নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কমিটি ঘোষণা

নির্যাতনের ঘটনা আড়াল হতে দেব না: গয়েশ্বর

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

গয়েশ্বর

ক্ষমতাসীন অথবা প্রভাবশালী মহল নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আড়াল করতে চাইলেও তা হতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে ৬১ সদস্যের গঠিত কমিটি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, ব্যবসায়ী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এভাবেই সারা দেশে কমিটি করে ফোরামের কার্যক্রম করা হবে বলে জানান নিপুন রায় চৌধুরী। এই ফোরামের ছয় সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সদস্য হলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কবির রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, লোমহর্ষক নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলেও অনেক ঘটনা আড়ালে চলে যায়। এখন থেকে যাতে এসব ঘটনা আড়াল হতে না পারে, সেই কাজ করবে জাতীয় নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম। তাৎক্ষণিকভাবে নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, তাদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তাও দেবে এ ফোরাম। এ কাজে তিনি মিডিয়ারও সহায়তা চান।

তিনি বলেন, ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ড মিডিয়ায় আসার কারণেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বাধ্য হয়েছে।

ফোরামের আহ্বায়ক সেলিমা রহমান বলেন, খুন-ধর্ষণের পৈশাচিক বিকৃতি আমাদের রাষ্ট্র সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। সরকারের সর্বোচ্চপর্যায় থেকে রাষ্ট্র সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়ানোর ফলে ক্ষমতা ঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরা আশকারা পাচ্ছেন। অভিভাবকরা মেয়ে ও শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, অনাচারমূলক দুঃশাসনে জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেই নারী ও শিশু নির্যাতন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কারণ অধিকাংশ নির্যাতনকারী সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এ কারণে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পরও তাদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারছেন না।

সেলিমা রহমান আরও বলেন, প্রিয় বাংলাদেশ, আজ পরিণত হয়েছে ধর্ষণের লীলাভূমিতে। বখাটে প্রেমিক, পাড়ার মাস্তান, কর্মকর্তা, বাস কন্ডাক্টর, শিক্ষক, মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ কিছু বিকৃত মানুষের লালসার শিকার নারী ও শিশুরা। ৯ মাস বয়স থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কেউ বাদ যাচ্ছেন না। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাকপ্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। রাস্তাঘাট, বাস বা ট্রেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল- এমনকি পুলিশ স্টেশন কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে নারীকে ধর্ষণ, পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে নির্মম কায়দায় শিশু হত্যা, পাশবিক নির্যাতনের পর নারীকে পুড়িয়ে কয়লা করে দেয়া- এইভাবে নানা অভিনব কায়দায় ধর্ষক লম্পটের হিংস্র থাবা সর্বত্র বিরাজমান।

তিনি আরও বলেন, এভাবেই সুবর্ণচরের পারুল, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি, খুলনায় পুলিশ কাস্টডিতে রাতভর নারীর ওপর গণধর্ষণ চালানোর পর মিথ্যা ও সাজানো মাদক মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়া, সিরাজগঞ্জের মেয়ে কলেজছাত্রী রূপাকে টাঙ্গাইলের কাছে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যা, কাকরাইলে উইল লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রিশাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, ইবনে সিনা হাসপাতালের নার্স তানিয়া বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরগঞ্জের বাসে গণধর্ষণ করার পর হত্যা- এভাবে বর্তমান সরকারের আমলে জিম-মিম-তনু-মিতু-খাদিজাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে। শুধু গত ছয় মাসেই ৪৯৬ কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ২৩ জনকে।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক বেগম সেলিমা রহমান ও সদস্য সচিব নিপুন রায় চৌধুরী, সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, আমিনুল হক, রাশেদা বেগম হিরা, মীর সরফত আলী সপু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, লুৎফর রহমান কাজল, আফরোজা আব্বাস, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুহম্মদ মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, দীপেন দেওয়ান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ডা. রফিকুল ইসলাম, বেবী নাজনীন, মনিরুজ্জামান মনি, মিসেস বিলকিস ইসলাম, মিসেস ফরিদা ইয়াসমিন, মীর রবিউল ইসলাম লাবলু, খান রবিউল ইসলাম রবি, কাজী রফিক, করামুল হক বিপ্লব, সিমকি ইমাম খান, মশিউর রহমান বিপ্লব, লায়লা বেগম, সাইফুল ইসলাম, রুমানা মাহমুদ, আলী আহম্মেদ, কনকচাঁপা, এলবার্ড পি কস্ট্রা, আবদুল খালেক, আবু সেলিম চৌধুরী, এসএ সিদ্দিক সাজু, ইশরাক হোসেন, জাহেদুল আলম হিটো, মাহবুব আলমগীর আলো, রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, ড. নুরুল হক, লিটন আকন্দ, সাজ্জাদ হোসেন লাবলু, সাঈদ আহমেদ, মনোয়ারা বেগম মনি, জেলী চৌধুরী, রাশেদা ওয়াহিদ মুক্তা, শামীমা আকবর, তরুণ দে, রফিকুল ইসলাম জামাল, শাহ আহমেদ মোজাম্মেল চৌধুরী, মিসেস শামসুন্নাহার পান্না, আরিফা সুলতানা রুমা, শামীমা আক্তার শাম্মী, মঞ্জুর এলাহী, আসিফ আলতাফ সাদিয়া হক, অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজ, দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটা ও রিটা আলী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×