রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে বিপন্ন হবে দেশের সার্বভৌমত্ব: বিএনপি
jugantor
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে বিপন্ন হবে দেশের সার্বভৌমত্ব: বিএনপি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:৪৫:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কারণে ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন’ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি।

এ ছাড়া হতদরিদ্র রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেও মনে করছে দলটি।

সম্প্রতি নোয়াখালীর হাতিয়ার জরঈশ্বর ইউনিয়নের দ্বীপ ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে থেকে ১৬৪২ জনের একটি দলকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং রিফিউজি ইন্টারন্যাশনাল।

তবে বাংলাদেশ সরকার বলছে, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকেই অগ্রাধিকার দেবে। একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলেও তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরতে হবে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি।

সংবাদ সম্মেলেনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই জনবিচ্ছিন্ন ও অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা তাদের মাতৃভূমি রাখাইনে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকেও সরকার রাখাইনে ফেরত পাঠাতে পারেনি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছাও তারা প্রমাণ করতে পারেনি। দীর্ঘদিনের এই সমস্যাকে কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করতে না পারা নিঃসন্দেহে সরকারের চরম ব্যর্থতা। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোর ‘না’ উপেক্ষা করে বঙ্গোপসাগরের মুখে নতুন সৃষ্ট ভাসানচর দ্বীপে রোহিঙ্গাদের একাংশকে স্থানান্তরের ফলে তাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে মিয়ানমারের স্বার্থই রক্ষিত হবে, তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।

প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ কমবে এবং প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে পড়ার কারণে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়বে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

‘এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করবে, যা আত্মহননের শামিল।’

বৃহত্তর জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে আন্তর্জাতিক চাপ আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে তাদের নিজভূমি রাখাইনে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ভাসানচর প্রকল্পটি মূলত সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্প-৩ এর একটি বর্ধিত প্রকল্প। এই প্রকল্পটি সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত একটি মেগা প্রজেক্ট। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য প্রকল্পটিতে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রজেক্টের ন্যায় প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করে তা ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা করা হয়। যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় এসব প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ রয়েছে।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করায় মিডিয়ারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, এই প্রকল্প তথা সরকারের সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গাইতে কিছু ‘দলকানা’ সাংবাদিক দিয়ে ভাসানচরের আশ্রয় শিবিরের পক্ষে নানা ধরনের প্রচার প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

সরকারের পক্ষে সাফাই না গেয়ে মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্থায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে সাংবাদিকরা সরব হলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ত্বরান্বিত হতে পারে বলে বিএনপি মনে করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন সরকারকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে আহ্বান জানান। এর পর লাগাতারভাবে আমাদের দলের পক্ষ থেকে দেশে-বিদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, লেখালেখি, প্রকাশনা ও প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপি চায়- নিরাপদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হোক। রোহিঙ্গারা তাদের প্রিয় মাতৃভূমি মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ফিরে পাক। তাদের বাড়িঘর ও কর্মস্থলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে কেবল স্বল্প সময়ের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে বিপন্ন হবে দেশের সার্বভৌমত্ব: বিএনপি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কারণে ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন’ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। 

এ ছাড়া হতদরিদ্র রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেও মনে করছে দলটি। 

সম্প্রতি নোয়াখালীর হাতিয়ার জরঈশ্বর ইউনিয়নের দ্বীপ ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে থেকে ১৬৪২ জনের একটি দলকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। 

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং রিফিউজি ইন্টারন্যাশনাল।

তবে বাংলাদেশ সরকার বলছে,  মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকেই অগ্রাধিকার দেবে। একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলেও তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরতে হবে। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি। 

সংবাদ সম্মেলেনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই জনবিচ্ছিন্ন ও অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা তাদের মাতৃভূমি রাখাইনে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
 
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকেও সরকার রাখাইনে ফেরত পাঠাতে পারেনি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছাও তারা প্রমাণ করতে পারেনি। দীর্ঘদিনের এই সমস্যাকে কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করতে না পারা নিঃসন্দেহে সরকারের চরম ব্যর্থতা। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোর ‘না’ উপেক্ষা করে বঙ্গোপসাগরের মুখে নতুন সৃষ্ট ভাসানচর দ্বীপে রোহিঙ্গাদের একাংশকে স্থানান্তরের ফলে তাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে মিয়ানমারের স্বার্থই রক্ষিত হবে, তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।

প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ কমবে এবং প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে পড়ার কারণে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়বে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। 

‘এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করবে, যা আত্মহননের শামিল।’ 

বৃহত্তর জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে আন্তর্জাতিক চাপ আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে তাদের নিজভূমি রাখাইনে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপি। 

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ভাসানচর প্রকল্পটি মূলত সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্প-৩ এর একটি বর্ধিত প্রকল্প। এই প্রকল্পটি সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত একটি মেগা প্রজেক্ট। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের জন্য প্রকল্পটিতে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য প্রজেক্টের ন্যায় প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করে তা ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা করা হয়। যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় এসব প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ রয়েছে। 

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করায় মিডিয়ারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, এই প্রকল্প তথা সরকারের সুদূরপ্রসারী দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গাইতে কিছু ‘দলকানা’ সাংবাদিক দিয়ে ভাসানচরের আশ্রয় শিবিরের পক্ষে নানা ধরনের প্রচার প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। 

সরকারের পক্ষে সাফাই না গেয়ে মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্থায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে সাংবাদিকরা সরব হলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ত্বরান্বিত হতে পারে বলে বিএনপি মনে করে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন সরকারকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে আহ্বান জানান। এর পর লাগাতারভাবে আমাদের দলের পক্ষ থেকে দেশে-বিদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, লেখালেখি, প্রকাশনা ও প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, বিএনপি চায়- নিরাপদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হোক। রোহিঙ্গারা তাদের প্রিয় মাতৃভূমি মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ফিরে পাক। তাদের বাড়িঘর ও কর্মস্থলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে কেবল স্বল্প সময়ের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও খবর