যে ইস্যুতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৯, ০৯:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

স্থায়ী কমিটির বৈঠক। ফাইল ছবি

দেড় মাস পর অনুষ্ঠিত হলো বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। এ বৈঠকে দলের জ্যেষ্ঠ দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপিতে যুক্ত ছিলেন। দুই নেতার বাদানুবাদে তিনি কিছু না বললেও অপর এক জ্যেষ্ঠ নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতি শনিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এবার দেড় মাস পর হলো বৈঠক। শনিবার চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

এ বৈঠকে তারেক রহমান সংসদে যাওয়া, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ও বগুড়া উপনির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে ব্যাখ্যা দেন। গত দেড় মাস ধরে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ ব্যাখ্যার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তারেক রহমানের ব্যাখ্যায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সন্তুষ্ট হয়েছেন কিনা এ নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন। তবে এটি স্পষ্ট যে, একাদশ নির্বাচনের ফল বয়কট করে আবার একই সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্যদের যোগ দেয়াকে এখনও মেনে নিতে পারছেন না দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। যে কারণে এতদিন স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়নি। এমনকি একটি বৈঠক ডেকে পরে মুলতবিও করা হয়।  

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংসদে যাওয়া, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন এবং বগুড়া উপনির্বাচনে অংশগ্রহণসহ কয়েকটি বিষয়ে স্থায়ী কমিটিতে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক নেতা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয় বৈঠকে। এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। 

সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ এক সদস্য সম্প্রতি ইস্যু নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন। নির্বাচনের পর ফল প্রত্যাখ্যান করা হলো; সংসদে যাব না বলে জাতিকে জানানো হলো; আবার আলোচনা ছাড়াই কেন সংসদে যোগ দেয়া হলো- এসব ব্যাপারে তিনি জানতে চান। দলের মহাসচিবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কীভাবে এসব সিদ্ধান্ত হয়, যা স্থায়ী কমিটির কেউই জানেন না। মহাসচিবকে উদ্দেশ করে ওই নেতা বলেন, আপনি বললেন শপথ নেয়া দলের সিদ্ধান্ত। কিন্তু নিজে শপথ নিলেন না। আবার বললেন, আগের নেয়া সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এসব বলে স্থায়ী কমিটিকে অপমান করা হয়েছে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নেতা মহাসচিবকে বলেন, আপনি কার ব্যাগ ক্যারি করছেন? 

এ মন্তব্যের পর বিএনপি মহাসচিব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কেন এমন মন্তব্য করা হলো তা তিনি জানতে চান। ওই নেতাকে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি তো জাতীয় পার্টি করতেন। আপনি তো এরশাদের ব্যাগ ক্যারি করেছেন। জবাবে ওই নেতা বলেন, আগে কী করেছি, সেটি মূল বিষয় নয়। এখন কী করছি, সেটি দেখার বিষয়।

সূত্র জানায়, এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় তারেক রহমান স্কাইপে সব শুনলেও কিছু বলেননি। স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যরা তেমন কথা বলেননি। এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, এভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, দুই নেতার মধ্যে বাদানুবাদ চলতে থাকলে স্থায়ী কমিটির এক জ্যেষ্ঠ সদস্য দুজনকে থামান। তখন আগের পরিস্থিতি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা হয়। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাব না বললেও গিয়েছি। খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাব না বলেও গিয়েছি। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতেই পারে। আমরা নির্বাচনে যাব না বলেও গিয়েছি। শপথও নিয়েছি।

একপর্যায়ে মহাসচিবকে উদ্দেশ করে ওই জ্যেষ্ঠ নেতা (যিনি বাদানুবাদ থামান) বলেন, সিদ্ধান্ত আমরা পরিবর্তন করতেই পারি। কিন্তু আপনি কেন বললেন এটি শুধু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত। তিনি (তারেক) যখন সিদ্ধান্ত নেন, তখন তা দলীয় সিদ্ধান্তই বলতে হবে। আবার আপনি শপথ নিলেন না। তা হলে দাঁড়াল কী? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একই বিষয়ে দুটি সিদ্ধান্ত দিলেন? আবার আপনি বললেন শপথ না নেয়ার আগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল? এটিও কেন বলতে গেলেন।

স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, দুই নেতাকে থামাতে এক নেতা যে ভূমিকা রাখলেন তাতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং দ্বন্দ্বের নিরসন হয়। শনিবারের বৈঠকে এ দুজন ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।