ওপর মহলের সবুজ সংকেত, শীর্ষ নেতাদের তালিকা দুদকে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০১ | অনলাইন সংস্করণ

দুদক।
প্রতীকী ছবি

যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, সাবেক ও বর্তমান দুই এমপিসহ শীর্ষ নেতাদের নামের তালিকা দুনীর্তি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে রয়েছে। এসব হাইপ্রোফাইল দুর্নীতিবাজদের ধরতে বড় ধরনের অভিযানে নামছে দুদক। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি এবং দলের পদ-পদবি ভাঙিয়ে দুর্নীতি করেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট, ইসিতে দেয়া জনপ্রতিনিধিদের হলফনামা ও বিভিন্ন দায়িত্বশীল মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুদক ওই তালিকা করছে। তবে এর আগে ৪৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা হয়েছে।

এর ভিত্তিতে অনুসন্ধান চলছে। তালিকাভুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। এদের বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। দুদকও মনে করছে, যে দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা দূর করতে হবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত সেলের এক পরিচালককে ডেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

সূত্র জানায়, র‌্যাবের অভিযানে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার এবং দেশ-বিদেশে আত্মগোপনে আছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। তবে প্রথম তালিকাভুক্ত ৪৩ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে একাধিক মামলার প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ডহোম কর্মসূচি বা মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ডহোমে (এমএম ২ এইচ) অংশ নেন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। সেখানে তার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন ব্যাংকে লেনদেন করেছেন বলে নানা মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছে দুদক।

ক্যাসিনো-কাণ্ডে জড়িত ও তাদের সহায়তাকারীদের নাম নিয়ে দুদক ৪৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এ তালিকায় আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মোল্লা আবু কাওসার, হুইপ ও চট্টগ্রামের এমপি শামসুল হক চৌধুরী, যুবলীগের ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, জি কে শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মোহামেডান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, কৃষক লীগের শফিকুল আলম ফিরোজ, যুবলীগের আনিসুর রহমান আনিস, আরমান, আওয়ামী লীগের এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন চৌধুরী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ, রাজিব, হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান, জি কে শামীমের ক্যাশিয়ার যুবলীগের সোহেল, ক্যাসিনো সম্রাট সেলিম প্রধান, গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে ও আবদুল হাই, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম প্রমুখ।

দুদক সচিব মুহম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, আমরা ৪৩ জনের তালিকা করেছি। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলা দেয়া হবে।

জানা গেছে, দুদকের প্রথম তালিকার ৪৩ জনের বিরুদ্ধে সব ধরনের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাদের অনেকের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কি পরিমাণ লেনদেন হয়েছে সেই তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে দুদক।

এ ছাড়া এনবিআর, ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, রিহ্যাবসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্টদের অর্থ সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, সরকার দলের অনেকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অবৈধ সম্পদসহ নানা অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

এই তালিকায় নরসিংদীর সাবেক ও বর্তমান দুই এমপি, রাজধানীর মিরপুরের আলোচিত এক এমপি, খুলনার সাবেক এক এমপি, পিরোজপুর ও বরগুনার সাবেক দুই এমপি, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা, যুবলীগ দক্ষিণের সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর ছেলের নাম দুদকের নথিতে রয়েছে।

তাদের নাম মালয়েশিয়ায় সেকেন্ডহোমের তালিকায়ও আছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতিসহ অনেকের নাম আছে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের তালিকায়।

দুদক বলছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতিসহ বর্তমান ও সাবেক অন্তত হাফ ডজন এমপির বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান নথিভুক্ত হলেও ফের সচল করা হচ্ছে।

এছাড়া শিগগিরই আরও বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইলের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হচ্ছে বলে দুদক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

হাইপ্রোফাইলদের দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, দুর্নীতির ‘গডফাদার’দের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অনুসন্ধান ও তদন্তের সময় কোনো দল বা মুখ দেখা হবে না।

ঘটনাপ্রবাহ : ক্যাসিনোয় অভিযান

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×