২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে: মওদুদ
jugantor
২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে: মওদুদ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪৩:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানসম্মত নির্বাচিত সরকার নয়। ২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে।বাংলাদেশ বর্তমানে একটা পুলিশি রাষ্ট্র। যার কারণে আজকে সামাজিক অপরাধ বেড়েছে।

তিনি বলেন, সমাজের নীতি-নৈতিকতাহীন অবস্থা বিরাজ করছে। মা ছেলেকে খুন করছে। ছেলে মাকে খুন করছে। ভাই ভাইকে খুন করছে। ছেলে বাবাকে খুন করছে। যারা এগুলো করছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট। আওয়ামী লীগই দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা করছে। তারা জানে যে, অপরাধ করলেও তাদের ধরা পড়ার আশংকা নেই। ধরা পড়লেও তারা দ্রুত রেহাই পেয়ে যাবে।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাবেক সভাপতি মরহুমা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের স্মরণসভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

মওদুদ আহমেদ বলেন, ১০ বছরের যে নির্যাতন, অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, দুর্নীতি-দুঃশাসন, সেটির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০১৯ সালে। এর আগে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বহু নিরীহ মানুষকে তারা হত্যা করেছে। কিন্তু একজন গডফাদারকেও তারা ধরতে পারেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর শুরু হল শোভন-রাব্বানীর চাঁদাবাজির কাণ্ড। গত ১০ বছরে এই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ মানুষের ওপর অত্যাচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করেছে। কিন্তু গত ১০ বছরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নাই, যেখানে ছাত্রলীগের টর্চার সেল নাই। বুয়েটেই ১০টি টর্চার সেল রয়েছে। যার একটিতে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবসময় আমাদের দোষারোপ করা হয় যে, বিএনপি একটি দল যারা রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর, সন্ত্রাস করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক সংহিসতার পরিচয় ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগই বছরের পর বছর প্রত্যেকটা আন্দোলনের সময় ভাংচুর করেছে। মানুষের সম্পত্তি নষ্ট করে যানবাহন ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ নিজেদের দাবি আদায় করার চেষ্টা করেছে। আজকে তারা এমন একটা ভাব দেখায়, যেন সবাই একদম ধোয়া তুলসী পাতা। আর আমরা হলাম সব দুষ্টু মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, স¤প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করে এসেছেন। আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। যখন গঙ্গার পানির একপেশেভাবে ভারত নিয়ে যেতে শুরু করল, তখন আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারতকে বাধ্য করেছিল গঙ্গা পানি চুক্তি করতে। গত ১০ বছরে শেখ হাসিনা শুধু ভারতকে দিয়ে এসেছেন। কোনো কিছু আনতে পারেননি। এবারের সফরেও তিনি বাংলাদেশের জন্য কিছুই আনতে পারেননি। সুতরাং তিনি যতই বলেন বাংলাদেশের স্বার্থ বিক্রি করি নাই, একথা এখন দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না।

আবু মোবাশ্বের মো. আনাসের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।

২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে: মওদুদ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে: মওদুদ
স্মরণসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ছবি: যুগান্তর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানসম্মত নির্বাচিত সরকার নয়। ২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে একটা পুলিশি রাষ্ট্র। যার কারণে আজকে সামাজিক অপরাধ বেড়েছে।

তিনি বলেন, সমাজের নীতি-নৈতিকতাহীন অবস্থা বিরাজ করছে। মা ছেলেকে খুন করছে। ছেলে মাকে খুন করছে। ভাই ভাইকে খুন করছে। ছেলে বাবাকে খুন করছে। যারা এগুলো করছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট। আওয়ামী লীগই দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা করছে। তারা জানে যে, অপরাধ করলেও তাদের ধরা পড়ার আশংকা নেই। ধরা পড়লেও তারা দ্রুত রেহাই পেয়ে যাবে।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাবেক সভাপতি মরহুমা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের স্মরণসভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

মওদুদ আহমেদ বলেন, ১০ বছরের যে নির্যাতন, অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, দুর্নীতি-দুঃশাসন, সেটির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০১৯ সালে। এর আগে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বহু নিরীহ মানুষকে তারা হত্যা করেছে। কিন্তু একজন গডফাদারকেও তারা ধরতে পারেনি। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর শুরু হল শোভন-রাব্বানীর চাঁদাবাজির কাণ্ড। গত ১০ বছরে এই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ মানুষের ওপর অত্যাচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করেছে। কিন্তু গত ১০ বছরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নাই, যেখানে ছাত্রলীগের টর্চার সেল নাই। বুয়েটেই ১০টি টর্চার সেল রয়েছে। যার একটিতে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়।  

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবসময় আমাদের দোষারোপ করা হয় যে, বিএনপি একটি দল যারা রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর, সন্ত্রাস করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক সংহিসতার পরিচয় ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগই বছরের পর বছর প্রত্যেকটা আন্দোলনের সময় ভাংচুর করেছে। মানুষের সম্পত্তি নষ্ট করে যানবাহন ভাংচুর করে আওয়ামী লীগ নিজেদের দাবি আদায় করার চেষ্টা করেছে। আজকে তারা এমন একটা ভাব দেখায়, যেন সবাই একদম ধোয়া তুলসী পাতা। আর আমরা হলাম সব দুষ্টু মানুষ। 

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, স¤প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করে এসেছেন। আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। যখন গঙ্গার পানির একপেশেভাবে ভারত নিয়ে যেতে শুরু করল, তখন আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারতকে বাধ্য করেছিল গঙ্গা পানি চুক্তি করতে। গত ১০ বছরে শেখ হাসিনা শুধু ভারতকে দিয়ে এসেছেন। কোনো কিছু আনতে পারেননি। এবারের সফরেও তিনি বাংলাদেশের জন্য কিছুই আনতে পারেননি। সুতরাং তিনি যতই বলেন বাংলাদেশের স্বার্থ বিক্রি করি নাই, একথা এখন দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। 

আবু মোবাশ্বের মো. আনাসের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।