খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের কাগজপত্র পেয়েছে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৯:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের কাগজপত্র পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

এদিকে মামলার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের শুনানি হবে আজ। আবেদনটি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে আজকের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) এসেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ এবং জামিন হবে কিনা তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দেশবাসী।

তবে বুধবার এক অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পর্যালোচনা করছে কমিশন। এরপর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

গত সোমবার রায়ের সত্যায়িত কপি হাতে পান বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান নথিপত্রসহ ১২২৩ পৃষ্ঠার আপিল দায়ের করেন। আপিলে ৪৪টি যুক্তি দেখানো হয়। এতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা স্থগিত চাওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের শুনানি হবে। আমরা আশা করছি আপিল মঞ্জুর হবে এবং তিনি জামিনও পাবেন। পাঁচ বছরের সাজা স্বাভাবিকভাবেই জামিনযোগ্য।

খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর ও তার জামিন হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ভুয়া দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। এ মামলায় তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য। তিনি বলেন, আমরা তার জামিনের আবেদনও করব। আশা করছি তিনি জামিনও পাবেন। আদালতের কাছে আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পর্যালোচনা শেষে কমিশন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মিডিয়া সেন্টারে এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের সব মামলাতেই যথাযথ মান অনুসরণ করা হয়। কমিশনের আইন অনুবিভাগ মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পর্যালোচনার পর সুপারিশ পেশ করে। কমিশন সেগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।

৮ ফেব্রুয়ারি বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির জন্য পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে জেল ও প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন। রায়ের দিন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারেই আছেন।