গণফোরামের একাংশের জাতীয় কাউন্সিল ২৬ ডিসেম্বর
jugantor
গণফোরামের একাংশের জাতীয় কাউন্সিল ২৬ ডিসেম্বর

  অনলাইন ডেস্ক  

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:৫৯:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নতুন করে আবার সংকটে পড়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়াসহ চারজনকে বহিষ্কার করে নতুন কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়েছেন গণফোরামের বাদ পড়া নেতারা। আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক বর্ধিত সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সভার সভাপতি আবু সাইয়িদ এই সিদ্ধান্তে জানান।

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘দলকে শক্তিশালী, গণমুখী এবং তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০ আমাদের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এই জাতীয় কাউন্সিল সফল করার লক্ষ্যে এই সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সাহেবকে আহ্বায়ক করে জেলা নেতৃবৃন্দসহ ২০১ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

পরে দলের সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক বর্ধিত সভার সাংগঠিক সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান।

‘সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র অমান্য করে দলের ঐক্য ও স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য’ সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদকে সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে গণফোরামের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল হয় গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে। তিন বছর পর পর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার বিধান থাকলেও একাংশে এক বছরে মাথায় আবার কাউন্সিল আহবান করলো।

জাতীয় প্রেস ক্লা্বের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম হলে তাদের সভার টানানো ব্যানারে লেখা ছিল ‘অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে চাই জাতীয় ঐক্য : বর্ধিত সভা: গণফোরাম’।

বিগত কমিটির নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদের সভাপতিত্বে এই বর্ধিত সভায় জেলা ২৮৩ জন প্রতিনি্ধি অংশ নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়।

বর্ধিত সভার মূল মঞ্চে ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, আসাদুজ্জামান, খান সিদ্দিকুর রহমান, আবদুর রায়হান, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ফজলুল হক সরকার, এম এ মতিন।

সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। গণফোরামকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলি, গণজাগরণ সৃষ্টি করে স্বৈরাচার, দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া দুদিন আগেই গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, এই বর্ধিত সভার সঙ্গে গণফোরামের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

বর্ধিত সভা আহ্বানকারীরা দলের গঠনতন্ত্র অমান্য করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে বেরিয়ে আসা সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিককে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম গঠন করেন।

গত বছরের ৪ এপ্রিল পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পরে ঘোষিত কমিটিতে মন্টুকে বাদ দিয়ে রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করার পর থেকে গণফোরামে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহবান নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দাঁড়ায় দুই পক্ষ। রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলে অন্য পক্ষের নেতারা।

এক পর্যায়ে রেজা কিবরিয়া চারজনকে বহিষ্কার করেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, হেলাল উদ্দিন ও লতিফুর বারী হামিম।

তখন সুব্রত চৌধুরীরাও পাল্টা বহিষ্কার করেন সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদকে।

পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্যে গত ৪ মার্চ গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। তিনি নিজে আহবায়ক হয়ে সাধারণ সম্পাদক করেন রেজা কিবরিয়াকে।

গণফোরামের একাংশের জাতীয় কাউন্সিল ২৬ ডিসেম্বর

 অনলাইন ডেস্ক 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নতুন করে আবার সংকটে পড়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়াসহ চারজনকে বহিষ্কার করে নতুন কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়েছেন গণফোরামের বাদ পড়া নেতারা। আগামী ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। 

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক বর্ধিত সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সভার সভাপতি আবু সাইয়িদ এই সিদ্ধান্তে জানান।

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘দলকে শক্তিশালী, গণমুখী এবং তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০ আমাদের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এই জাতীয় কাউন্সিল সফল করার লক্ষ্যে এই সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সাহেবকে আহ্বায়ক করে জেলা নেতৃবৃন্দসহ ২০১ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

পরে দলের সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক বর্ধিত সভার সাংগঠিক সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান।

‘সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র অমান্য করে দলের ঐক্য ও স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য’ সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদকে সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে গণফোরামের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল হয় গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে। তিন বছর পর পর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার বিধান থাকলেও একাংশে এক বছরে মাথায় আবার কাউন্সিল আহবান করলো।

জাতীয় প্রেস ক্লা্বের তৃতীয় তলায় আবদুস সালাম হলে তাদের সভার টানানো ব্যানারে লেখা ছিল ‘অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে চাই জাতীয় ঐক্য : বর্ধিত সভা: গণফোরাম’।

বিগত কমিটির নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদের সভাপতিত্বে এই বর্ধিত সভায় জেলা ২৮৩ জন প্রতিনি্ধি অংশ নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়।

বর্ধিত সভার মূল মঞ্চে ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, আসাদুজ্জামান, খান সিদ্দিকুর রহমান, আবদুর রায়হান, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ফজলুল হক সরকার, এম এ মতিন।

সাবেক নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। গণফোরামকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলি, গণজাগরণ সৃষ্টি করে স্বৈরাচার, দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া দুদিন আগেই গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, এই বর্ধিত সভার সঙ্গে গণফোরামের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

বর্ধিত সভা আহ্বানকারীরা দলের গঠনতন্ত্র অমান্য করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে বেরিয়ে আসা সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিককে সঙ্গে নিয়ে গণফোরাম গঠন করেন।

গত বছরের ৪ এপ্রিল পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পরে ঘোষিত কমিটিতে মন্টুকে বাদ দিয়ে রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করার পর থেকে গণফোরামে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহবান নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দাঁড়ায় দুই পক্ষ। রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলে অন্য পক্ষের নেতারা।

এক পর্যায়ে রেজা কিবরিয়া চারজনকে বহিষ্কার করেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, হেলাল উদ্দিন ও লতিফুর বারী হামিম।

তখন সুব্রত চৌধুরীরাও পাল্টা বহিষ্কার করেন সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির মহসীন রশিদ, আ ও ম শফিকউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদকে।

পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্যে গত ৪ মার্চ গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। তিনি নিজে আহবায়ক হয়ে সাধারণ সম্পাদক করেন রেজা কিবরিয়াকে।