আন্দোলন ছাড়া বিএনপির অন্য কোনো চিন্তা নেই: ফখরুল

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৮, ২০:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা হবে। তার আগে অন্য কোনো চিন্তা নেই বিএনপির।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন শুধু অপেক্ষা করে আছে। যখন সুযোগ পাবে সরকারকে একেবারে চিরতরে উৎখাত করবে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদে সবাই উঠে দাঁড়ান। রাজপথে বেরিয়ে আসুন। এর কোনো বিকল্প নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি একবারেই শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছে। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে। খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তি দেয়ার জন্য বাধ্য করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরে ঘরে যেতে হবে। এই বাণী পৌঁছে দিতে হবে যে এখন ঘরে বসে থাকার সময় নেই। নিজের অধিকার আদায়ের জন্য বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই। আর সে জন্য বুকের ওপর চেপে বসা ভয়াবহ দানবকে (সরকার) সরানোর জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’ 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য, স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করার জন্য আজকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা দরকার। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নির্বিশেষে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ এক হয়ে বিশ্ব স্বীকৃত স্বৈরাচার সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো লুট করা হয়েছে। সম্প্রতি এফবিআই বলেছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে।’ 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে প্রত্যেকটি প্রজেক্টকে তারা মেগা প্রজেক্ট তৈরি করছে। উদ্দেশ্য মেগা চুরি মেগা লুট। ১০ টাকায় চাল খাওয়ানোর ওয়াদা করেছিল। এখন ৭০ টাকায়ও চাল পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস, তেল, জ্বালানি তেল প্রত্যেকটি জিনিসের দাম তিন থেকে চার গুণ বেড়ে গেছে।’ 
 
তিনি বলেন, ‘অবৈধ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী নিজে যেটা করেন সেটাই অন্যের বেলায়ও মনে করেন। অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার সমালোচনা করায় তার উত্তর দেননি কেন? আমি বলেছি, আমাদের রুচিতে বাধে। আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচারে বাধে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। পার্লামেন্ট একটা তৈরি করা হয়েছে সেখানে ১৫৪ জন আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। সরকার তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সরকার। সংবিধান অনুযায়ী কোনো বৈধ সরকার নয়। সে জন্যই আমরা বলি অবৈধ সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী।’ 

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যেখানে আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতারা ব্যর্থ হয়েছে সেখানেই বিএনপি ও জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন। আর সে জন্য জিয়াউর রহমানকে ভয় পায় আওয়ামী লীগ। শুধু জিয়াউর রহমান নয়; খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির নেতাকর্মীকেও তারা ভয় পায়। আর সে জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা আবারও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাদ দিয়ে ৫ জানুয়ারি মার্কা কোনো নির্বাচন দেশে হতে দেয়া হবে না।’

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। সভা পরিচালনা করেন দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম।

বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ফজলুর রহমান প্রমুখ।