বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে: ফখরুল

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৮:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৭ জন। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা।

ঘটনার পরই গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, 'বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খোলোয়াড়রা জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ক্রাইস্টচার্চ হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছের মসজিদে উপস্থিত হলে সেখানে প্রবেশের মুহূর্তে মসজিদে মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে। আতংকিত খেলোয়াড়রা তখন দৌঁড়ে মাঠে ফেরত আসেন। এই ঘটনায় আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি।'

তিনি বলেন, 'আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি নিরাপদে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা গন্তব্যস্থলে ফেরত আসার জন্য। আমি আশা প্রকাশ করছি, নিউজিল্যান্ডের সরকার বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করবে। এই সন্ত্রাসী ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এই হতাহতের ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি।'

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

দেশটির সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে অন্তত ৫০টি গুলি করা হয়েছে।

সামাজিকমাধ্যমে মসজিদের ভেতর থেকে গোলাগুলির লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করা হয়।

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে যখন এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন শুক্রবারের জুমার নামাজের প্রস্তুতি চলছিল।

পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদেও হামলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রিয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী ব্রেনটন ট্যারেন্ট। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী তরুণ বলেন, আমি গুলির শব্দ শুনে যতটা সম্ভব দৌড়ে পালিয়েছি। এ সময় আমি অনবরত শুধু গুলির শব্দ শুনেছি।

হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডান এ হামলাকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেছেন।