যুগান্তরকে মাহমুদুর রহমান মান্না

সুলতান মনসুর কী অর্জন করতে চান তা আমার বোধগম্য নয়

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৯, ১৮:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ছবি-যুগান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে জয়ী সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ৭ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

ভোট ডাকাতির অভিযোগে ফল প্রত্যাখ্যান করা বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছিল, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান করে শপথ নিয়েছেন সুলতান মনসুর।

তার শপথ নেয়াকে বিশ্বাসঘাতকতা বলেই উল্লেখ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ নিয়ে এখনো চলছে রাজনৈতিক পাড়ায় আলোচনা-সমালোচনা। 

যুগান্তরকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না নানা খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মঈন বকুল।

যুগান্তর: সুলতান মনসুরের সংসদ সদস্য পদে শপথ নেয়ার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন? 

মাহমুদুর রহমান মান্না: আমি আসলে তার বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না, তারপরেও না বললে হয় না। সবাই জানে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বয়কট করেছে। এরপরেও সুলতান মনসুর গণফোরাম এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে শপথ নিয়েছেন। এমন কী হলো যে তাকে শপথ নিতেই হবে, না নিলে কী হতো?
তিনি শপথ নিলে কী জনগণের কথা বলতে পারবেন? শপথ নিয়ে তিনি আসলে কী অর্জন করতে চান? এটা একটা লোক দেখানো শপথ।

যুগান্তর: সুলতান মনসুর কি তাহলে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন? 

মাহমুদুর রহমান মান্না: তিনি ডাকসুর ভিপি হয়েছিলেন বামপন্থীদের সমর্থনে আর এখন এমপি হয়েছেন বিএনপির সমর্থনে। তখনো বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙানো ছিল এখনো আছে। এখন মানুষ তাকে ভুল বুঝবে, ভুল ধারণা করবে, খারাপ চাইবে।

তিনি বলেছেন, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শপথ নিয়েছেন। জনগণ কাকে ভোট দিয়েছেন? ধানের শীষকে ভোট দিয়েছেন। তাহলে তো তার ধানের শীষকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। ধানের শীষের যে নেত্রী কারাগারে আছে তাকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। কিন্তু তিনি ধানের শীষকে বাদ দিয়ে শপথ নিয়েছেন, তিনি আসলে কী অর্জন করতে চান এটা আমার বোধগম্য নয়। এগুলো ভালো না, রাজনীতিতে এগুলো কোনো ভালো কথা বলে না।

যুগান্তর: তার অনুপস্থিতিতে ঐক্যফ্রন্টে কোনো ক্ষতি বা প্রভাব পড়তে পারে কি না?

মাহমুদুর রহমান মান্না: একদমই না। কোনো প্রভাব পড়বে না।

যুগান্তর: আগামী দিনে ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি কি আসতে পারে?

মাহমুদুর রহমান মান্না: আমাদের কর্মসূচি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারব না। আমাদের আগামী সোমবার ঐক্যফ্রন্টের মিটিং আছে। এরপর জানা যাবে আগামী কর্মসূচি। সবাই নিজের নিজের মতো করে কর্মসূচি পালন করছে। আমরা রাজনৈতিক মাঠে থাকার চেষ্টা করছি। এছাড়া সম্মিলিতভাবেও চেষ্টা করছি।

যুগান্তর: ঐক্যফ্রন্ট এখন কী করতে চায়?

মাহমুদুর রহমান মান্না: সবাই জানে এই নির্বাচনকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বর্জন করেছে। এটি নির্বাচন নয়, আমরা আসলে একটা ইলেকশন চাই, নির্বাচন দিক, সব খালাস। আমরা আবারো একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। 

যুগান্তর: শুধু সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও কালো পতাকা কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে আবারও নির্বাচনে বাধ্য করা সম্ভব?

মাহমুদুর রহমান মান্না: সরকার তো শুনছে না। এ ক্ষেত্রে সে রকম আন্দোলন করতে হবে যেন সরকার বাধ্য হয়। সবাই মিলে আলোচনা করে যদি সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি দেয়া যায় তাহলে সে রকম আন্দোলন সম্ভব।