মন্ত্রীরা ঘরে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছে: রিজভী
jugantor
মন্ত্রীরা ঘরে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছে: রিজভী

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৫ জুলাই ২০২০, ১৪:৫২:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের মন্ত্রীরা ঘরে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছেন। আর বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনা পরীক্ষায় সরকারি ফি ধার্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, করোনায় সয়লাব জনগণ কী মরণদশায় ভুগছে এগুলো উপলব্ধি করার ক্ষমতা তাদের নেই। যদিও থাকত তা হলে করোনা পরীক্ষার ওপর ২০০ টাকা ফি ধার্য করত না, এই মহামারীর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়াত না। বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের দাপটে সাধারণ মানুষের দম বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করত না, পাটকল বন্ধ ও পাটশ্রমিকদের ছাঁটাই করত না।

বিএনপির নেতারা জনগণের পাশে না থেকে ঘরে বসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করছেন¬– তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী। বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রীর মতো উদ্ভট ও ডাহা মিথ্যা কথা বলার মতো লোক বাংলাদেশে আর কতজন আছেন তা আমার জানা নেই। তার চোখে মুখে মিথ্যার ঝলক বেরিয়ে আসে। তথ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই– আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা কে মাঠে আছে, কে জনগণের পাশে আছে? আমরা তো দেখছি– আপনাদের এমপি মানবপাচারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। অবশ্য জনগণ দেখছে– আপনাদের জনপ্রতিনিধিদের খাটের তল থেকে, মাটির তল থেকে, গ্যারেজের ভেতর থেকে শুধু চালের বস্তা, তেলে বস্তা বের হচ্ছে। এগুলো জনগণের টাকায় সরকারি ত্রাণ। আর আপনাদের দেখছি– সেলফ লকডাউনে থেকে বিরোধী দল ও মতের মানুষদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে। আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীরা এই দুঃসময়ে বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে কোটি কোটি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

সীমান্ত হত্যার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিদের হত্যা করছে বিএসএফ। বাংলাদেশের ভেতর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনও চালায় বিএসএফ। গত তিন মাসে তারা ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে। গত ২ জুলাইতেও তারা একজনকে হত্যা করছে। শনিবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন জাহাঙ্গীর আলমকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ভয়ঙ্কর অমানবিক মনুষ্যত্বহীন ঘটনা দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার টু শব্দটি পর্যন্ত করে না। এই বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী চুপ কেন?

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। নতজানু সরকার কোনো প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এই একপেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশীরা। বর্তমান সরকার কতটুকু নতজানু যে, এর আগে আমরা দেখেছি– বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিবাদ না করে বরং তাদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশীদেরই অভিযুক্ত করেছে।
গত তিন মাসে বিএসএফের সব হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাচ্ছে না। সবাই ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছেন। স্বল্পআয়ের মানুষরা করোনার আঘাতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে, এর ওপর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের জীবন ওষ্ঠাগত। শ্রমিক ছাঁটাই আর চাকুরিচ্যুতির হিড়িক পড়ে গেছে দেশব্যাপী। চাকুরি হারিয়ে আত্মহত্যা করছে মানুষ। এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে মধ্য ও স্বল্প আয়ের মানুষ। সরকারের লোকেরা এই সংকটগুলোর নজর না দিয়ে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিরোধী দলের ওপর ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ শুরু করেছে। সেখানে শুধু মিথ্যা কথার ফুলঝুরি নয়, চলছে গুম, মিথ্যা মামলা, হামলা ও গ্রেফতারের হিড়িক।


মন্ত্রীরা ঘরে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছে: রিজভী

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৫ জুলাই ২০২০, ০২:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের মন্ত্রীরা ঘরে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছেন। আর বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন।
 
রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
 
করোনা পরীক্ষায় সরকারি ফি ধার্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, করোনায় সয়লাব জনগণ কী মরণদশায় ভুগছে এগুলো উপলব্ধি করার ক্ষমতা তাদের নেই। যদিও থাকত তা হলে করোনা পরীক্ষার ওপর ২০০ টাকা ফি ধার্য করত না, এই মহামারীর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়াত না। বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের দাপটে সাধারণ মানুষের দম বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করত না, পাটকল বন্ধ ও পাটশ্রমিকদের ছাঁটাই করত না।

বিএনপির নেতারা জনগণের পাশে না থেকে ঘরে বসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করছেন¬– তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী। বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রীর মতো উদ্ভট ও ডাহা মিথ্যা কথা বলার মতো লোক বাংলাদেশে আর কতজন আছেন তা আমার জানা নেই। তার চোখে মুখে মিথ্যার ঝলক বেরিয়ে আসে। তথ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই– আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা কে মাঠে আছে, কে জনগণের পাশে আছে? আমরা তো দেখছি– আপনাদের এমপি মানবপাচারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। অবশ্য জনগণ দেখছে– আপনাদের জনপ্রতিনিধিদের খাটের তল থেকে, মাটির তল থেকে, গ্যারেজের ভেতর থেকে শুধু চালের বস্তা, তেলে বস্তা বের হচ্ছে। এগুলো জনগণের টাকায় সরকারি ত্রাণ। আর আপনাদের দেখছি– সেলফ লকডাউনে থেকে বিরোধী দল ও মতের মানুষদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে। আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীরা এই দুঃসময়ে বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে কোটি কোটি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

সীমান্ত হত্যার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিদের হত্যা করছে বিএসএফ। বাংলাদেশের ভেতর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনও চালায় বিএসএফ। গত তিন মাসে তারা ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে। গত ২ জুলাইতেও তারা একজনকে হত্যা করছে। শনিবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন জাহাঙ্গীর আলমকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ভয়ঙ্কর অমানবিক মনুষ্যত্বহীন ঘটনা দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার টু শব্দটি পর্যন্ত করে না। এই বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী চুপ কেন? 

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। নতজানু সরকার কোনো প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এই একপেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশীরা। বর্তমান সরকার কতটুকু নতজানু যে, এর আগে আমরা দেখেছি– বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রতিবাদ না করে বরং তাদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশীদেরই অভিযুক্ত করেছে।
গত তিন মাসে বিএসএফের সব হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাচ্ছে না। সবাই ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছেন। স্বল্পআয়ের মানুষরা করোনার আঘাতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে, এর ওপর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি তেলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের জীবন ওষ্ঠাগত। শ্রমিক ছাঁটাই আর চাকুরিচ্যুতির হিড়িক পড়ে গেছে দেশব্যাপী। চাকুরি হারিয়ে আত্মহত্যা করছে মানুষ। এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে মধ্য ও স্বল্প আয়ের মানুষ। সরকারের লোকেরা এই সংকটগুলোর নজর না দিয়ে জনদৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিরোধী দলের ওপর ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ শুরু করেছে। সেখানে শুধু মিথ্যা কথার ফুলঝুরি নয়, চলছে গুম, মিথ্যা মামলা, হামলা ও গ্রেফতারের হিড়িক।