প্রফেসর আতিকুল হকের চিকিৎসা নিতে চান খালেদা জিয়া

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি প্রফেসর ড. আতিকুল হকের কাছে চিকিৎসা নিতে চান বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার নাইকো দুর্নীতির মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর অস্থায়ীভাবে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমানে তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এখনও ডাক্তার আসেননি, তার রক্ত পরীক্ষা করানো হয়নি। মঙ্গলবার আদালতে আসার আগে তিনি বমি করেছেন। তিনি কিছু খেতে পারছেন না। উনার প্রপার ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন, সেখানে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) তার কোনো চিকিৎসা হয় না। আমরা সরকারকে তাকে একটা বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়ার জন্য বলেছি। এখন পর্যন্ত সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি চাচ্ছেন অতিশীগ্রই তার রক্ত পরীক্ষা করা হোক। চিকিৎসার জন্য তাকে প্রফেসর ড. আতিকুল হককে দেখানো হোক এবং তাকে দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

এদিকে এদিন দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে হাজির করে আদালতে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। এর কিছুক্ষণ পর বিচারক এজলাসে আসলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

শুরুতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটি চার্জশুনানির জন্য আছে। খালেদা জিয়া ছাড়া সকল আসামির চার্জ শুনানি শেষ হয়েছে। এখন তারা শুরু করলে মামলাটির কার্যক্রম আমরা শেষ করতে পারব।

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো. মাসুদ আহমেদ তালকুদার জব্দ করা আলামতের কপি না পাওয়ায় মামলার কার্যক্রম মুলতবি রাখার আবেদন করেন। তিনি বলেন, মামলায় জব্দকৃত যেসব আলামতের কপি আমরা চেয়েছিলাম সেগুলো আমরা পাইনি। তাই সেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ সময় মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, চার্জ শুনানিতে আলামত প্রয়োজন হয় না। খালেদা জিয়া ছাড়া সবাই শুনানি শেষ করেছেন। তারা এখন মামলা বিলম্বিত করতে চাচ্ছেন।

এ সময় বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, চার বছর ধরে চার্জ শুনানি চলছে। এতদিনেও আপনারা আবেদন করেননি কেন? আর যে আবেদন দিয়েছেন তা নিষ্পত্তি হয়েছে।

এরপর মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা তৈরিতে গোজামিল আছে। সেজন্য কাগজপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ সময় বিচারক আসামিপক্ষের এ আইনজীবীর কাছে জানতে চান তারা চার্জ শুনানি করবেন কিনা?

জবাবে মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, কাগজ পেলে আমরা শুনানি করব। এ সময় খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা একটা গ্রাউন্ডলেস মামলা। কাগজগুলো পেলে আমরা তা দেখাবো। আর এ জন্যই শুনানি পেছানো আবেদন করা হয়েছে।

প্রতি উত্তরে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটি গ্রাউন্ডলেস নয়। অন্যান্য আসামিরা শুনানি করেছেন। মামলাটি ১২ বছরের পুরাতন। মামলায় বিলম্বিত করতেই তারা শুনানি করছেন না। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। ওইদিন চার্জ শুনানিতে ব্যর্থ হলে আদেশ দেবেন বলে জানান আদালত।

এদিন জার্মানিতে চিকিৎসাধীন মওদুদ আহমদের পক্ষে সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন আদালত। আর মামলার আসামি গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী তাকে লক্ষীপুরের কারাগার থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার, নারায়ণগঞ্জ অথবা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আদালত এ বিষয়ে পরে আদেশ দিবেন বলে জানান।

আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার শুনানির সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি চেয়ারপারসনের পাশে বসে ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য তাকে ওই বছরের ৬ অক্টোবর বিএসএমএমইউ’তে নেয়া হয়।

তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির অপর মামলায়ও সাজাপ্রাপ্ত হন। সেখান থেকে গত ৮ নভেম্বর তাকে সরাসরি আদালতে হাজির করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির করে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদি হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) এসএম সাহিদুর রহমান এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পক্ষে আংশিক চার্জ শুনানি হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এদের মধ্যে বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা গেছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×