‘জেলখানার ডাক্তারের পক্ষে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না’

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০১৮, ২০:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্থোসিস, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত। পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ জেলখানায় থাকার কারণে এসব রোগ মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে।  জেলখানায় কর্তব্যরত একজন জুনিয়র ডাক্তারের পক্ষে তার এসব রোগের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। 

সোমবার সকালে ‘সচেতন চিকিৎসক সমাজ’র ব্যানারে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটেতে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস-এ বক্তারা এসব কথা বলেন। 

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন দেশের অন্যতম অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শহীদুল আলম, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম, অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, বিএমএ’র সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. গাজী আবদুল হক প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, ৭৩ বছর বয়স্ক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত। তাকে যেভাবে জরাজীর্ণ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে রাখা হয়েছে তাতে যেকোনো সময় তার শ্বাসকষ্টজনিত বক্ষব্যাধি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ব্যবস্থা সেখানে নেই। খালেদা জিয়া ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন। মানসিক নির্যাতন ও একাকিত্বের কারণে তার রক্তের শর্করা অস্বাভাবিক বেড়ে বা কমে গিয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। 

বক্তারা বলেন, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী ৩০ বছর ধরে হাঁটুসংক্রান্ত রোগ অষ্টিও আর্থোসিস-এ ভুগছেন। হাঁটুর প্রচণ্ড ব্যথার কারণে তার দুই হাঁটুই প্রতিস্থাপন করেন। এটা ঠিক রাখতে ওনার হাঁটাচলা, ওয়াশরুম ব্যবহার ইত্যাদি অনেকাংশে নির্ভরশীল। কারণ যেকোনো সামান্য ভুলেও তার কৃত্রিম জোড়া ঢিলে হয়ে যেতে পারে।

তাছাড়া তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত। পরিত্যক্ত পরিবেশে একাকিত্বের কারণে তিনি যেকোনো সময়ে একিউট হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কিছুদিন আগে তিনি চোখের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন, এ অবস্থায় তার নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন। 

বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে তার স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। অন্যথায় তার কিছু হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।