব প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে আসা উচিত।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন জানান, মঙ্গলবার বিশেষ জরুরি সবার মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে লিখিত চিঠি দেয়া হয়। এরপরও কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।