স্যার আমার হাতের রান্না ছাড়া খেতেন না: বাবুর্চি আবুল হোসেন

  পল্লীনিবাস থেকে রাব্বী হাসান সবুজ, বেরোবি প্রতিনিধি ১৫ জুলাই ২০১৯, ০৩:৩৪:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত বাবুর্চি আবুল হোসেন

রংপুরের দর্শনা মোড়ে অবস্থিত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ‌‌‘পল্লীনিবাস’। পল্লীনিবাসের মূল ফটকের সামনে কান্নারত অবস্থায় দাঁড়িয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সী আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি।

তার সামনে যেতেই ভাঙা গলায় বললেন ‘মোর হাত দু’খান পঙ্গু হয়া গেল, মুই কার লাগি রান্ধিম এখন’। তার দুচোখ বেয়ে অঝোরে জল ঝরছে।

পরে জানা গেল তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত বাবুর্চি আবুল হোসেন।

আবুল হোসেন দীর্ঘ ১৪ বছর এরশাদের ব্যক্তিগত বাবুর্চি ছিলেন। এরশাদ রংপুরে আসলে আবুল হোসেনের হাতের রান্না ছাড়া খেতেন না।

রোববার সকাল ৮টায় এরশাদের মৃত্যুর খবর শুনে টার্মিনাল সংলগ্ন নিজ বাড়ি থেকে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাঁটতে হাঁটতে ‘পল্লীনিবাসে’ এসেছেন।

এরশাদের ব্যক্তিগত বাবুর্চি হওয়ার গল্প শোনালেন কান্নারত অবস্থায়।

তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে থেকে স্যার (এরশাদ) রংপুরে আসলে কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন তিলোত্তমা হোটেলের খাবার খেতেন। তিনি আসলেই তার জন্য খাবার প্যাকেট করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হতো আর সময় পেলেই তিনি হোটেল তিলোত্তমায় এসে খাবার খেতেন।

আবুল হোসেন বলেন, সেই ২০০৫ সালের অক্টোবর একদিন হোটেল মালিককে বললেন হোটেলের বাবুর্চিকে ডাকেন আমি কথা বলবো। পরে আমি দেখা করলে আমাকে স্যারের ব্যক্তিগত খাবার রান্নার জন্য নিয়ে যান।

‘সেদিন থেকেই আমি স্যারের সঙ্গে থাকি, রান্না করি এবং সেই বাড়িতেই থাকি, বললেন এই বাবুর্চি।

তিনি আরও বলেন, স্যার আমাকে সেদিনই জিজ্ঞেস করেন তোমার বাড়িঘর আছে কি? প্রশ্নের জবাবে আমি নড়বড়ে একটা ঘর আছে বললে তিনি আমাকেসহ বাড়ির কাজের এক মেয়েকে চার শতক করে মাটি কিনে দিয়ে নিজের অর্থায়নে বাড়ি বানিয়ে দেন।

পল্লীবন্ধুর এই বাবুর্চি বলেন, স্যার আমার হাতের শেষ রান্না খেয়েছেন ২০ রোজায় রংপুর আসলে। তখন তিনি আমাকে বলেন- আবুল হোসেন তোমার অনেক বয়স হয়েছে, এবার তুমি নিজের যত্ন নাও। স্যার যেদিন আমাকে এ কথা বলেন, সেদিন আমি আর তার জন্য রান্না করতে পারবো না, এইটা ভেবে স্যারের সামনে অঝোরে কেঁদেছি। স্যার আমার চোখের পানি মুছে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরে স্যার অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর আর রংপুরেও আসেননি। এর মধ্যে আমিও অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ি। স্যার আমাকে প্রতিমাসের ১ তারিখে ১০ হাজার টাকা করে দিতেন। এই মাসেও একজনের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

তিনি কাঁদতে-কাঁদতে বলেন, আমার যে শারীরিক এবং পারিবারিক অবস্থা, আমাকে কে সাহায্য করবে। স্যার আমাকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসতেন। ঢাকায় বসে তিনি আমার প্রতিনিয়ত খোঁজ নিতেন আর বলতেন আবুল হোসেন তোমার নিজের দিকে খেয়াল রেখো।

পল্লীবন্ধুর সন্তানতুল্য বাবুর্চি আবুল হোসেন বলেন, স্যার রংপুরের কৃতি সন্তান, সুখে-দুঃখে রংপুরবাসীর পাশেই ছিলেন। স্যারকে রংপুরে দাফন করা হলে আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্যারের কবরটা দেখে শান্তি পাবো।

ঘটনাপ্রবাহ : পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত