দুই নেতাকে অব্যাহতি দেয়ার জের

বগুড়া বিএনপির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  বগুড়া ব্যুরো

বগুড়া বিএনপির কার্যালয়ে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করছেন নেতাকর্মীরা। ছবি: যুগান্তর

বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস এবং প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমুকে অব্যাহতি দেয়ার পর তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদও স্থগিত করা হয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার রাতে দুই দফায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এর প্রতিবাদে ওই দুই নেতার সমর্থকরা রাতে শহরে নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তাদের সমর্থক নেতাকর্মীরা ‘হিমু, পরিমলের মুক্তি চাই’, ‘দালালমুক্ত বিএনপি চাই’ পোস্টার হাতে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান এবং এ ঘটনার জন্য বগুড়া-৫ আসনে সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে স্লোগান এবং অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। শুক্রবার বিকালেও বিক্ষোভ প্রদর্শন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভা চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে পরিমল ও হিমুকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে।

অন্য সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তীতে বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়ায় রিজভী ওই দুই নেতার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদও স্থগিত করেছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপি কার্যালয়ে জরুরি সভা চলছিল। সেখানে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তখন সাইফুল ইসলাম সমর্থক হিমু ও পরিমল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। হাতাহাতি ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

এর প্রেক্ষিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ওই দুই নেতাকে দলীয় পদ থকে অব্যাহতি ও সভাপতি সাইফুল ইসলামকে শোকজ করেছেন।

সূত্রটি আরও জানায়, এর আগে হিমু জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে বগুড়ার একটি অনুষ্ঠানে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে টেবিলের ওপর ফেলে দেন এবং তার সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন।

এ ছাড়া তিনি (হিমু) বিচারকের উপস্থিতিতে আদালতের কাঠগড়া ভেঙে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এসব অপরাধে কোনো সাজা না হওয়ায় তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে খবরটি প্রচার হলে সাইফুল, হিমু ও পরিমলের সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ওই আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে শহরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

নেতাকর্মীরা সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তবে সেখানে জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের দায়িত্বশীল কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি।

বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহাবুব হাসান লেমন জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই দু’জনের বিরুদ্ধে নেয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপি অফিস তালাবদ্ধ থাকবে।

এদিকে শুক্রবার বিকালেও হিমু ও পরিমলের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সমর্থকরা।

সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ সাংবাদিকদের জানান, হাইকমান্ডের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতারা বসে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমাকে অযথা দোষারোপ করে লাভ নেই। কারণ আমি দলের একজন কর্মী মাত্র।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বসেছিলেন। সেখানে কথা-কাটাকাটির পর হাতাহাতি হয়। এর পরেই শুনেছি আমাকেসহ হিমুকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।