রায়ে রাজনৈতিক নয়, বিএনপির সংকট ঘনীভূত হয়েছে

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি নেতাদের এমন দাবি নাকচ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা ও রায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়নি। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট ঘনীভূত হয়েছে। সেটার লক্ষণ আমরা টের পাচ্ছি। 

শুক্রবার গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে বিআরটি ও গাজীপুর-এলেঙ্গা সড়কে চার লেন কাজের পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সড়ক ও জনপথ’র (সওজ) ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, ঢাকা সার্কেলর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটি) প্রকল্প পরিচালক সানাউল হক,গাজীপুর মহানগর আওযামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার মামলা ও রায়ের ব্যাপারে এ সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, এ সরকারের আমলে মামলটি হয়নি। মামলাটি হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। যখন মাইনাস টু ফর্মুলা কার্যকর করার নীলনকশা হয়েছিল। সে সময় আমাদের নেত্রীও (শেখ হাসিনা) ছিলেন মাইনাস টু পরিকল্পনার ব্লুপ্রিন্টের অংশ।

তিনি বলেন, ওই সময় দুদক মামলাটি করেছিল। তখন আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। শেখ হাসিনার মামলার তদন্ত করে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ, তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় আদালতই সেগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার এখানে কিছুই করেনি। এখানে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ১০ বছর ধরে একটা মামলা চলে এসেছে। তারপরও বিএনপির নেতারা বলছে, তড়িঘড়ি করে এ মামলাটির রায় দেয়া হয়েছে। বেগম জিয়া বারবার কোর্টে হাজিরা থাকার পর ও হাজিরা দেননি।

এ মামলার বিলম্ব হওয়ার কারণ হিসেবে বেগম জিয়াকেই দায়ী করে তিনি বলেন, এর জন্য খালেদা জিয়া ও তার আইনজীবীরাই দায়ী। বেগম জিয়া একসময় হাজিরা দেননি। তিনি মাসের পর মাস মামলার কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া যদি ঠিকমতো হাজিরা দিতেন, তাহলে অনেক আগেই এ মামলার রায় হয়ে যেত। এখন তিনি নিজেই দেরি করে নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সময় পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। এর জন্য বেগম জিয়া এবং তার আইনজীবীরাই দায়ী। তারা এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। 

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যিনি দুর্নীতি করে অপরাধী হিসেবে দণ্ডিত। বিএনপির গঠণতন্ত্রে আছে, দণ্ডিত ও কুখ্যাত ব্যক্তি বিএনপির নেতা হতে পারবে না, এমপি হতে পারবে না। এ রায়ের আগে তড়িঘড়ি করে বিএনপি তাদের সংবিধানের সাত ধারা বিসর্জন দিল।

তিনি বলেন, এর দ্বারা এটাই প্রমাণ করে যে বিএনপি দুর্নীতিপরায়ণ হতে আর কোনো অসুবিধা নেই। যে কোনো দুর্নীতিবাজ বিএনপির নেতা হতে পারে। তারা সাত ধারা তুলে দিয়ে সেই স্বীকৃতি দিয়েছে। তার বড় প্রমাণ সর্বশেষ তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা।