বিএনপি নয়, ঐক্যফ্রন্ট থেকে উপনির্বাচন করতে রাজি মান্না

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ মে ২০১৯, ১৬:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি নয়, ঐক্যফ্রন্ট থেকে উপনির্বাচন করতে রাজি মান্না
মাহমুদুর রহমান মান্না। ফাইল ছবি

বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও এতে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাই বেশি- এমন আভাস দিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। সে লক্ষ্যে শুরু হয়েছে প্রার্থী খোঁজার কাজও। কেন্দ্রীয় না স্থানীয়- কোন পর্যায়ের নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তা নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে চলছে নানা আলোচনা।

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বগুড়ার নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে বগুড়ার এ উপনির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি বেশ কিছু বিকল্প ভাবছে। দলের জন্য ‘প্রেস্টিজিয়াস’ এই আসনটিতে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপি সিরিয়াস। এমন কাউকে দলের টিকিট দিতে চায় যিনি জয়ী হয়ে আসতে পারবেন। আবার সংসদে গিয়ে জোরালো ভূমিকাও রাখতে পারেন।

এ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি নাম বিবেচনায় রেখেছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়ার পাশাপাশি সমমনা দলের নেতাদেরও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার নামটি।

দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বগুড়ার নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে এ ক্ষেত্রে একটি কঠিন শর্তও জুড়ে দেয়া হয়েছে। সেই শর্তের কারণেই আটকে আছে মনোনয়ন ইস্যুটি। সেই শর্তটি মান্না যদি দল (নাগরিক ঐক্য) ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন, তা হলেই তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। তার নিজ দল থেকে নির্বাচন করলে বিএনপি এতে সমর্থন দেবে না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মান্নাকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখেছে। প্রথমত মান্না বগুড়ার সন্তান, এখানে তার একটা আলাদা গ্রহণযোগ্যতা আছে। দ্বিতীয়ত মান্না খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি আয়োজিত সভা-সমাবেশগুলোতে ভোকাল। তৃতীয়ত মান্নার একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য আছে, তিনি ডাকসুর সাবেক দুইবারের ভিপি। চতুর্থত তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পঞ্চমত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি মান্নার সহমর্মিতা আছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আগে বিএনপির টানা অবরোধ চলাকালে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর তিনি গুলশান কার্যালয়ে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে আসেন। ষষ্ঠত গত নির্বাচনে তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বগুড়ার একটি আসন থেকে নির্বাচন করেন। তাই প্রেস্টিজিয়াস এই আসনে মান্নাকে বিবেচনায় রেখেছে বিএনপি।

বিএনপি চাচ্ছে মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার আগে সেই প্রস্তাবও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রোববার দুপুরে মাহমুদুর রহমান মান্না যুগান্তর অনলাইনকে বলেন, সপ্তাহখানেক আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তাকে জানান যে, লন্ডন থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, তিনি বগুড়ায় নির্বাচন করবেন কিনা? করলে বিএনপির হয়ে করতে হবে।

মান্না বলেন, তখন আমি জানতে চাই- বিএনপির হয়ে মানে কী, বিএনপিতে যোগ দিয়ে? জবাবে মির্জা ফখরুল সহাস্যে বলেন, এর মানে তো তা–ই হয়।’ মান্না বলেন, বিষয়টি এই পর্যন্তই থেমে আছে। এরপর এ বিষয়ে আমাকে আর কিছু বলা হয়নি। তা হলে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি একটি দল করছি। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক আমি। আমি দল ছাড়ব না।

তা হলে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেয়া হলে কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় আমি নির্বাচন করতে চাই না। আর ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করার কথা যদি আপনি বলেন সে ক্ষেত্রে আমি বলব- আগে সেই প্রস্তাব আসুক, ভাবব।

জানা গেছে, মান্না বিএনপির মহাসচিবকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব পেলে তিনি বাকি শরিক দল জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মান্নাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করার প্রস্তাব পেলে আমি শরিক দলের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করব। আমি আ স ম আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে বসব। আর ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের দল তো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেই। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

তবে উপনির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন মান্না। তিনি বলেন, আমি নির্বাচন করলে আগে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এমন গ্যারান্টি চাইব। না হয়, শুধু শুধু ৩০ ডিসেম্বরের মতো আরেকটি পাতানো নির্বাচনে গিয়ে লাভ কী।

সরকারের পক্ষ থেকে এমন গ্যারান্টি দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে মান্না বলেন, আগে তো চাইতে হবে। আর আমি নির্বাচন করব কিনা সেটিই যেখানে স্থির হয়নি, সেখানে এসব বলে লাভ কী। তবে নির্বাচন করলে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি সামনে থাকবে।

এ আসনটিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করে একাধিকবার জয়ী হয়েছেন। তাই নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, তা নির্ভর করছে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে হেরে যান।

বগুড়া-৬ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আসন বলেই পরিচিত। তিনি ওই আসন থেকে কয়েকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কারাবন্দি খালেদার মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই আসন থেকে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর ৯০ কার্য দিবসের মধ্যে ফখরুল শপথ না নেয়ায় স্পিকার আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন।

পরে নির্বাচন কমিশন ওই শূন্য আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে ২৪ জুন। তার আগে মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২৩ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৭ মে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩ জুন। সে হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আর সময় আছে মাত্র ৫ দিন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×