ভ্রাতুষ্পুত্র আসিবকে ঘরে তুলে নিলেন জিএম কাদের
jugantor
ভ্রাতুষ্পুত্র আসিবকে ঘরে তুলে নিলেন জিএম কাদের

  রংপুর ব্যুরো  

১৯ জুলাই ২০২০, ২৩:৫৮:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

এরশাদ পরিবারের সন্তান ভ্রাতুষ্পুত্র সাবেক সংসদ সদস্য হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে ঘরে তুলে নিলেন পার্টির চেয়ারম্যান বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। এই খবরে রংপুরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস ভরে উঠেছে।

রংপুর থেকে এরশাদ পরিবারের কেউ দলের নেতৃত্বে আসার যে আকাঙ্ক্ষা নেতাকর্মীরা এতদিন মনের ভেতর পুষে রেখেছিল এ যে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে।

দলের ভেতর নানা টানাপোড়ন ও রাজনীতির সমীকরণের কারণে পার্টি থেকে বহিষ্কারের আড়াই বছর পর এরশাদ পরিবারের উত্তরসূরি সাবেক সংসদ সদস্য হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। দলের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাকে খুব স্নেহ করতেন।

এরশাদের অনুজ সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন লালুর সন্তান আসিব। পার্টির দলীয় টানাপোড়ন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নানা কারণে ২০১৭ সালের রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময় তিনি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রংপুর সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। সে কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

শনিবার দলের চেয়ারম্যানের জারিকৃত এক আদেশে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। ওই আদেশে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। এই আদেশ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

এ দিকে দীর্ঘ ২ বছর ৭ মাস ১০ দিন পর এরশাদ পরিবারের উত্তরসূরি ভ্রাতুষ্পুত্র আসিফ শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে জারিকৃত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আসিফের ভক্ত ও সমর্থকরা। বিভিন্ন স্থানে তারা মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

আসিফের এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে জাতীয় পার্টির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাসহ তার সমর্থক ও ভক্তদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তারা নতুন করে জাতীয় পার্টিকে সাজাতে পরিকল্পনাও করছেন। যাতে করে ফিরে আসে জাতীয় পার্টির হারানো গৌরব।

এ বিষয়ে কথা হয় রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করনী ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির তৃণমূলের কর্মী বদিউজ্জামান রঞ্জুর সঙ্গে। তিনি বলেন, আসিফ শাহরিয়ার হচ্ছে এরশাদ পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি। এরশাদ সাহেব বেঁচে থাকতে তাকে ভাতিজা নয় নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতেন। আসিফ তৃণমূলের নেতা। তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি আবার সুসংগঠিত হবে।

জাতীয় পার্টির তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জাতীয় পার্টির তৃণমূল পর্যায়ে এরশাদ পরিবারের সন্তান হিসেবে আসিফ শাহরিয়ারের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কারণ তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুখে পাশে থেকেছেন। পার্টিকে শক্তিশালী করতে ছুটে বেড়িয়েছেন। তার এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে তৃণমূল নেতাকর্মীরা খুশি।

এ দিকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এমপি হুসাইন মকবুল আসিফ শাহরিয়ার বলেন, আমার বড় আব্বা মরহুম হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ছিলেন ৬৮ হাজার গ্রামবাংলার নয়নমনি। তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তার সরকারের আমলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু রয়ে গেছে তার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাব।

আসিফ আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে সংগঠন মজবুত করতে হবে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে তৃণমূলে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করতে হবে।

উল্লেখ্য, দলের নির্দেশ অমান্য করে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে বহিষ্কার করেছিলেন পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই সময় আসিফকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ ও পদবি কেরে নেয়া হয়।

এরপর থেকে এরশাদের অভিমানী ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির মাঠে তাকে আর দেখা যায়নি। তার বড় আব্বা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই মারা গেলে রংপুর-৩ (সদর ও সিটি) আসনটি শূন্য হয়। এই আসনে উপ-নির্বাচনে ভাই সাদ এরশাদের বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র পদেও ভোট যুদ্ধে হেরে যান আসিফ।

তবে এর আগে তিনি ২০০৮ সালে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ছাড়াও রংপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও বিলুপ্ত রংপুর পৌরসভা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ভ্রাতুষ্পুত্র আসিবকে ঘরে তুলে নিলেন জিএম কাদের

 রংপুর ব্যুরো 
১৯ জুলাই ২০২০, ১১:৫৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এরশাদ পরিবারের সন্তান ভ্রাতুষ্পুত্র সাবেক সংসদ সদস্য হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে ঘরে তুলে নিলেন পার্টির চেয়ারম্যান বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। এই খবরে রংপুরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস ভরে উঠেছে।

রংপুর থেকে এরশাদ পরিবারের কেউ দলের নেতৃত্বে আসার যে আকাঙ্ক্ষা নেতাকর্মীরা এতদিন মনের ভেতর পুষে রেখেছিল এ যে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে।

দলের ভেতর নানা টানাপোড়ন ও রাজনীতির সমীকরণের কারণে পার্টি থেকে বহিষ্কারের আড়াই বছর পর এরশাদ পরিবারের উত্তরসূরি সাবেক সংসদ সদস্য হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। দলের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাকে খুব স্নেহ করতেন।

এরশাদের অনুজ সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন লালুর সন্তান আসিব। পার্টির দলীয় টানাপোড়ন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নানা কারণে ২০১৭ সালের রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময় তিনি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রংপুর সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। সে কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

শনিবার দলের চেয়ারম্যানের জারিকৃত এক আদেশে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। ওই আদেশে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। এই আদেশ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

এ দিকে দীর্ঘ ২ বছর ৭ মাস ১০ দিন পর এরশাদ পরিবারের উত্তরসূরি ভ্রাতুষ্পুত্র আসিফ শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে জারিকৃত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন আসিফের ভক্ত ও সমর্থকরা। বিভিন্ন স্থানে তারা মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

আসিফের এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে জাতীয় পার্টির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাসহ তার সমর্থক ও ভক্তদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তারা নতুন করে জাতীয় পার্টিকে সাজাতে পরিকল্পনাও করছেন। যাতে করে ফিরে আসে জাতীয় পার্টির হারানো গৌরব।

এ বিষয়ে কথা হয় রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করনী ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির তৃণমূলের কর্মী বদিউজ্জামান রঞ্জুর সঙ্গে। তিনি বলেন, আসিফ শাহরিয়ার হচ্ছে এরশাদ পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি। এরশাদ সাহেব বেঁচে থাকতে তাকে ভাতিজা নয় নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতেন। আসিফ তৃণমূলের নেতা। তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি আবার সুসংগঠিত হবে।

জাতীয় পার্টির তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জাতীয় পার্টির তৃণমূল পর্যায়ে এরশাদ পরিবারের সন্তান হিসেবে আসিফ শাহরিয়ারের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কারণ তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুখে পাশে থেকেছেন। পার্টিকে শক্তিশালী করতে ছুটে বেড়িয়েছেন। তার এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে তৃণমূল নেতাকর্মীরা খুশি।

এ দিকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এমপি হুসাইন মকবুল আসিফ শাহরিয়ার বলেন, আমার বড় আব্বা মরহুম হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ছিলেন ৬৮ হাজার গ্রামবাংলার নয়নমনি। তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। তার সরকারের আমলে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি আজ  আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু রয়ে গেছে তার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাব।

আসিফ আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে সংগঠন মজবুত করতে হবে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে তৃণমূলে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কমিটি গঠন করতে হবে।

উল্লেখ্য, দলের নির্দেশ অমান্য করে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে বহিষ্কার করেছিলেন পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই সময় আসিফকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ ও পদবি কেরে নেয়া হয়।

এরপর থেকে এরশাদের অভিমানী ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির মাঠে তাকে আর দেখা যায়নি। তার বড় আব্বা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই মারা গেলে রংপুর-৩ (সদর ও সিটি) আসনটি শূন্য হয়। এই আসনে উপ-নির্বাচনে ভাই সাদ এরশাদের বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র পদেও ভোট যুদ্ধে হেরে যান আসিফ।

তবে এর আগে তিনি ২০০৮ সালে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ছাড়াও রংপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও বিলুপ্ত রংপুর পৌরসভা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর