শাহাদাত ৪৮, রেজাউল শূন্য
jugantor
শাহাদাত ৪৮, রেজাউল শূন্য

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:২৮:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ৪৮ মামলা। তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অনেকটা ক্লিন ইমেজের আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী; যার বিরুদ্ধে কোনো মামলাই নেই। অবশ্য ডা. শাহাদাতের মামলাগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়েছে।

দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

হলফনামায় বলা হয়েছে, রেজাউল করিমের নির্বাচনী খরচ জোগাবেন স্ত্রী ও ভাইয়েরা। আর ডা. শাহাদাতের ভোটের খরচ দেবেন তার বোনেরা।

নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করবেন শাহাদাত। আর দুই বোনের কাছ থেকে ঋণ করবেন পাঁচ লাখ করে মোট ১০ লাখ টাকা।

নিজের ব্যবসা থেকে এক লাখ টাকা খরচ করবেন রেজাউল। পাশাপাশি স্ত্রী পাঁচ লাখ ও এক ভাই সাড়ে তিন লাখ টাকা দেবেন। এর বাইরে দুই ভাইয়ের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা ভোটের জন্য ধার করবেন রেজাউল।

হলফনামা দুই প্রার্থীর দেয়া তথ্যমতে, শাহাদাত হোসেন ঋণখেলাপি, আর রেজাউল করিম ঋণমুক্ত।

ডা. শাহাদাতের উত্তরা ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছে তিন কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ আছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কাছে ঋণ ২৯ লাখ ৮১ হাজার ১৩২ টাকা এবং অন্যান্য ঋণ দুই লাখ ৪৬ হাজার ৩১৩ টাকা।

শাহাদাত নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার দ্য ট্রিটমেন্ট সেন্টার নামের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মূলধন ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৬০০ টাকা।

তার টয়োটা গাড়ির মূল্য ১১ লাখ ৮০ হাজার আর পুরনো একটি জিপের মূল্য ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

ডা. শাহাদাতের মোট বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া বাবদ আসে তিন লাখ ৫৩ হাজার ২৫ টাকা। চিকিৎসা, শিক্ষকতা ও পরামর্শক হিসেবে পান ১৭ লাখ ২১ হাজার টাকা।

শাহাদাতের ১৫ লাখ টাকার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৭ টাকা। বন্ড ও স্টক এক্সচেঞ্জে আছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা।

শাহাদাতের মালিকানাধীন দুটি অকৃষি জমির মূল্য ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। একটি আটতলা আবাসিক ভবনের আট ভাগের একাংশের তিনি মালিক, যার মূল্য ৬৭ লখ ৮৬ হাজার টাকা। আর নিজের মালিকানাধীন একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ৩৫ লাখ টাকা।

এদিকে নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী ১৯৬৬ সাল থেকে রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। অতীতেও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না।

নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাতের হলফনামায় তার বিরুদ্ধে মোট মামলা ৪৮টি থাকার উল্লেখ রয়েছে। শাহাদাতের বিরুদ্ধে মামলার অধিকাংশই বিচারাধীন। বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, দ্রুত বিচার আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা করা হয়। সবচেয়ে বেশি ১৬টি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনের।

এসব মামলার মধ্যে ৪৩টি বিচারাধীন। দুটি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত এবং তিনটি তদন্তাধীন আছে। দ্রুত বিচার আইনে করা একটি মামলায় শাহাদাত খালাস পেয়েছেন।

পেশায় ব্যবসায়ী ৬৭ বছর বয়সী রেজাউল নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দার বাড়ির সন্তান; এখনও পৈতৃক বাড়িতেই থাকেন তিনি।

অন্যদিকে বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা শাহাদাত এখন থাকেন নগরীর বাদশা মিয়া সড়কের একটি ফ্ল্যাটে। তার বয়স ৫৪ বছর।

রেজাউল করিমের কোনো ঋণ। তার স্ত্রীর নামে অকৃষি জমি আছে দুই গণ্ডা দুই কড়া। উত্তরাধিকারসূত্রে এক লাখ টাকা মূল্যমানের নির্মিত ঘর পেয়েছেন রেজাউল।

নিজের নামে স্থাবর সম্পদে রেজাউলের চারটি অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান মূল্যমান এক কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭টাকা।

তার কাছে নগদ আছে এক লাখ টাকা, স্ত্রীর কাছে তিন লাখ ৫১ হাজার ৪০৯ টাকা।

পাশাপাশি রেজাউলের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা সাত লাখ আট হাজার ৫৩৯ টাকা, স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ ২৭ হাজার ৯০ টাকা। স্ত্রীর নামে প্রাইজবন্ড আছে ২০ হাজার টাকার।

চার লাখ টাকা দামের একটি প্রাইভেটকারের মালিক রেজাউল।

তার ব্যবসায়িক মূলধন নিজ নামে দুই লাখ টাকার। আর মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামের সরবরাহকারী ফার্মের মূলধন ১০ লাখ ছয় হাজার টাকা।

স্ত্রীর নামে ব্যবসায়িক মূলধন দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্ত্রীর মেসার্স চৌধুরী ইলেকট্রনিক্স নামের একটি ফার্মের মূলধন দুই লাখ ৫১ হাজার টাকা।

বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে রেজাউলের বার্ষিক আয় চার লাখ ১৪ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা আর ফার্মের শেয়ার থেকে আয় দুই লাখ এক হাজার টাকা।

প্রসঙ্গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথম চট্টগ্রামের সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ফরম জমা দেয়ার পর নৌকার প্রার্থী ও নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিকল্পিত নগরী উপহার দেব। প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমান মেয়র নাছিরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করব।

ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর বলেন, নির্বাচনের আগে ৩ দিনের সরকারি ছুটি। ফলে অধিকাংশ নগরবাসী ও ভোটাররা নগরীর বাইরে থাকবেন। তাই নির্বাচনের তারিখ ২৯ মার্চের পরিবর্তে ৩১ মার্চ করার দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি বুথে একজন করে পোশাকধারী সেনা অফিসার মোতায়েন করতে হবে। না হয় ভোট সুষ্ঠু হবে না।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় রেজাউল করিমের সঙ্গে বর্তমান মেয়র নাছির উদ্দীন ছাড়াও ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, উত্তর জেলার সভাপতি এমএ সালাম, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, নোমান আল মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল প্রমুখ।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটনসহ বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ডা. শাহাদাত বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। এর আগে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি, ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই নগরবাসীর বেশিরভাগই শহরের বাইরে চলে যাবেন। ঢাকা সিটি নির্বাচন ও চট্টগ্রাম উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তাই এ ছুটির ফাঁদ থেকে ভোট বাঁচাতে হলে ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে।

ঢাকায় যেভাবে ৩০ জানুয়ারির পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, তেমনি চট্টগ্রামেও দু’দিন পিছিয়ে নির্বাচন করলে সমস্যা হবে না। চসিক নির্বাচনে প্রতিটি বুথে পোশাকধারী সেনাসদস্য নিয়োগ দিতে হবে। তবেই হয়তো ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। তিনি বলেন, ইভিএমের দুটি প্যানেল। একটি অপারেটিং প্যানেল, অন্যটি ব্যালট প্যানেল। ব্যালট প্যানেলে সেনা অফিসার মোতায়েন করতে হবে যাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বসে ভোট জালিয়াতি করতে না পারে। ব্যালট প্যানেলের সুরক্ষা দিতে হবে।

শাহাদাত ৪৮, রেজাউল শূন্য

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ৪৮ মামলা। তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অনেকটা ক্লিন ইমেজের আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী; যার বিরুদ্ধে কোনো মামলাই নেই। অবশ্য ডা. শাহাদাতের মামলাগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়েছে। 

দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। 

হলফনামায় বলা হয়েছে, রেজাউল করিমের নির্বাচনী খরচ জোগাবেন স্ত্রী ও ভাইয়েরা। আর ডা. শাহাদাতের ভোটের খরচ দেবেন তার বোনেরা। 

নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করবেন শাহাদাত। আর দুই বোনের কাছ থেকে ঋণ করবেন পাঁচ লাখ করে মোট ১০ লাখ টাকা।

নিজের ব্যবসা থেকে এক লাখ টাকা খরচ করবেন রেজাউল। পাশাপাশি স্ত্রী পাঁচ লাখ ও এক ভাই সাড়ে তিন লাখ টাকা দেবেন। এর বাইরে দুই ভাইয়ের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা ভোটের জন্য ধার করবেন রেজাউল।

হলফনামা দুই প্রার্থীর দেয়া তথ্যমতে, শাহাদাত হোসেন ঋণখেলাপি, আর রেজাউল করিম ঋণমুক্ত। 

ডা. শাহাদাতের উত্তরা ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছে তিন কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ আছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কাছে ঋণ ২৯ লাখ ৮১ হাজার ১৩২ টাকা এবং অন্যান্য ঋণ দুই লাখ ৪৬ হাজার ৩১৩ টাকা।

শাহাদাত নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার দ্য ট্রিটমেন্ট সেন্টার নামের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মূলধন ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৬০০ টাকা।

তার টয়োটা গাড়ির মূল্য ১১ লাখ ৮০ হাজার আর পুরনো একটি জিপের মূল্য ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

ডা. শাহাদাতের মোট বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া বাবদ আসে তিন লাখ ৫৩ হাজার ২৫ টাকা। চিকিৎসা, শিক্ষকতা ও পরামর্শক হিসেবে পান ১৭ লাখ ২১ হাজার টাকা।

শাহাদাতের  ১৫ লাখ টাকার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৭ টাকা। বন্ড ও স্টক এক্সচেঞ্জে আছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা।

শাহাদাতের মালিকানাধীন দুটি অকৃষি জমির মূল্য ২৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। একটি আটতলা আবাসিক ভবনের আট ভাগের একাংশের তিনি মালিক, যার মূল্য ৬৭ লখ ৮৬ হাজার টাকা। আর নিজের মালিকানাধীন একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ৩৫ লাখ টাকা।

এদিকে নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী ১৯৬৬ সাল থেকে রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। অতীতেও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। 

নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাতের হলফনামায় তার বিরুদ্ধে মোট মামলা ৪৮টি থাকার উল্লেখ রয়েছে। শাহাদাতের বিরুদ্ধে মামলার অধিকাংশই বিচারাধীন। বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, দ্রুত বিচার আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা করা হয়। সবচেয়ে বেশি ১৬টি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনের।

এসব মামলার মধ্যে ৪৩টি বিচারাধীন। দুটি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত এবং তিনটি তদন্তাধীন আছে। দ্রুত বিচার আইনে করা একটি মামলায় শাহাদাত খালাস পেয়েছেন।

পেশায় ব্যবসায়ী ৬৭ বছর বয়সী রেজাউল নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দার বাড়ির সন্তান; এখনও পৈতৃক বাড়িতেই থাকেন তিনি।

অন্যদিকে বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা শাহাদাত এখন থাকেন নগরীর বাদশা মিয়া সড়কের একটি ফ্ল্যাটে। তার বয়স ৫৪ বছর।

রেজাউল করিমের কোনো ঋণ। তার স্ত্রীর নামে অকৃষি জমি আছে দুই গণ্ডা দুই কড়া। উত্তরাধিকারসূত্রে এক লাখ টাকা মূল্যমানের নির্মিত ঘর পেয়েছেন রেজাউল।  

নিজের নামে স্থাবর সম্পদে রেজাউলের চারটি অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান মূল্যমান এক কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭টাকা।

তার কাছে নগদ আছে এক লাখ টাকা, স্ত্রীর কাছে তিন লাখ ৫১ হাজার ৪০৯ টাকা।

পাশাপাশি রেজাউলের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা সাত লাখ আট হাজার ৫৩৯ টাকা, স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ ২৭ হাজার ৯০ টাকা। স্ত্রীর নামে প্রাইজবন্ড আছে ২০ হাজার টাকার।

চার লাখ টাকা দামের একটি প্রাইভেটকারের মালিক রেজাউল।

তার ব্যবসায়িক মূলধন নিজ নামে দুই লাখ টাকার। আর মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামের সরবরাহকারী ফার্মের মূলধন ১০ লাখ ছয় হাজার টাকা।

স্ত্রীর নামে ব্যবসায়িক মূলধন দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্ত্রীর মেসার্স চৌধুরী ইলেকট্রনিক্স নামের একটি ফার্মের মূলধন দুই লাখ ৫১ হাজার টাকা।

বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে রেজাউলের বার্ষিক আয় চার লাখ ১৪ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা আর ফার্মের শেয়ার থেকে আয় দুই লাখ এক হাজার টাকা।

প্রসঙ্গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথম চট্টগ্রামের সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ফরম জমা দেয়ার পর নৌকার প্রার্থী ও নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিকল্পিত নগরী উপহার দেব। প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমান মেয়র নাছিরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করব।

ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর বলেন, নির্বাচনের আগে ৩ দিনের সরকারি ছুটি। ফলে অধিকাংশ নগরবাসী ও ভোটাররা নগরীর বাইরে থাকবেন। তাই নির্বাচনের তারিখ ২৯ মার্চের পরিবর্তে ৩১ মার্চ করার দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি বুথে একজন করে পোশাকধারী সেনা অফিসার মোতায়েন করতে হবে। না হয় ভোট সুষ্ঠু হবে না।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় রেজাউল করিমের সঙ্গে বর্তমান মেয়র নাছির উদ্দীন ছাড়াও ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, উত্তর জেলার সভাপতি এমএ সালাম, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, নোমান আল মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল প্রমুখ।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটনসহ বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ডা. শাহাদাত বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। এর আগে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি, ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই নগরবাসীর বেশিরভাগই শহরের বাইরে চলে যাবেন। ঢাকা সিটি নির্বাচন ও চট্টগ্রাম উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তাই এ ছুটির ফাঁদ থেকে ভোট বাঁচাতে হলে ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে।

ঢাকায় যেভাবে ৩০ জানুয়ারির পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, তেমনি চট্টগ্রামেও দু’দিন পিছিয়ে নির্বাচন করলে সমস্যা হবে না। চসিক নির্বাচনে প্রতিটি বুথে পোশাকধারী সেনাসদস্য নিয়োগ দিতে হবে। তবেই হয়তো ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। তিনি বলেন, ইভিএমের দুটি প্যানেল। একটি অপারেটিং প্যানেল, অন্যটি ব্যালট প্যানেল। ব্যালট প্যানেলে সেনা অফিসার মোতায়েন করতে হবে যাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বসে ভোট জালিয়াতি করতে না পারে। ব্যালট প্যানেলের সুরক্ষা দিতে হবে।

 

ঘটনাপ্রবাহ : চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন ২০২০