আবরার হত্যার দায় ছাত্রলীগ এড়াতে পারে না: সংসদে এমপি হারুন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৫:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আববার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার দায় ছাত্রলীগ এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেয়া বক্তব্যে হারুন অর রশীদ একথা বলেন।

আবরার হত্যার অভিযোগপত্র দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আবরার হত্যার ঘটনায় দ্রুত অভিযোগপত্র হয়েছে। একজন মেধাবী ছাত্র নিহত হলেন। পাশাপাশি ২৫ মেধাবী ছাত্রের জীবনে বিপদ ঘটে গেল। এই ঘটনার দায় কি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন এড়াতে পাবে?

ছাত্রলীগের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের হত্যার এ অধিকার তাদের কে দিয়েছে। দেশের উচ্চশিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এর থেকে কীভাবে ফিরতে পারি—এটা নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।

সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী এমপিদের অনুপস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, মাত্র তিন দিনের সংসদ। এর মধ্যেও দেখছি, সংসদে মন্ত্রীদের চেয়ারগুলো খালি রয়েছে। আজকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নের জবাব দিলেন অন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

এসপি হারুনকে নিয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরে হারুন অর রশীদ এমপি বলেন, পত্রিকায় নিউজ হয়েছে হাওরের শাহেন শাহ। পুলিশ সুপার (এসপি) হারুনের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে তার ক্রিয়াকলাপের নিউজ আসছে। এগুলো হতাশাজনক।

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে ৫ অক্টোবর বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলিট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ২৫ জনের মধ্যে ১১ জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। বাকি ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : বুয়েট ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত