মোশাররফ

কোটা আন্দোলনকারীদের হল থেকে বের করে দেয়া যাবে না

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

কোটা প্রথা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় সন্দেহ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে সরকারি প্রজ্ঞাপন দাবি করেছেন মোশাররফ হোসেন। 

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীরা যেটা চায়নি, তারও বেশি দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন এটা যৌক্তিক। আমরা শুনতে পাচ্ছি যে, যারা আন্দোলন করেছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি পেটুয়া বাহিনী হল থেকে বের করে দিচ্ছে, মামলা করছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যদি মামলা হয়ে থাকে তা প্রত্যাহার চাই। এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত যারা তাদের ওপর কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। তাদেরকে জোর করে হল থেকে বের করে দেয়া যাবে না।’ 

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। 

সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবীর ব্যাপারীর সভাপতিত্বে মনজুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক মনির খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলাম শিরিন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

মোশাররফ বলেন, ‘কোটা প্রথার বিষয়ে এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বললেন কোটা প্রথা বাতিল এরপরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রশ্ন আসে কেন? এখানেই কিন্তু জনগণের সন্দেহ।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মোশাররফ বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে যেটা বলেছেন রবি-সোমবারে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা জাতির সামনে উপস্থাপন করেন। আমরা অনতিবিলম্বে এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দাবি করছি। তা না হলে আমরা বিশ্বাস করি না।’ 

কোটা আন্দোলনের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি সুফিয়া কামাল হলে আন্দোলনকারী ছাত্রীর ওপর ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ নেত্রীর নির্যাতনে ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন খন্দকার মোশাররফ।

এ সময় তিনি আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন। 

মোশাররফ বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এই দুই সিটির নির্বাচন অগ্নিপরীক্ষা। 

তিনি বলেন, একাদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচন কী ধরনের হবে সেটা এই দুটি সিটির নির্বাচন থেকে তা প্রমাণিত হবে। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যদিও সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু তাবেদারি করতে গিয়ে তারা তাদের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা বাস্তবায়িত করতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা উচিত। গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনসহ পরবর্তী প্রত্যেকটি নির্বাচনে আমাদের জোর দাবি সেনা মোতায়েন করতে হবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত জনগণ ভোট দিতে পারেনি। জনগণকে সাহস দেয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখতে হবে।’

সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার দাবিও তুলে ধরেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে ছাড়া সেই নির্বাচন সম্ভব নয়। সেই নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’