‘একদিন সব বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে’
jugantor
‘একদিন সব বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে’

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৮ আগস্ট ২০২০, ২০:২৯:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  ছবি: সংগৃহীত

এদেশে একদিন সব বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজো ১৯৭২-৭৫ সালের সরকারের বিচারবরিহর্ভূত হত্যার সংস্কৃতি চলছে। গত ১১ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবর্হির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে প্রায় তিন হাজার জন। এসব হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ যা বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। একদিন সব বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ঠিকই হবে এদেশে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭২-৭৫ সালে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ রুদ্ধই শুধু করা হয়নি। হত্যা করা হয়েছে সিরাজ শিকদারসহ হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে, যার মাধ্যমে এদেশে শুরু হয়েছিলো বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের ধারা। জাসদ গণবাহিনীর হাজার হাজার নেতা-কর্মী সেসময়ে শিকার হয়েছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের নিষ্ঠুর রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের। জন্ম হয়েছিল বিরোধী মতকে দমন করার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারবর্হিভুত হত্যার সংস্কৃতি।


ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার ‘ইতিহাস বিকৃত’ করে অপরাজনীতিতে নেমেছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুণঃপ্রতিষ্ঠাকারী ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। তাকে বিতর্কিত করার হীন উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপপ্রচারের একটি সংগঠিত ঘৃণ্য অপততপরতা জাতি গভীর ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছে। ১৫ আগস্ট সরকার প্রধান কর্তৃক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে বিকৃত করার মাধ্যমে সে অপচেষ্টা নতুনভাবে শুরু করা হলো। এখন আর বর্তমান সরকারের কোনো রাজনীতি নেই। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অপরাজনীতিতে নেমেছে।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে গণতান্ত্রিক চেতনা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, গত এক দশকের অধিককাল ধরে বর্তমান সরকার সেই চেতনাকে হিমাগারে পাঠিয়েছে। সেই চেতনাকে বিনষ্ট করে দিয়ে তারা একটি ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্ষমতাসীনরা এই মিথ্যাচার করে ইতিহাস বিকৃত করার প্রক্রিয়ায় জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টয় লিপ্ত হয়েছে।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচার ও তার চরিত্র হননের অপপ্রয়াসে আপামর জনগন দারুনভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কোটি কোটি ভক্ত ও অনুরক্তরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত এই ষড়যন্ত্রকে শুধু ঘৃণাভরে প্রত্যাখানই করছে না। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করে দেয়ার দৃপ্ত শপথ ঘোষণা করছে।

১৫ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়াউর রহমানকে ১৫ আগস্ট হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের কারা হত্যা করেছে সেটা শেখ হাসিনার দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আদালতে নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং এই হত্যার জন্য কোথাও জিয়াউর রহমানকে দোষারোপ করার মতো কিছুই পাওয়া যায়নি। ওই মামলায় জিয়াউর রহমান কিংবা তার ঘনিষ্ঠ কাউকে আসামিও করা হয়নি। কিন্তু তাতে আওয়ামী লীগের মন ভরছে না। এখন তারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ভিডিও প্রচার উদ্দেশ্যমূলক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে (মেজর (অব.) মাজেদ) দিয়ে বন্দি অবস্থায় দেশের আইন, আদালত, শাসনব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকাররের ‍মুসাবিদায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ধারণকৃত ভিডিও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারে বাধ্য করা এবং একই সাথে বেতনভুক্ত সাইবার ফোর্স নিয়োগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৫ আগস্ট হত্যার সকল আসামিদেরকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করা এবং রায় কার্যকর করার পর্ব প্রায় সম্পন্ন হতে চলেছে।
এমতাবস্থায় আইনিভাবে এই ধরনের বক্তব্যের কোনো সাক্ষ্যমূল্য নাই। এই পদক্ষেপ বরঞ্চ সংঘটিত বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে নতুনভাবে বিতর্কিত করে তুলতে পারে। আইন বিরোধী এই ধরনের পদক্ষেপ আসলে অপরাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, কথিত মাজেদের জবানবন্দিতে বয়ান করা হয়েছে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ১৯৭৫ সালের ঘটনার নায়কদের ইনডেমনিটি রেফারেন্স দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।

অথচ জাতি জানে, প্রকৃতপক্ষে সরকার প্রধান নিজেও জানেন, ওই সময়ের ঘটনার নায়কদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিলো ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক কর্তৃক, জিয়াউর রহমান নহে। এই অধ্যাদেশটি ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ ৫০ নামে অভিহিত। ‘দ্য বাংলাদেশ গেজেটে’ প্রকাশিত অধ্যাদেশটিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএইচ রহমানের স্বাক্ষরে। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, শহীদ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে এই অপপ্রচার সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার। মাজেদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে মিথ্যা করা যাবে না।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবু্র রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশের ওপর দিয়ে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা হয়েছিলো তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলে দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট এবং ৩ অক্টোবরে তৎকালীন আওয়ামী-বাকশাল নেতা খন্দকার মোশতাকের জাতির উদ্দেশে দেয়া দুটি ভাষণ এর সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ বহন করে। সে ভাষণে তিনি মুজিব হত্যাকাণ্ডকে 'এক ঐতিহাসিক প্রয়োজন' বলে উল্লেখ করেন।
হত্যাকারীদেরকে তিনি প্রশংসিত করেন 'অসম সাহসী সূর্য সন্তান' হিসেবে। ঐ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল মালেক উকিল লণ্ডনে বসে কী মন্তব্য করেছিলেন তা সকলেরই জানা আছে। এটি ঐতিহাসিকভাবে সুস্পষ্ট যে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সুবিধাভোগী (বেনিফিসিয়ারি) ছিল খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতারাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

‘একদিন সব বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে’

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৮ আগস্ট ২০২০, ০৮:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

এদেশে একদিন সব বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজো ১৯৭২-৭৫ সালের সরকারের বিচারবরিহর্ভূত হত্যার সংস্কৃতি চলছে। গত ১১ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবর্হির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে প্রায় তিন হাজার জন। এসব হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ যা বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। একদিন সব বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ঠিকই হবে এদেশে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭২-৭৫ সালে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ রুদ্ধই শুধু করা হয়নি। হত্যা করা হয়েছে সিরাজ শিকদারসহ হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে, যার মাধ্যমে এদেশে শুরু হয়েছিলো বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের ধারা। জাসদ গণবাহিনীর হাজার হাজার নেতা-কর্মী সেসময়ে শিকার হয়েছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের নিষ্ঠুর রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের। জন্ম হয়েছিল বিরোধী মতকে দমন করার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারবর্হিভুত হত্যার সংস্কৃতি।


ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার ‘ইতিহাস বিকৃত’ করে অপরাজনীতিতে নেমেছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুণঃপ্রতিষ্ঠাকারী ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম। তাকে বিতর্কিত করার হীন উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপপ্রচারের একটি সংগঠিত ঘৃণ্য অপততপরতা জাতি গভীর ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছে। ১৫ আগস্ট সরকার প্রধান কর্তৃক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে বিকৃত করার মাধ্যমে সে অপচেষ্টা নতুনভাবে শুরু করা হলো। এখন আর বর্তমান সরকারের কোনো রাজনীতি নেই। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অপরাজনীতিতে নেমেছে।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে গণতান্ত্রিক চেতনা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, গত এক দশকের অধিককাল ধরে বর্তমান সরকার সেই চেতনাকে হিমাগারে পাঠিয়েছে। সেই চেতনাকে বিনষ্ট করে দিয়ে তারা একটি ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্ষমতাসীনরা এই মিথ্যাচার করে ইতিহাস বিকৃত করার প্রক্রিয়ায় জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টয় লিপ্ত হয়েছে।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচার ও তার চরিত্র হননের অপপ্রয়াসে আপামর জনগন দারুনভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কোটি কোটি ভক্ত ও অনুরক্তরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত এই ষড়যন্ত্রকে শুধু ঘৃণাভরে প্রত্যাখানই করছে না। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করে দেয়ার দৃপ্ত শপথ ঘোষণা করছে।

১৫ আগস্টের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়াউর রহমানকে ১৫ আগস্ট হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের কারা হত্যা করেছে সেটা শেখ হাসিনার দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আদালতে নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং এই হত্যার জন্য কোথাও জিয়াউর রহমানকে দোষারোপ করার মতো কিছুই পাওয়া যায়নি। ওই মামলায় জিয়াউর রহমান কিংবা তার ঘনিষ্ঠ কাউকে আসামিও করা হয়নি। কিন্তু তাতে আওয়ামী লীগের মন ভরছে না। এখন তারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ভিডিও প্রচার উদ্দেশ্যমূলক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে (মেজর (অব.) মাজেদ) দিয়ে বন্দি অবস্থায় দেশের আইন, আদালত, শাসনব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকাররের ‍মুসাবিদায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ধারণকৃত ভিডিও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারে বাধ্য করা এবং একই সাথে বেতনভুক্ত সাইবার ফোর্স নিয়োগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৫ আগস্ট হত্যার সকল আসামিদেরকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করা এবং রায় কার্যকর করার পর্ব প্রায় সম্পন্ন হতে চলেছে।
এমতাবস্থায় আইনিভাবে এই ধরনের বক্তব্যের কোনো সাক্ষ্যমূল্য নাই। এই পদক্ষেপ বরঞ্চ সংঘটিত বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে নতুনভাবে বিতর্কিত করে তুলতে পারে। আইন বিরোধী এই ধরনের পদক্ষেপ আসলে অপরাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, কথিত মাজেদের জবানবন্দিতে বয়ান করা হয়েছে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ১৯৭৫ সালের ঘটনার নায়কদের ইনডেমনিটি রেফারেন্স দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।

অথচ জাতি জানে, প্রকৃতপক্ষে সরকার প্রধান নিজেও জানেন, ওই সময়ের ঘটনার নায়কদের ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছিলো ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক কর্তৃক, জিয়াউর রহমান নহে। এই অধ্যাদেশটি ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ ৫০ নামে অভিহিত। ‘দ্য বাংলাদেশ গেজেটে’ প্রকাশিত অধ্যাদেশটিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএইচ রহমানের স্বাক্ষরে। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, শহীদ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে এই অপপ্রচার সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার। মাজেদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে মিথ্যা করা যাবে না।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবু্র রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশের ওপর দিয়ে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা হয়েছিলো তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলে দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট এবং ৩ অক্টোবরে তৎকালীন আওয়ামী-বাকশাল নেতা খন্দকার মোশতাকের জাতির উদ্দেশে দেয়া দুটি ভাষণ এর সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ বহন করে। সে ভাষণে তিনি মুজিব হত্যাকাণ্ডকে 'এক ঐতিহাসিক প্রয়োজন' বলে উল্লেখ করেন।
হত্যাকারীদেরকে তিনি প্রশংসিত করেন 'অসম সাহসী সূর্য সন্তান' হিসেবে। ঐ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল মালেক উকিল লণ্ডনে বসে কী মন্তব্য করেছিলেন তা সকলেরই জানা আছে। এটি ঐতিহাসিকভাবে সুস্পষ্ট যে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সুবিধাভোগী (বেনিফিসিয়ারি) ছিল খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতারাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।