গণতান্ত্রিক রাজনীতির দার্শনিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু: নৌ প্রতিমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি-যুগান্তর
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি-যুগান্তর

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি জাতিকে স্বাধীন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন দর্শন স্থাপন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার বিকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

খালিদ মাহমুদ বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতিকে পুরো স্বাধীনতার নির্দেশনা দিয়ে দিলেন। সেটা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি কথায় গণতন্ত্র ছিল। কোথাও কোনো বিপ্লব নেই। গণতন্ত্রের জন্য কী করতে হবে প্রত্যেকটি জায়গায় তিনি বলেছেন। দেশের মানুষকে তিনি সেদিন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন কোথায় গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। সেদিন যদি তিনি বলতেন- আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন, তাহলে ওই খানেই তাকে হত্যা করা হতো। আমাদের স্বাধীনতার দাবি ওই কাতালানদের মতো পালিয়ে যেতে হতো। হয় বঙ্গবন্ধুকে পালিয়ে যেতে হতো; নয় তাকে হত্যা করা হতো। তখন তিনি দেশদ্রোহিতার মামলার মধ্যে পড়ে যেতেন।

খালিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু সেই আন্দোলনটাকে ধীরে ধীরে একটা পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে রূপ দিলেন। নিয়ে গেলেন ২৫ মার্চ পর্যন্ত। তখন ইয়াহিয়া খান ও বঙ্গবন্ধু উভয়েই নো রিটার্ন পজিশনে। তখনই ইয়াহিয়া বাঙালি নিধনে অপারেশন সার্চলাইট অনুমোদন দিল। আমাদের ওপর গণহত্যা চালানো হল। পাখির মতো নির্বিচারে বাঙালি হত্যা শুরু হলো।

‘তখন বঙ্গবন্ধু বললেন, আমাদের আর পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা সম্ভব না। তখন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। এটাই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর দর্শন- একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কীভাবে স্বাধীকার থেকে ধীরে ধীরে স্বাধীনতার আন্দোলনে নিতে হয় এবং স্বাধীন করতে হয়। রাজনীতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু একজন নতুন দার্শনিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পৃথিবীর কোনো নেতা এভাবে একটি স্বাধিকারের আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু সেটা করতে পেরেছিলেন। ’

দেশের দুর্নীতির জন্য পঁচাত্তর-পরবর্তী সরকারগুলোকে দায়ী করে খালিদ বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী জিয়া-এরশাদ ও খালেদার সরকারগুলো দেশের মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, ফাঁকিবাজি ঢুকিয়ে দিয়েছে। আস্থা এবং বিশ্বাসের সংকট তৈরি করে দেয়া হয়েছে। সে জন্য আমরা এগিয়ে যেতে পারি নাই। আজকে সময় এসেছে। ৪৮ বছরে আমরা এমন একজন নেতৃত্ব পেয়েছি- দেশরত্ন শেখ হাসিনা। যিনি পৃথিবীর সবচেয়ে পরিশ্রমী প্রধানমন্ত্রী। কেন পরিশ্রম করছেন- আমাদের বাংলাদেশ থেকে যে ৪০টি বছর হারিয়ে গেছে- সেই ৪০ বছর তিনি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আমাদের জীবন থেকে যে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে গেছে, সে সময় তিনি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। একজন মানুষ আপ্রাণ কষ্ট করছেন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য।

নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থদের আহ্বান জানিয়ে খালিদ বলেন, ৩০ লাখ শহীদ যারা স্বাধীন দেশের আলো-বাতাস কিছু পায় নাই- তাদের স্বপ্ন আপনি আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করব। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস নয়, অর্জনের মধ্য দিয়ে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুব-উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন আহমদে ভূইয়া, বিআইডব্লিউটিএর সদস্য গোলাম মোস্তফা, নুরুল আলম, দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক আব্দুল আউয়াল ও সিবিএ নেতা আবুল হোসেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×