এরশাদের মৃত্যুতে শোকাহত রংপুরবাসী

  রংপুর ব্যুরো ১৪ জুলাই ২০১৯, ২৩:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলীয় নেতা রংপুরের ‘ছাওয়ালখ্যাত’ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুতে শোকাহত রংপুরবাসী।

রোববার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া এই রাজনীতিবীদের মৃত্যুশোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে জাপার দুর্গ খ্যাত রংপুর।

জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোক। দল-মত নির্বিশেষে সবার চোখ এখন অশ্রসিক্ত।

দীর্ঘদিনের অভিভাবককে হারিয়ে আহাজারি থামাতে পারছেন না জাতীয় পার্টি দলের নেতাকর্মী থেকে সমর্থকরাও।

রোববার সকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে বাড়তে থাকে নেতাকর্মীদের ভিড়। সেখানে জাতীয় ও দলীয় পতাকার সঙ্গে উড়ছে কালো পতাকা। এছাড়াও নগরীর দর্শনার পল্লী নিবাসেও নেতাকর্মীদের আনগোনা লক্ষ্য করা গেছে।

এ সময় দলীয় কার্যালয়ে দূর-দূরান্ত থেকে অনবরত আসতে থাকে লোকজন। মুহূর্তেই হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে। কান্নায় ভেঙে পড়েন সবাই। চাপা কান্নাও যেন বাঁধ ভেঙে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর চিৎকারে প্রকম্পিত হয়।

দলীয় কার্যালয়ের মতোই পুরো রংপুর জুড়ে এরশাদ ভক্তদের শোকবহ হৃদয় এখন কালো মেঘে আচ্ছন্ন। তার এই মৃত্যুতে রংপুরবাসী অভিভাবকহীন হলে পড়ল বলেও মন্তব্য করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

আর অন্য দলের নেতারা বলছেন, এরশাদের জীবদ্দশার কর্মকাণ্ডই তাকে মূল্যায়ন করবে।

রংপুর জেলা জাতীয় পাটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আবদুল বারী বলেন, দলীয় প্রধানের সঙ্গে একই সঙ্গে বহুবার বক্তব্য রেখেছেন। কত কথা বলেছেন প্রিয় নেতার পাশে বসে। সেই নেতাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি।

তিনি বলেন, রংপুরসহ সারা দেশে রাজনীতিতে এরশাদ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য নেতা। তার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূখী ভাবনায় তাকে এদেশের মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবেন। এমনটাই বিশ্বাস করে রংপুর জাতীয় পার্টির এই নেতা।

এরশাদের হাত ধরে তৃণমূল থেকে রাজনীতির মঞ্চে সফলতার দেখা পেয়েছেন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি এখন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগরের সভাপতি ও রংপুর সিটি মেয়র।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোস্তফা বলেন, ‘আজ আমার পিতাকে হারালাম। আমার জীবনের পরম অভিভাবক ছিলেন। তাকে প্রস্থানের পরও মানুষ আজীবন মনে রাখবে।’

তিনি বলেন, স্যার সব সময়ই দেশের জন্য চিন্তা করতেন। রংপুরের মানুষের কথা বলতেন। আজ স্যার নেই। রংপুরের মানুষ একজন অভিভাবককে হারালো।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সাধারণ সম্পাদক এসএম ফখর উজ্জামান জাহাঙ্গীর বলেন, এরশাদ সাহেবের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। জনগণ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তার অবদানের কথা চিরকাল স্মরণ করবে। এ সময় তিনি প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

এদিকে এরশাদের মৃত্যুতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, তার মতো নেতা আর হবে না। তিনি আমাদের এমপি ছিলেন। দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। রংপুরবাসী আজ তাকে হারিয়ে মর্মাহত। আমরা আর রাষ্ট্রপতি পাব না।

এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জানাযা আগামী মঙ্গলবার বাদ জোহর রংপুরে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও রংপুরের সর্বস্থরেরর মানুষ চাইছেন রংপুরই হোক এরশাদের শেষ ঠিকানা।

ঘটনাপ্রবাহ : পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×