চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ১১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

চিকিৎসার জন্য কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আনা হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি বহর শাহবাগের বিএসএমএমইউতে প্রবেশ করে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর খালেদা জিয়া গাড়ি থেকেই নিজেই নামেন। এ সময় তার পরনে ছিল কালো প্রিন্টের সুতি শাড়ি। তার চারপাশে ছিল পুলিশ, চিকিৎসক, নার্স, কারারক্ষী। এরপর তিনি কিছুটা হেঁটে গিয়ে কেবিন ব্লকের লিফটে ওঠেন। হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে ৫১২ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে। এখান থেকে তাকে কেবিন ব্লকে প্যাথলজি বিভাগে রক্ত পরীক্ষার করার কক্ষে নেয়া হবে। পরে এক্সরে করার জন্য তাকে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ১/এ নম্বর এক্সরে কক্ষে নেয়া হবে। বিএসএমএমইউ চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আলী আসগর মোড়ল জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেখবেন। এরপর কী হবে সেটা মেডিকেল বোর্ড ঠিক করবে। মেডিকেল বোর্ড হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলে খালেদা জিয়াকে একটি কেবিনে রাখা হবে। এ জন্য কেবিনটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান আলী আসগর মোড়ল। খালেদা জিয়া দুই মাস ধরে পুরনো কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রয়েছেন। তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান। বোর্ডে সদস্য রয়েছেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। গত ৪ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান শাহীন জানান, আগের সমস্যাগুলোর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপাতত তার রক্ত পরীক্ষার পাশপাশি দুই হাঁটুতে এক্সরে করাতে হবে। পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তার অসুস্থতা গুরুতর কিনা। এরপরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। ডা. শাহীন বলেন, খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। তার হাঁটুতে এখন যে ব্যথা তা বয়স থেকে হতে পারে। আগের অপারেশনের জেরে হতে পারে, আবার নতুন হতে পারে। তার কোমর ও ঘাড়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানতে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করানো লাগতে পারে। তার ব্যথা কেবল শিনশিন-ঝিনঝিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাকি হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয় খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে। রায় ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেত্রী বন্দি রয়েছেন।