‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না’

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ফাইল ছবি

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেছেন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে আজ হোক-কাল হোক সরকার পতনের আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর বিকল্প কোনো পথ নেই। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো তাকে ছাড়বে না। আর আমরা বেগম জিয়াকে বের করতে চাই। আমরা তাকে মুক্ত করতে চাই কিনা সে সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে। দল আন্দোলনের ডাক না দিলেও কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছায় মাঠে নামতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অপরাজেয় বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: জন আতঙ্ক ও সরকারের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আপনারা প্রেস ক্লাব ভাড়া করে প্রোগ্রাম করেন- এ সব করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। সুতরাং আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন। নিশ্চয়ই দল আপনাদের ডাক দেবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, এক ডেঙ্গুর কামড়ে খালেদা জিয়া জেলখানায় ছটফট করছেন। তার কোনো ওষুধ নেই। তার জন্য কারও কোনো খেয়াল নেই। যত ধরনের নির্যাতন আছে জেলখানায় খালেদা জিয়ার ওপর চলছে। আর আমরা সবাই নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছি। আমরা শেখ হাসিনার কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। শেখ হাসিনা মুক্তি দেবে এ কথা কি বিশ্বাস করা যায়? খালেদা জিয়ার তো জেলই হওয়ার কথা না। যখন তিনি জেল দিয়েছে, তখন মুক্তি দিবে না।

তাই খালেদা জিয়াকে যে ডেঙ্গু কামড় দিয়েছে মৃত্যুর আগে তাকে ছাড়বে না। তাই আমাদের কী করতে হবে। আগে সেই ডেঙ্গুকে তাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আতঙ্কের চেয়ে বড় আতঙ্ক গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রক্ষমতা। ডেঙ্গু সমস্যা চিরস্থায়ী না। তবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নির্মূল সম্ভব। জনগণের সমস্যা দেশের সমস্যা।

গয়েশ্বর আরও বলেন, দেশ যারা পরিচালনা করে সে ক্ষেত্রে সরকারের একটা দায়িত্ব থাকে। কিন্তু তা তারা পালন করছে না। তারা ডেঙ্গুকে এখন রজনীতি হিসেবে ব্যবহার করছে। সরকার বলছে ডেঙ্গু বিএনপির গুজব। কিন্তু এই এডিস মশা মারার জন্য যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা সে ব্যবস্থা সরকার ও দুই সিটি কর্পোরেশন গ্রহণ করেনি। সরকারের অনেক আগে থেকে ব্যববস্থা গ্রহণ করার দরকার ছিল। তাতে আজ মহামারী অবস্থায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়াত না।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যিনি মেয়র তিনি আছেন। কোথায় আছেন? রাস্তার বিলবোর্ড বা খাম্বায় খাম্বায় আছেন। যেখানে যাবেন সেখানেই দেখবেন সাঈদ খোকন আছেন। এত প্রচার তার। কিন্তু এই প্রচারের অর্থ কোথা থেকে এলো। ডিজিটাল প্রচার, ফেস্টুনে প্রচার, টিভিতে বিজ্ঞাপন, কিন্তু মশার ওষুধের কথা এলোই তিনি নেই। আর ডেঙ্গু নিয়ে তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন কথা বলছেন। কথা কম বলে কাজ বেশি করতে হবে, সেখানে তার দেখা নেই। কারণ তিনি অসাধু পন্থায় মেয়র হয়েছেন। তাই জনগণের জন্য কাজ করছেন না। তিনি প্রচারে আছেন কাজে নেই।

ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ প্রমুখ।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×