‘ক্ষমতাসীনরা মিথ্যাচার করে জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টা করছে’
jugantor
‘ক্ষমতাসীনরা মিথ্যাচার করে জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টা করছে’

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৬ আগস্ট ২০২০, ১৮:২২:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

ক্ষমতাসীনরা মিথ্যাচার করে জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এই দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। যিনি যুদ্ধ করলেন, একই সঙ্গে যিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। অথচ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখবেন, তার সম্পর্কে মিথ্যা সব কথা বলে তাকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে আওয়ামী লীগের যে কেমেস্ট্রি তা হচ্ছে দলীয়করণের কেমেস্ট্রি। সেখানে নিরপেক্ষতা অথবা দলের বাইরে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা-এটা তাদের মধ্যে নেই।

রোববার দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে এই আলোচনা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে গোটা রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। এটা তাদের আদর্শগত, নীতিগত বলব। কারণ ১৯৭৫ সালে তারা একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। আমরা তো সেগুলো ভুলে যাইনি। যদিও আজকে সব কিছু ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতো সহজে সত্যকে তো ঢেকে দেয়া যায় না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই সময়ে খেলাধুলা বলুন, গান-বাজনা বলুন আর রাজনীতি বলুন কোনটাই দলীয়করণের বাইরে নয়। আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনাটি ছিলো গণতান্ত্রিক চেতনা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করার চেতনা, গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করবার চেতনা। সেই চেতনাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি বলেন, যারা আজকে জোর করে শাসন করছেন তারা সেই চেতনাকে বিনষ্ট করে দিয়ে একদলীয় ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে খেলাধুলা আলাদা ব্যাপার নয়, ক্রীড়াঙ্গ আলাদা ব্যাপার নয়। পুরো রাষ্ট্রটাই এখন একটা দলের মধ্যে, চিন্তার মধ্যে চলে গেল।

মির্জা ফখরুল বলেন, কিছুদিন আগে আমেরিকান অ্যাম্বেসীতে এক অনুষ্ঠানে আমাদের এক প্রতিথযশা শিল্পী যিনি লালনগীতিকে সবচেয়ে বেশি জনগণের কাছে, বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীনের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তার স্বামী যিনি সবচেয়ে ভালো বাঁশি বাজান হাকিম সাহেবের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। উনারা খুব দুঃখ করে বললেন এখন আর তাদেরকে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে অথবা সরকারের স্পন্সরে যেসব টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আছে তারা তাদেরকে আর ডাকেন না। কী নিদারুন অবস্থা চিন্তা করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী ফরিদা পারভীন লালনসঙ্গীত-লোক সঙ্গীতে যিনি আন্তর্জাতিক বহু পুরস্কার পেয়েছেন, আর হাকিম সাহেব ওই ধরনের বংশীবাদক, তাদেরকে ডাকা হয় না। ঠিক একইভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কিন্তু তাদের (আওয়ামী লীগ) সমর্থক ছিলেন না। তারা মারা যাওয়ার পরে তাদের মরদেহ শহীদ মিনারে পর্যন্ত নিতে দেয়া হয়নি।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মানুষ হিসেবে বলতে পারি, কর্মী হিসেবে বলতে পারি যে, আমাদের বারবার করে মনে করতে হবে আমাদের এই রাষ্ট্রের ভিত্তি যিনি তৈরি করেছেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। গণতন্ত্রের জন্য যিনি সংগ্রাম করেছেন, এখনও করছেন, এখনো বন্দি অবস্থায় আছেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে। আমাদের স্মরণ করতে হবে আরেক লড়াকু সৈনিক যিনি নির্বাসিত থেকেও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। তাদেরকে সামনে নিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করতে হবে। এটা খুবই জরুরি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলমত নির্বিশেষে আমাদের যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রকে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এখানে কে বিএনপি করে, কে আওয়ামী লীগ করে, কে সিপিবি করে, কে অন্যান্য দল করে ওটা বেশি ব্যাপার নয়। ব্যাপারটা হচ্ছে এই রাষ্ট্রকে সকলের কথায়, সকলের মতের চিন্তার স্বাধীনতা এবং জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। তাহলেই ক্রিকেট, ক্রীড়াঙ্গন সবকিছুরই উন্নয়ন হবে।

ক্রিকেটসহ বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নে আরাফাত রহমান কোকোর অবদানের কথা স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, কোকো রাজনীতির বাইরে থেকে পুরোপুরিভাবে খেলাকে খেলা হিসেবে দেখে তার সংগঠনের কাজে ব্যয় করেছেন ও অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে করেছেন। আজকে ক্রিকেটে যে ভিত্তি আমরা দেখতে পাই-এটা তৈরি করেছিলেন আরাফাত রহমান কোকো।

এ সময় তিনি ‘আরাফাত রহমান কোকো ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন ।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হকের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিকনায়ক শফিকুল হক হীরা, ক্রিকের্ট বোর্ডের সাবেক সহসভাপতি শাহ নুরুল কবির শাহিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের মহাসচিব কাজী মহিউদ্দিন বুলবুল, ক্রীড়া সংগঠক তাবিথ আউয়াল ও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।

‘ক্ষমতাসীনরা মিথ্যাচার করে জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টা করছে’

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৬ আগস্ট ২০২০, ০৬:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

ক্ষমতাসীনরা মিথ্যাচার করে জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এই দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। যিনি যুদ্ধ করলেন, একই সঙ্গে যিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। অথচ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখবেন, তার সম্পর্কে মিথ্যা সব কথা বলে তাকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে আওয়ামী লীগের যে কেমেস্ট্রি তা হচ্ছে দলীয়করণের কেমেস্ট্রি। সেখানে নিরপেক্ষতা অথবা দলের বাইরে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা-এটা তাদের মধ্যে নেই।

রোববার দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে এই আলোচনা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে গোটা রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। এটা তাদের আদর্শগত, নীতিগত বলব। কারণ ১৯৭৫ সালে তারা একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। আমরা তো সেগুলো ভুলে যাইনি। যদিও আজকে সব কিছু ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতো সহজে সত্যকে তো ঢেকে দেয়া যায় না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই সময়ে খেলাধুলা বলুন, গান-বাজনা বলুন আর রাজনীতি বলুন কোনটাই দলীয়করণের বাইরে নয়। আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনাটি ছিলো গণতান্ত্রিক চেতনা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করার চেতনা, গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করবার চেতনা। সেই চেতনাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি বলেন, যারা আজকে জোর করে শাসন করছেন তারা সেই চেতনাকে বিনষ্ট করে দিয়ে একদলীয় ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে খেলাধুলা আলাদা ব্যাপার নয়, ক্রীড়াঙ্গ আলাদা ব্যাপার নয়। পুরো রাষ্ট্রটাই এখন একটা দলের মধ্যে, চিন্তার মধ্যে চলে গেল।

মির্জা ফখরুল বলেন, কিছুদিন আগে আমেরিকান অ্যাম্বেসীতে এক অনুষ্ঠানে আমাদের এক প্রতিথযশা শিল্পী যিনি লালনগীতিকে সবচেয়ে বেশি জনগণের কাছে, বিশ্বের কাছে পরিচিত করেছেন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীনের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তার স্বামী যিনি সবচেয়ে ভালো বাঁশি বাজান হাকিম সাহেবের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। উনারা খুব দুঃখ করে বললেন এখন আর তাদেরকে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে অথবা সরকারের স্পন্সরে যেসব টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আছে তারা তাদেরকে আর ডাকেন না। কী নিদারুন অবস্থা চিন্তা করেন। সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী ফরিদা পারভীন লালনসঙ্গীত-লোক সঙ্গীতে যিনি আন্তর্জাতিক বহু পুরস্কার পেয়েছেন, আর হাকিম সাহেব ওই ধরনের বংশীবাদক, তাদেরকে ডাকা হয় না। ঠিক একইভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কিন্তু তাদের (আওয়ামী লীগ) সমর্থক ছিলেন না। তারা মারা যাওয়ার পরে তাদের মরদেহ শহীদ মিনারে পর্যন্ত নিতে দেয়া হয়নি।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মানুষ হিসেবে বলতে পারি, কর্মী হিসেবে বলতে পারি যে, আমাদের বারবার করে মনে করতে হবে আমাদের এই রাষ্ট্রের ভিত্তি যিনি তৈরি করেছেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। গণতন্ত্রের জন্য যিনি সংগ্রাম করেছেন, এখনও করছেন, এখনো বন্দি অবস্থায় আছেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে। আমাদের স্মরণ করতে হবে আরেক লড়াকু সৈনিক যিনি নির্বাসিত থেকেও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। তাদেরকে সামনে নিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করতে হবে। এটা খুবই জরুরি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলমত নির্বিশেষে আমাদের যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রকে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এখানে কে বিএনপি করে, কে আওয়ামী লীগ করে, কে সিপিবি করে, কে অন্যান্য দল করে ওটা বেশি ব্যাপার নয়। ব্যাপারটা হচ্ছে এই রাষ্ট্রকে সকলের কথায়, সকলের মতের চিন্তার স্বাধীনতা এবং জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। তাহলেই ক্রিকেট, ক্রীড়াঙ্গন সবকিছুরই উন্নয়ন হবে।

ক্রিকেটসহ বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নে আরাফাত রহমান কোকোর অবদানের কথা স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, কোকো রাজনীতির বাইরে থেকে পুরোপুরিভাবে খেলাকে খেলা হিসেবে দেখে তার সংগঠনের কাজে ব্যয় করেছেন ও অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে করেছেন। আজকে ক্রিকেটে যে ভিত্তি আমরা দেখতে পাই-এটা তৈরি করেছিলেন আরাফাত রহমান কোকো।

এ সময় তিনি ‘আরাফাত রহমান কোকো ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন ।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হকের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিকনায়ক শফিকুল হক হীরা, ক্রিকের্ট বোর্ডের সাবেক সহসভাপতি শাহ নুরুল কবির শাহিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের মহাসচিব কাজী মহিউদ্দিন বুলবুল, ক্রীড়া সংগঠক তাবিথ আউয়াল ও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।