‘মুশতাকের মৃত্যুতে দেশের তরুণসমাজ জেগে উঠবে’
jugantor
‘মুশতাকের মৃত্যুতে দেশের তরুণসমাজ জেগে উঠবে’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:৩২:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

মুশতাক

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুশতাকের মৃত্যুতে দেশের তরুণসমাজ জেগে উঠবে এবং দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক স্বাধীনতাসহ সুশাসন ও আইনের শাসন ফিরে আসবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংগতি-অসংগতি, নিয়ম-অনিয়ম, কীর্তি-অপকীর্তি ইত্যাদি বিষয়ে স্বাধীনচেতা মানুষের অভিমত, বিশ্লেষণ ইত্যাদি প্রকাশের সুযোগ আজ গণতান্ত্রিক বিশ্বে সর্বজনস্বীকৃত।

‘কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকার তাদের অপকর্ম ও ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সমালোচনা যাতে প্রকাশ না হয়ে পড়ে সে জন্য নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য লেখা বা পোস্টকে কোনোভাবেই বরদাশত করছে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা স্বাধীনভাবে সামাজিকমাধ্যমে নিজের মতপ্রকাশের চেষ্টা করছে, তাদের জীবনে নেমে আসছে এক ভয়ঙ্কর দুর্বিষহ পরিণতি। হয় তাদের গুমের শিকার হতে হচ্ছে, নতুবা সরকারি হেফাজতে প্রাণ দিতে হচ্ছে। তার সর্বশেষ নির্মম শিকার হলেন মুশতাক আহমেদ। মূলত মুশতাক আহমেদের ওপর কারাগারে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

মুশতাক লুটপাটকারী কিংবা কালোবাজারি, সন্ত্রাসী ও ডাকাত ছিলেন না; বরং ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের মেধাবী ছাত্র মুশতাক আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গিয়ে অকালে তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হলো।

‘মুশতাক একজন সৎ ও সাহসী মানুষ ছিলেন, তিনি চিরদিন অধিকারহারা মানুষের কাছে প্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। তিনি দেশবাসীর প্রার্থনা, চেতনা ও অনুভবে চিরদিনের জন্য বিরাজ করবেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মুশতাকের মৃত্যুতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে-বেদনায় ফেটে পড়েছে। তার মতো একজন অরাজনৈতিক, নিরীহ এবং নিজস্ব চিন্তায় স্বায়ত্বশাসিত ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সার লেখকের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রশক্তি জড়িত।

সরকারি হেফাজতে কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিএনপির মহাসচিব। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

পাশাপাশি মুশতাক আহমেদের কারান্তরীণ অবস্থায় মৃত্যুতে স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

এ ছাড়া গত বছর মে মাসে মুশতাক আহমেদের সঙ্গে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে আটক করে এখনও কারাবন্দি করে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। অবিলম্বে কিশোরের মুক্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

‘মুশতাকের মৃত্যুতে দেশের তরুণসমাজ জেগে উঠবে’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মুশতাক
গত বছর মে মাসে আটক হয়েছিলেন মুশতাক আহমেদ। ফাইল ছবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুশতাকের মৃত্যুতে দেশের তরুণসমাজ জেগে উঠবে এবং দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক স্বাধীনতাসহ সুশাসন ও আইনের শাসন ফিরে আসবে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংগতি-অসংগতি, নিয়ম-অনিয়ম, কীর্তি-অপকীর্তি ইত্যাদি বিষয়ে স্বাধীনচেতা মানুষের অভিমত, বিশ্লেষণ ইত্যাদি প্রকাশের সুযোগ আজ গণতান্ত্রিক বিশ্বে সর্বজনস্বীকৃত। 

‘কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকার তাদের অপকর্ম ও ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সমালোচনা যাতে প্রকাশ না হয়ে পড়ে সে জন্য নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য লেখা বা পোস্টকে কোনোভাবেই বরদাশত করছে না।’ 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা স্বাধীনভাবে সামাজিকমাধ্যমে নিজের মতপ্রকাশের চেষ্টা করছে, তাদের জীবনে নেমে আসছে এক ভয়ঙ্কর দুর্বিষহ পরিণতি। হয় তাদের গুমের শিকার হতে হচ্ছে, নতুবা সরকারি হেফাজতে প্রাণ দিতে হচ্ছে। তার সর্বশেষ নির্মম শিকার হলেন মুশতাক আহমেদ। মূলত মুশতাক আহমেদের ওপর কারাগারে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। 

মুশতাক লুটপাটকারী কিংবা কালোবাজারি, সন্ত্রাসী ও ডাকাত ছিলেন না; বরং ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের মেধাবী ছাত্র মুশতাক আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গিয়ে অকালে তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হলো। 

‘মুশতাক একজন সৎ ও সাহসী মানুষ ছিলেন, তিনি চিরদিন অধিকারহারা মানুষের কাছে প্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। তিনি দেশবাসীর প্রার্থনা, চেতনা ও অনুভবে চিরদিনের জন্য বিরাজ করবেন।’  

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মুশতাকের মৃত্যুতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে-বেদনায় ফেটে পড়েছে। তার মতো একজন অরাজনৈতিক, নিরীহ এবং নিজস্ব চিন্তায় স্বায়ত্বশাসিত ফেসবুকে ফ্রিল্যান্সার লেখকের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রশক্তি জড়িত। 

সরকারি হেফাজতে কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিএনপির মহাসচিব। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। 

পাশাপাশি মুশতাক আহমেদের কারান্তরীণ অবস্থায় মৃত্যুতে স্বচ্ছ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান মির্জা ফখরুল। 

এ ছাড়া গত বছর মে মাসে মুশতাক আহমেদের সঙ্গে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে আটক করে এখনও কারাবন্দি করে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। অবিলম্বে কিশোরের মুক্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে লেখক মুশতাকের মৃত্যু

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
আরও খবর