খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

রায়ের সার্টিফায়েড কপি মেলেনি অষ্টম দিনেও

এটা বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপের প্রমাণ: খন্দকার মাহবুব

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি বৃহস্পতিবারও মেলেনি। আগামী রোববার অথবা সোমবার পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। রায় ঘোষণা ও সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদনের পর ৮ দিন পার হয়েছে। শুক্র ও শনিবার আদালতের কার্যক্রম বন্ধ। কপি দেয়ায় বিলম্বের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। তাকে রাজধানীর পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ভাগিনাসহ স্বজনরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, এই বিলম্ব আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আদালত প্রথমে রোববার নকল দেয়ার কথা জানান। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে কপি দেয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সকালে কপি পাওয়া গেলে দুপুরের পরই আপিল ও জামিন আবেদন করা হবে। বিকালে পাওয়া গেলে পরদিন করা হবে।

আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমাদের আশঙ্কা, সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে কপি পাওয়া যাচ্ছে না। রুলসে রায়ের ৫ দিনের মধ্যে বিবাদী পক্ষকে রায়ের কপি সরবরাহের বিধান আছে। এখানে রুলস মানা হচ্ছে না। এটা বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে।

দুপুরের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সাংবাদিকরা সার্টিফায়েড কপির জন্য আদালত চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। আদালতের পেশকার মোকাররম বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদারের সঙ্গে একানে্ত কথা বলেন। পরে সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের জানান, 'তারা আজও (বৃহস্পতিবার) সার্টিফায়েড কপি পাচ্ছেন না। বিচারক এখনও ভেতরে (খাসকামরা) আছেন। বিচারক সারাদিন কাজ করেছেন। তিনি কপির অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করেছেন। শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিনও বিচারক কাজ করবেন। রোববার আমাদের কাছে সার্টিফায়েড কপি দেবেন। ওইদিন না হলে সোমবার তিনি (বিচারক) সার্টিফায়েড কপি দেবেনই বলে জানিয়েছেন।'

তিনি বলেন, যেহেতু এটা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মামলা। তাই তিনি (বিচারক) নিজেই সার্টিফায়েড কপি দেখে দিচ্ছেন, যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে।
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী মাসুদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আগামী রোববার-সোমবারের মধ্যে কপি পেয়ে যাব। যে মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে, তা উচ্চ আদালতে টিকবে না। আশা করছি, আমরা ন্যায়বিচার পাব। এর আগে সোমবার ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তিন হাজার পৃষ্ঠার কোর্টফোলিও দাখিল করা হয়েছে।

স্বজনদের সাক্ষাত্ : বোনের ছেলে শাহরিয়ার আক্তার ডন, সাজিদ ইসলাম ও ভাই শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমাসহ আরও দুইজন দেখা করতে যান। কিছু শুকনো খাবার ও ফল নিয়ে তারা কারাগারে যান। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারা ঘণ্টাখানেক সময় কাটান। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেন।

দেখা করার পর কারাগার থেকে বেরিয়ে শাহরিয়ার আখতার ডন বলেন, খালা (খালেদা জিয়া) সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করি। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, Èএকটি নির্জন জায়গায় তিনি রয়েছেন। বুঝেনই তো।'

ওকালতনামায় সই হয়নি : রায়ের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য ওকালতনামায় খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করাতে কারাগারে কাগজপত্র পাঠানো হলেও তা এখনও সই হয়নি। ফলে বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করাতে না পেরে ওকালতনামা নিয়ে এসে ফিরে যান তারা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া কারাফটকে যান।

প্রায় ২ ঘণ্টা অপেক্ষার পর কাগজপত্র না পেয়ে তারা ফিরে যান। সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য ওকালতনামাসহ বেশকিছু কাগজপত্রে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর করাতে ১৩ ফেব্রুয়ারি কারা কতর্ৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার কাগজপত্র নিতে কারাফটকে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেগুলো পাওয়া যায়নি।

এর আগে বেলা ১১টায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাফটকে যায় কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসসহ ১৫ সদস্যের একটি মহিলা দল। তারা খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি পাত্রে ফলমূল নিয়ে যান। কিন্তু প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় কিছু সময় অপেক্ষা করে ফিরে যান তারা।