মারল কারা, তদন্ত করবে কারা: ফেসবুকে ছাত্রলীগ নেত্রী লিপির ক্ষোভ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মে ২০১৯, ১৫:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

মারল কারা, তদন্ত করবে কারা: ফেসবুকে ছাত্রলীগ নেত্রী লিপির ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনটির এক নেত্রী।

সোমবারের হামলায় আহত বিএম লিপি আক্তার নামে ওই নারী নেত্রী ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, হামলা করল কারা, আর তদন্ত করবে কারা। ‘তদন্ত নাটক’ বাদ দিয়ে এই কমিটি বাতিল ঘোষণা করে রাজপথের লড়াকু নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে তিনি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদককে আহ্বান জানান।

সোমবার মধুর ক্যান্টিনে মারামারি ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্রলীগ। নতুন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের নেতৃত্বে ওই কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত ও পল্লব কুমার বর্মণ।

এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিএম লিপি আক্তার। তিনি রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটারিয়াবিষয়ক সম্পাদক।

লিপির স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হল- ‘নাটক বাদ দিন, আপনাদের নাটক কেউ দেখতে চায় না। মারল কারা আর তদন্ত করবে কারা? মারার নির্দেশ দিছে কারা, তদন্তের নির্দেশ দিছে কারা? ভণ্ডামি বাদ দিয়ে, যারা বিগত ৮-৯ মাস আপনাদের চামচামি করছে, যাদের কেউ চিনে না, জীবনের প্রথম পোস্ট তাও আবার Join secretary (যুগ্ম সম্পাদক), Vice President (সহসভাপতি), OS (সাংগঠনিক সম্পাদক) এবং সম্পাদক দিছেন এই কমিটি ভেঙে যোগ্য, সাংগঠনিক দক্ষ লোক যারা বিগত দিনে রাজপথে ছিল, তাদের দিয়ে কমিটি করুন।’

লিপি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে হুশিয়ারি দিয়ে লিখেন, ‘নয়তো খুব খারাপ সময় পার করতে হবে আপনাদের।’

সোমবার দুপুরের দিকে কমিটির তালিকা নিয়ে গণভবনে যান ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।

গণভবন থেকে বের হয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যুগান্তরকে জানান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। এর পর ফেসবুকে কমিটি প্রকাশ করা হয়।

যদিও প্রকাশিত কমিটির ওপরে তারিখ লেখা রয়েছে ১১ মে। ফলে এ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয় প্রথম। কমিটি প্রকাশের পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতা-নেত্রীরা।

তারা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ইফতারের পূর্বেই বিক্ষোভ শুরু করেন। ওই বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারী নেত্রীদের ওপর পদপ্রাপ্ত নেতারা হামলা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের নবঘোষিত ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মধুর ক্যান্টিনের সামনে গেলে নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া একজন সহসভাপতি ও দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মিছিলে হামলা চালানো হয়।

লাঞ্ছিত করা হয় ডাকসুর সদস্য ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক উপসম্পাদক ও ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার এবং ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটারিয়া সম্পাদক এবং রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তারকে। পরে তারা সেখান থেকে বিক্ষোভ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন।

মিছিলে পদবঞ্চিত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়। পদবঞ্চিত নেতারা সবাই সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের অনুসারী। যাদের অধিকাংশই সর্বশেষ সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। ইফতারের পর ফের মধুর ক্যান্টিনের উত্তর পাশে জড়ো হন পদবঞ্চিতরা।

সেখানে তারা কমিটি পুনর্গঠন করে সবার সমন্বয়ে তা গঠনের দাবি জানান। অন্যদিকে মধুর ক্যান্টিনের দক্ষিণ পাশে ও ক্যান্টিনের বাইরে অবস্থান নেন বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা।

পরে সদ্য বিদায়ী কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বাবু সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য শুরু করলে বর্তমান নেতাদের অনুসারীরা ব্যানার ছিঁড়ে নেয় এবং চেয়ার উঠিয়ে হামলা চালায়। এর পর শুরু হয় দুপক্ষের হাতাহাতি।

এ সময় বর্তমান নেতৃত্বের অনুসারীদের হামলায় আহত হন- ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটারিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, ক্রীড়া সম্পাদক তানভীর শাকিল, সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, সদস্য নিপো ইসলাম তন্বী, সদ্য বিদায়ী কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন, রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশা, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা।

প্রসঙ্গত গত বছরের ১১ ও ১২ মে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হয় ২৯ এপ্রিল। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×