শপথ নিয়ে যা বললেন মোকাব্বির

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

শপথ নিয়ে যা বললেন মোকাব্বির
শপথ নিচ্ছেন গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান। ছবি: সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ নিয়ে তিনি বেশ কিছু বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।তিনি বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন।দলীয় প্যাড চুরির অভিযোগের উত্তরও তিনি দিয়েছেন।পাশাপাশি সংসদ সদস্য হিসেবে তার ভূমিকা কি হবে তা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই গণফোরাম নেতা।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনে শপথ নেয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এর আগে দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে দলীয় প্যাডে স্পিকারের কাছে আবেদন করেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির আহমেদ খান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সচিবালয় মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তার শপথ নেয়া হয়।

শপথ নেওয়ার পর মোকাব্বির খান বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। আপনারা জানেন ঐক্যফ্রন্ট আমাকে মনোনয়ন না দেয়ার পরে যিনি (ইলিয়াসপত্নী লুনা)মনোনীত হয়েছিলেন, উনাকে আমি আশীর্বাদ জানিয়ে ইংল্যান্ডে চলে গিয়েছিলাম। উনি মনোনয়ন পাওয়ার পরে আইনি জটিলতায় উনি নির্বাচন করতে পারেননি। তখন আমার দল (গণফোরাম) আমাকে বারবার ফোন করেছে। আমি আমার দলের অনুরোধে এসেছিলাম এবং এটাকে সৌভাগ্য বলেন আর যেটাই বলেন আমার মনোনয়নটা আমি প্রত্যাহার করতে পারিনি। আর এই না পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার ছিল।’

নিজের ভোটাধিকার নিয়ে আফসোস ছিল জানিয়ে মোকাব্বির আরও বলেন, ‘আমার মধ্যে খুব আফসোস ছিল যে আমি নিজেই আমার ভোটটা দিতে পারবো না। আমার নামে একটা প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে। সেটা আমি আমার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। সেটাই হয়তো আমার নিয়তি।’

এর আগে ৭ মার্চ শপথ নেয়ার কথা থাকলেও শপথ নেননি মোকাব্বির। সেদিন গণফোরাম থেকে বলা হয়েছিল মোকাব্বির দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে শপথ নেবেন না। এর পর শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত কেমন করে এলো- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোকাব্বির বলেন, ‘এর আগে ৭ মার্চ আমার শপথ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার দলের প্রেসিডিয়াম সভায় সিদ্ধান্ত হলো যে ৭ মার্চ শপথ না নিয়ে অন্য যে কোনো দিন আমি যেন শপথ নিই। সেদিন দলের যে প্যাডে যে প্রক্রিয়ায় আমি স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলাম সেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবারও প্রেসিডিয়ামের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে যোগদান করেছি।’

সংসদে তার ভূমিকা কি হবে এমন প্রশ্নে মোকাব্বির বলেন, সংসদে আমি শতভাগ বিরোধী দলের ভূমিকা নেব। জনগণের কথা বলব। গণফোরামের যে বক্তব্য সেগুলো তুলে ধরব। দেশের জনগণের চিন্তাভাবনা আমার মুখ থেকে যেন সবাই শুনতে পায় সেই হিসেবে কাজ করব।

তিনি সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ায় এবং শপথের অনুমতি দেয়ায় গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন, ‘২৬ বছর আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। গণতন্ত্রের সংগ্রাম, আদর্শের সংগ্রাম, মূল্যবোধের সংগ্রাম। যে সংগ্রাম বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর যে নীতি-আদর্শ-মূল্যবোধ নিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেটি রক্ষা করে গণফোরাম থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছি। আমার প্রধান কাজ হবে, মূল লক্ষ্য হবে সেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধরে এগিয়ে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি যাতে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব। তখনই মনে হবে আমার রাজনীতি সার্থক, আমার দলের রাজনীতি সার্থক।’

এদিকে মোকাব্বির দলীয় প্যাড চুরি করে শপথের আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন গণফোরামের একাধিক প্রভাবশালী নেতা। এ বিষয়ে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নিতে যাচ্ছেন মোকাব্বির খান। তিনি দলীয় প্যাড চুরি করে শপথ নেয়ার জন্য স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন।

গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলছেন, মোকাব্বির দলীয় প্যাড চুরি করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি বলেন, গণফোরামের প্যাডেই মোকাব্বির চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সেই প্যাড ব্যবহারের অনুমতি ও অধিকার রয়েছে কেবল সাধারণ সম্পাদকের। তিনি নিজে বা তার অনুমোদিত কোনো ব্যক্তি ওই প্যাড ব্যবহার করতে পারবেন। মোকাব্বির খান দলের সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে যেভাবে ওই প্যাড ব্যবহার করেছেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি বেআইনি কাজ করেছেন।

আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর লতিফুল বারী হামিম বলেন, মোকাব্বির ব্লাকমেইল করে গণফোরামের প্যাড ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, মোকাব্বির খান দলকে ব্লাকমেইল করে গণফোরামের প্যাড ব্যবহার করেছেন। যদি উনি শপথ নেন, তা হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

গণফোরামের প্যাড তিনি কোথায় পেলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে লতিফুল বারী হামিম বলেন, উনি কোথা থেকে প্যাড পেলেন এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই। হয়তো অফিসের ড্রয়ার থেকে নিতে পারেন। যদি তিনি প্যাড ব্যবহার করেন, তা হলে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই এ প্যাডে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর স্বাক্ষর থাকার কথা। কিন্তু ওই প্যাডে মন্টুর কোনো স্বাক্ষর নেই। এ ছাড়া স্পিকারের কাছে উনি যে চিঠি দিয়েছেন তাতেও মন্টুর স্বাক্ষর ছিল না।

এ বিষয়ে শপথ নেয়ার পর মন্টু বলেন, মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে প্যাড চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলেছেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক। এটি একটি অরুচিকর কথা। শুনতেও বাজে লাগে। আমি দল থেকে অনুমতি নিয়েই সংসদে এসেছি।

এ সময় সাংবদিকদের দলীয় প্যাড দেখিয়ে মোকাব্বির বলেন, ‘এটাকে যদি ভেরিভাই করতে চান তা হলে করতে পারেন। এখানে কোনো ধরনের বিতর্কের সুযোগ নেই। এটাকে যারা বিতর্কে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, আমি মনে করি তারা কোনো বিশেষ মহলের পারপাস সার্ভ করছেন অথবা তারা মানসিক বিপর্যস্ত। হয়তো তাদের একটা অ্যাসাইমেন্ট ছিল। সেই অ্যাসাইমেন্ট পালন করতে না পারায় তারা এমন আচরণ করছেন।’

এ ধরনের অভিযোগ উঠল কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোকাব্বির আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা সবাই আদমের সন্তান। হয়তো কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বাংলাদেশে কত ধরনের রাজনীতি হচ্ছে, অপরাজনীতি হচ্ছে। হয়তো কেউ অপরাজনীতির মানসিকতা নিয়ে বিভিন্ন মহলের ফায়দা হাসিলের জন্য এটা করে যাচ্ছেন। কারণ সব দলিলাদি যখন কথা বলে, তখন আমি মনে করি আমার নিজের মুখ থেকে তেমন কিছু বলার নেই।’

প্রসঙ্গত, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোকাব্বির খান। তিনি সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হন। এই আসনে প্রথমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার মনোনয়ন বাতিল হলে মোকাব্বিরকে সমর্থন দেয় ঐক্যফ্রন্ট।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×