শামীমের অপরাধ বিষয়ে যা বললেন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম
jugantor
শামীমের অপরাধ বিষয়ে যা বললেন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম

  স্পোর্টস রিপোর্টার  

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৯:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জিকে শামীমকে আটক করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় জিকে বিল্ডার্স থেকে শামীমকে আটক করা হয়।

র‌্যাবের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযানে শামীমের কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ ১ কোটি ৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রেট) জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে।এছাড়াও ৭টি শর্টগান, বিদেশি মূদ্রা ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করেন।

অভিযান শেষে শামীমের নিকেতনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, অর্থ ছাড়াও শামীমের কার্যালয় থেকে মার্কিন ডলার, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে।

আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্সের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে এখনও গ্রেফতার দেখানো হয়নি শামীমকে। তবে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে গ্রেফতারের আগেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে শামীম ছাড়া পাবেন কিনা!

সচেতনরা বলছেন, যার কাছ থেকে এত পরিমাণ অর্থ ও মাদক পাওয়া গেল এবং অস্ত্র উদ্ধার হলো তিনি ছাড়া না পাওয়াই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আটক শামীম যদি তিনি নির্দোষ হন, তাহলে কোর্টে এগুলোর ব্যাখ্যা দেবেন। তার জন্য তো সে সুযোগ রয়েছেই। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছি, কোর্টে তার বক্তব্য সঠিক হলে তিনি ছাড়া পাবেন।’

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মতে জিকে বিল্ডার্স থেকে উদ্ধার নগদ ১ কোটি ৮০ টাকার উৎস জানাতে পারেননি শামীম। টাকাটি অবৈধ উৎস থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারোয়ার আলম বলেন, নগদ অর্থগুলোর বৈধ উপায়ে উপার্জিত কিনা তা তিনি কোর্টে প্রমাণ করতে পারলে সে দায় থেকে রেহাই পাবেন।

অস্ত্রের বিষয়ে সারোয়ার আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে বৈধ অস্ত্র অবৈধ কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের কিছু শর্তাবলি থাকে। সেসব ভঙ্গ করেছেন তিনি।

জব্দ এফডিআর প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। কিন্তু আমরা জানি তার মা বড় কোনো ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। সে বিষয়ে তার বক্তব্য জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শামীমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ ছিল বলে জানান সারওয়ার আলম।

তিনি বলেন, দেহরক্ষীদের দিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতেন শামীম। এমন অভিযোগ পেয়েছি আমরা। একই সঙ্গে, মাদক পাওয়া গেছে, যেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

রাজধানীর প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার।

তবে তিনি এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক।

তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আফসার উদ্দিন মাস্টার।

নিম্ম মধ্যবিত্ত ঘর থেকে উঠে এসে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক তিনি। বনানীর ডিওএইচএসে বিলাশবহুল বাড়িতে থাকেন শামীম।

আর গুলশান নিকেতনে ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনটি অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন শামীম।

জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি।

সাধারণ জনগণের কাছে অতেটা পরিচিতি না থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিচিতি পান শামীম।

সেই নির্বাচনে শামীম আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন।

তবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলছেন ভিন্ন কথা। যুবলীগের নন, জি কে শামীম যুবদলের সাবেক সহ-সম্পাদক বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, যুবলীগে শামীমের কোনো পদ নেই। তিনি নিজেই নিজেকে সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বলে বেড়ান। এ নিয়ে যুবলীগে কয়েকবার আলোচনাও হয়েছে। তাকে কয়েকবার এমন মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে বলাও হয়েছে।

বিএনপি থেকে ভোল পাল্টিয়ে তিনি বর্তমানে যুবলীগ নেতা হয়েছেন বলে জানান তিনি।

শামীমের অপরাধ বিষয়ে যা বললেন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম

 স্পোর্টস রিপোর্টার 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জিকে শামীমকে আটক করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় জিকে বিল্ডার্স থেকে শামীমকে আটক করা হয়।    

র‌্যাবের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযানে শামীমের কার্যালয় থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ ১ কোটি ৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রেট) জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে।এছাড়াও ৭টি শর্টগান, বিদেশি মূদ্রা ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করেন।

অভিযান শেষে শামীমের নিকেতনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, অর্থ ছাড়াও শামীমের কার্যালয় থেকে মার্কিন ডলার, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে।  

আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্সের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে এখনও গ্রেফতার দেখানো হয়নি শামীমকে। তবে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে গ্রেফতারের আগেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে শামীম ছাড়া পাবেন কিনা!

সচেতনরা বলছেন, যার কাছ থেকে এত পরিমাণ অর্থ ও মাদক পাওয়া গেল এবং অস্ত্র উদ্ধার হলো তিনি ছাড়া না পাওয়াই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আটক শামীম যদি তিনি নির্দোষ হন, তাহলে কোর্টে এগুলোর ব্যাখ্যা দেবেন।  তার জন্য তো সে সুযোগ রয়েছেই। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছি, কোর্টে তার বক্তব্য সঠিক হলে তিনি ছাড়া পাবেন।’

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মতে জিকে বিল্ডার্স থেকে উদ্ধার নগদ ১ কোটি ৮০ টাকার উৎস জানাতে পারেননি শামীম।  টাকাটি অবৈধ উৎস থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সারোয়ার আলম বলেন, নগদ অর্থগুলোর বৈধ উপায়ে উপার্জিত কিনা তা তিনি কোর্টে প্রমাণ করতে পারলে সে দায় থেকে রেহাই পাবেন।

অস্ত্রের বিষয়ে সারোয়ার আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে বৈধ অস্ত্র অবৈধ কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের কিছু শর্তাবলি থাকে। সেসব ভঙ্গ করেছেন তিনি।

জব্দ এফডিআর প্রসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। কিন্তু আমরা জানি তার মা বড় কোনো ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।  সে বিষয়ে তার বক্তব্য জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শামীমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ ছিল বলে জানান সারওয়ার আলম।

তিনি বলেন, দেহরক্ষীদের দিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতেন শামীম। এমন অভিযোগ পেয়েছি আমরা। একই সঙ্গে, মাদক পাওয়া গেছে, যেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

রাজধানীর প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার।

তবে তিনি এখন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক।

তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আফসার উদ্দিন মাস্টার।

নিম্ম মধ্যবিত্ত ঘর থেকে উঠে এসে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক তিনি। বনানীর ডিওএইচএসে বিলাশবহুল বাড়িতে থাকেন শামীম।

আর গুলশান নিকেতনে ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনটি অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন শামীম।

জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি।

সাধারণ জনগণের কাছে অতেটা পরিচিতি না থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিচিতি পান শামীম।

সেই নির্বাচনে শামীম আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে প্রচারণাও চালিয়েছিলেন।

তবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলছেন ভিন্ন কথা। যুবলীগের নন, জি কে শামীম যুবদলের সাবেক সহ-সম্পাদক বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, যুবলীগে শামীমের কোনো পদ নেই। তিনি নিজেই নিজেকে সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বলে বেড়ান। এ নিয়ে যুবলীগে কয়েকবার আলোচনাও হয়েছে। তাকে কয়েকবার এমন মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে বলাও হয়েছে।

বিএনপি থেকে ভোল পাল্টিয়ে তিনি বর্তমানে যুবলীগ নেতা হয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান

আরও খবর