জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশ পিছিয়ে সোমবার

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ১১:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশের দিন পিছিয়ে আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। 

বিচারিক আদালতের নথি না আসায় রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

এ মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। 

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদালত কী আদেশ দেন, এতে তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন কিনা,  তা জানতে সবাই আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন।
আজকের কার্যতালিকায় খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি এক নম্বরে ছিল। বেলা পৌনে ১১টায় শুরুতেই খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের দীর্ঘ প্রথা ও এখতিয়ার আছে নথি ছাড়াই জামিন দেয়ার। আমরা চাই আজই জামিন বিষয়ে আদেশ দেন। 

এ সময় আদালত বলেন, এখতিয়ার আছে ঠিক, আমরা নথির জন্য আদেশ দিয়েছিলাম গত ২২ ফেব্রুয়ারি। বিচারিক আদালত আদেশের কপি হয়তো পেয়েছেন ২৫ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে আজ ১৫ দিন শেষ হচ্ছে। 

জয়নুল আবেদীন বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশের কপি বিচারিক আদালতে পৌঁছেছে। সে হিসাবে ১৫ দিন পার হয়ে গেছে আগেই। আদালত বলেন, আমার মনে হয় আজকের দিনটি আমরা দেখি। আদেশের জন্য সোমবার বিকালে রাখলাম।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, গত দিন আমরা আদালতে বলেছিলাম- উনারা কতজন আইনজীবী থাকবেন আর আমরা কতজন থাকব। উনারা মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে আইনজীবীদের এখানে এনেছেন। নিজের মোবাইল ফোনে আসা মেসেজটি আদালতকে দেখান তিনি। এ সময় আদালত হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, উনারা হয়তো আপনাকে উপস্থিত থাকার জন্য মেসেজ দিয়েছেন। পরে আদালত খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য সোমবার বিকালে দিন ধার্য করেন। 
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। 

এজলাসে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ, মির্জা আব্বাস, জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান, এজে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া, আমিনুল হক, শাম্মী আক্তার, কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার এহসানুর রহমানসহ বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, ১৫ দিনের মধ্যে নথি আসার সময়সীমা শেষ হয়েছে বিষয়টি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের নজরে আনেন গত বৃহস্পতিবার। পরে আদালত জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য রোববার দিন ধার্য করেন। 

জানা গেছে, মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে পৌঁছেছে। সে মোতাবেক ১৫ দিন শেষ হবে আজ। এ প্রসঙ্গে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর পেশকার মোকাররম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিচারিক নথি রোববার হাইকোর্টে পাঠানো হচ্ছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল আবেদনে নিম্ন আদালতের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৪টি যুক্তি দেখানো হয়। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালতের দণ্ড স্থগিত চাওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেয়া জরিমানার আদেশও স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য রাখেন আদালত। আদেশে এ মামলায় বিচারিক আদালতের নথি তলব করে ১৫ দিনের মধ্যে তা হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষে আদালত বলেছিলেন বিচারিক আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেবেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এ অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেককে সমান অঙ্কে প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের পর থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর ৩২টি যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন দেয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স ৭৩ বছর। তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তিনি ৩০ বছর ধরে গেঁটেবাত, ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিস, ১০ বছর ধরে উচ্চরক্তচাপ ও রক্তে আয়রন ঘাটতিতে ভুগছেন।