খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের ২ আপিলের শুনানি আজ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মার্চ ২০১৮, ০৮:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারারুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। আজ বুধবার এ মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি হবে।

জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্র ও দুদক আলাদাভাবে আবেদন করলে আজ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আলাদা আবেদন দুটির ওপর শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কোনো আদেশ না দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের বুধবারের কার্যতালিকায় এক এবং দুই নম্বরে রাখা হয়েছে।

সকাল ৯টায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগ কী আদেশ দেন, এতে তিনি কারামুক্ত হতে পারবেন কি না, তা জানতে সবাই সেদিকে তাকিয়ে আছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের কপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দুই বিচারপতি জামিন আদেশে স্বাক্ষর করেন। সিএমএম কোর্ট জামিন আদেশ গ্রহণের পর এর কপি কারাগারে পাঠানো হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লায় গাড়ি পুরানোর মামলায় কাস্টডি ওয়ারেন্ট দেয়া আছে। সেই মামলায় তিনি (খালেদা জিয়া) জেলে আছেন ধরতে হবে। কাজেই ওই মামলায় জামিন না নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

সোমবার হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেছিলেন, তারা হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে যাবেন। এর ধারাবাহিকতায় জামিন স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার সকালে চেম্বার আদালতে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন আদালত। হাইকোর্ট বলেছেন, পেপর বুক প্রস্তুত হয়ে গেলে যে কোনো পক্ষ শুনানির জন্য আপিল উপস্থাপন করতে পারবে। এ মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন।

মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান ও খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন।

এ মামলায় জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত ফায়সালা হলে খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবেন কি না, এসব নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আদালতের শুনানিতে কী বলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে আমি বলেছি, খালেদা জিয়ার ১০ বছর সাজা হওয়া মর্মে নিু আদালত মত দিয়েছেন। কিন্তু তাকে ৫ বছর সাজা দেয়া হয়েছে তার বয়সের কথা বিবেচনা করে। এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে নিু আদালত দণ্ড কমিয়ে দিয়েছেন।

কাজেই জামিন শুনানির ক্ষেত্রে একই বিষয়গুলো ফের বিবেচনার সুযোগ নেই। এখন আপিল শুনানি হবে। আপিল শুনানিতে যদি দেখা যায় উনার বিরুদ্ধে মামলাই টিকে না, তবে তিনি খালাস পাবেন। আর যদি দেখা যায়, ঠিক মতোই বিচার হয়েছে। তাহলে উনি জেলেই থাকবেন।

অন্যদিকে চেম্বার আদালতে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল যা বলেছেন তার সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আদালত শেষে সাংবাদিকদের বলেন, জামিন ঠেকাতে সরকার এবং দুদক একাকার হয়ে গেছে।

আদালত হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত না করে তাদের আপিল দুটি বুধবার শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ করার জন্যই আপিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.