সম্রাটকে প্রতি টেন্ডারে যে অঙ্কের কমিশন দিতেন জিকে শামীম

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

সম্রাটকে প্রতি টেন্ডারে যে অংকের কমিশন দিতেন জিকে শামীম

টাকা দিয়েই সবকিছু কেনা সম্ভব, এমন কথায় বিশ্বাসী এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম।

সেভাবেই বিগত বছরগুলোতে টাকা ছড়িয়ে গণপূর্ত অধিদফতরে আধিপত্য বিরাজ করে আসছিলেন তিনি। টাকা ছিটিয়েই তিনি ‘টেন্ডার মাফিয়া’তে পরিণত হন।

র্যা ব সূত্রে জানা গেছে, হাতকড়া পরানোর পরও র্যা বকে ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিতে প্রস্তাব করেন জিকে শামীম।

অভিযানে অংশ নেয়া এক র্যা ব সদস্য জানান, শামীম বলেছিলেন- গ্রেফতার না করলে আপাতত ১০ কোটি টাকা দেয়া হবে র্যা বকে। পরে আরও দেয়া হবে।

জানা গেছে, টাকা দিয়েই ‘যুবলীগের নেতা’ পরিচয়টি বাগিয়ে নেন শামীম। এ জন্য ঢাকা মহানগর যুবলীগের বড় এক নেতাকে ১৫ লাখ টাকা সম্মানীও দিয়েছেন তিনি।

মূলত আটকের পর গণমাধ্যমে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধার হলেও জনমনে প্রশ্ন ওঠে- কে এই জিকে শামীম?

প্রথমে তার পরিচয় যুবলীগের সমবায় সম্পাদক হিসেবে জানা গেলেও পরে প্রকাশ হয়, বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে জিকে শামীম ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহসম্পাদক।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি ভোলপাল্টে ফেলেন তিনি। ঢাকা মহানগর যুবলীগের এক বড় নেতাকে ১৫ লাখ টাকা ‘সম্মানী’ দিয়ে চলে আসেন যুবলীগের ছায়াতলে জায়গা করে নেন। এর পর সেই পরিচয়কে মূলধন করে টেন্ডারবাজিতে আধিপত্য গড়ে তোলেন।

সূত্র জানায়, রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) জিকে শামীমকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ তথ্য বেরিয়ে আসে।

সেখানে জিকে শামীম বলেন, যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতাকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা দিতেন তিনি। টেন্ডার হলেই কমিশন হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে। সেটি ছিল যুবলীগে নিজেকে যুক্ত রাখার কমিশন।

এ মোটা অঙ্কের পরিমাণ কত সে প্রশ্নে শামীম বলেন, প্রতি টেন্ডারে ৮-১০ শতাংশ কমিশন দিতাম সম্রাটকে। আর এই কমিশনের বিনিময়ে সম্রাট তাকে টেন্ডারবাজির জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করার সুযোগ করে দেন।

শামীম জানান, আমি যে টেন্ডারে আগ্রহ দেখাতাম তা আর অন্য কারও নেয়ার ক্ষমতা ছিল না।

তবে শুধু সম্রাটসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদেরই নয়, গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তাদেরও টাকা দিয়ে কার্য উদ্ধার করেছেন শামীম।

প্রকল্প কাজের সময় ও ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে নিতেও ঘুষ খাওয়া কর্মকর্তারা তাকে সহায়তা করতেন।

তিনি জানান, পূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তাদের পেছনে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতেন তিনি। তার বদলে শত শত কোটি টাকার কাজ পেতেন।

এদিকে জিকে শামীমের তিনটি মোবাইল ফোন থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্র জানায়, সেই তিন মোবাইলে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, শামীমের সিন্ডিকেটের ২২ জন ঠিকাদারের নাম জেনেছে তদন্তকারীরা। গণপূর্ত অধিদফতরের ২০ কর্মকর্তার সঙ্গে শামীমের হটলাইন ছিল বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া শুক্রবারের অভিযানে শামীমের ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত এক অফিসিয়াল খাতায় তার অবৈধ লেনদেনসংক্রান্ত হিসাব পাওয়া গেছে।

ওই খাতায় মেগাপ্রকল্পের বেশ কয়েকটি কাজ পেতে টেন্ডার মূল্যের ১-৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন হিসেবে যাদের নগদ দেয়া হয়েছে, তাদের নাম লেখা রয়েছে।

সেখানে যুবলীগ, ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

তবে তদন্তের স্বার্থে গণমাধ্যমে আপাতত এসব নেতার নাম প্রকাশ করেননি তদন্ত কর্মকর্তারা।

তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডের’ সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন শামীম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে সাত দেহরক্ষীসহ শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এ থানায় অস্ত্র, মাদক এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আলাদা তিনটি মামলা করে র্যা ব।

তাকে দুটি মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র মামলায় শামীমের সাত দেহরক্ষীরও চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তারের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শামীমের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনের গুলশান থানায় করা মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।

শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় ৫ দিন এবং মাদক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর অস্ত্র আইনের মামলায় দেহরক্ষী প্রত্যেকের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চাইলেও চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×