‘জিয়াকে ইতিহাস ধারণ করেছে, খেতাব বাতিলে যায় আসে না’ 
jugantor
‘জিয়াকে ইতিহাস ধারণ করেছে, খেতাব বাতিলে যায় আসে না’ 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪৯:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

‘জিয়াকে ইতিহাস ধারণ করেছে, খেতাব বাতিলে যায় আসে না’ 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘বীরউত্তম’ খেতাব বাতিলে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ধারণ করেছে। কে কার খেতাব নিল, না নিল তাতে জিয়াউর রহমানের কিচ্ছু যায় আসে না। আর এ দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষেরও কিছু যায় আসে না। এই খেতাব স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান সরকারই দিয়েছিল। এই খেতাবকে তুলে নেওয়ার যে অপচেষ্টা তা জনগণ কোনোদিনই মেনে নেবে না।

শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

৭ মার্চ পালনে বিএনপির কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাখ্যায় মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শুধু ৭ মার্চ নয়, ২ মার্চ, ৩ মার্চ পালন করছি। ২ মার্চ প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আ স ম আবদুর রব। আমরা সেটাও পালন করছি। কারণ এটা ইতিহাস। ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন শাজাহান সিরাজ। এটাকে অস্বীকার করব কী করে? ঠিক একইভাবে ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ অবশ্যই ইতিহাস। অবশ্যই তার সম্মান, তার মর্যাদা তাকে দিতে হবে। তার অর্থ এই নয় যে, ৭ মার্চ আপনি যখন পালন করবেন তখন এই কথা বলবেন ৭ মার্চের ডাকে স্বাধীনতা এসে গেছে। প্রকৃত ঘটনা আলোচনার মধ্যে আসবে, ইতিহাস থেকে আসবে, ইতিহাসের সব বই থেকে আসবে। তিনি আরও বলেন, কাউকেই খাটো করার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই । আমরা বিশ্বাস করি সেটা উচিতও নয়। বিশেষ করে স্বাধীনতার ব্যাপারে প্রকৃত সত্য সবাইকে উদঘাটন করতে হবে।

দেশের মালিক জনগণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করব। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি পালন করার একটাই উদ্দেশ্য তা হলো আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। আমরা কোনো একজন ব্যক্তি, কোনো একটা পরিবার, কোনো একটা দলের একান্ত ব্যক্তিগত পারিবারিক সম্পত্তি করার জন্য এ দেশ স্বাধীন করিনি। বাংলাদেশের মালিক জনগণ- এটা মূল কথা। এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান কেন করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সুবর্ণজয়ন্তী করছি কার? স্বাধীনতার। এটা আমার, এ দেশের মানুষের, কৃষকের, শ্রমিকের সবার। এটা বাস্তবতা। আমি এখানে স্বাধীনভাবে একটা জাতিকে নির্মাণ করতে চাই। কে কী করল না করল বড় কথা নয়। এটা আমার অধিকার, আমি এই স্বাধীনতার ৫০ বছর অবশ্যই পালন করব। এটা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অনির্বাচিত সরকারের পালন করার সঙ্গে সম্পর্ক নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস আজকের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য আমরা সারা বছরের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। কিন্তু অত্যন্ত বেদনাদায়ক গত ১২ বছর দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিতর্কিত করতে হেন চেষ্টা নেই তা করা হচ্ছে না। যিনি প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, যিনি প্রথম সেক্টার কমান্ডার, প্রথম ফোর্সেস কমান্ডার তাকে বিতর্কিত করার জন্য কিনা করেছে। সর্বশেষ তার খেতাব বাতিলের জন্য আজকে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যে প্রচেষ্টা নিচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্বাস করি, জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করার অর্থ মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা।

গুলশানে হোটেল লেকসোরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির আয়োজনে গণমাধ্যমের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা হয়। মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মিডিয়া কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিন, আতিকুর রহমার রুমন, শায়রুল কবির খান, ফারজানা শারমিন পুতুল, ইয়াসির খান, মাহমুদা হাবিবা, শফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, মীর সোলায়মান, নুরুল ইসলাম সাজু, বাবুল তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

‘জিয়াকে ইতিহাস ধারণ করেছে, খেতাব বাতিলে যায় আসে না’ 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘জিয়াকে ইতিহাস ধারণ করেছে, খেতাব বাতিলে যায় আসে না’ 
মির্জা ফখরুল। ফাইল ছবি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘বীরউত্তম’ খেতাব বাতিলে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ধারণ করেছে। কে কার খেতাব নিল, না নিল তাতে জিয়াউর রহমানের কিচ্ছু যায় আসে না। আর এ দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষেরও কিছু যায় আসে না। এই খেতাব স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান সরকারই দিয়েছিল। এই খেতাবকে তুলে নেওয়ার যে অপচেষ্টা তা জনগণ কোনোদিনই মেনে নেবে না।

শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন। 

৭ মার্চ পালনে বিএনপির কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাখ্যায় মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শুধু ৭ মার্চ নয়, ২ মার্চ, ৩ মার্চ পালন করছি। ২ মার্চ প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আ স ম আবদুর রব। আমরা সেটাও পালন করছি। কারণ এটা ইতিহাস। ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন শাজাহান সিরাজ। এটাকে অস্বীকার করব কী করে? ঠিক একইভাবে ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ অবশ্যই ইতিহাস। অবশ্যই তার সম্মান, তার মর্যাদা তাকে দিতে হবে। তার অর্থ এই নয় যে, ৭ মার্চ আপনি যখন পালন করবেন তখন এই কথা বলবেন ৭ মার্চের ডাকে স্বাধীনতা এসে গেছে। প্রকৃত ঘটনা আলোচনার মধ্যে আসবে, ইতিহাস থেকে আসবে, ইতিহাসের সব বই থেকে আসবে। তিনি আরও বলেন, কাউকেই খাটো করার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই । আমরা বিশ্বাস করি সেটা উচিতও নয়। বিশেষ করে স্বাধীনতার ব্যাপারে প্রকৃত সত্য সবাইকে উদঘাটন করতে হবে।

দেশের মালিক জনগণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করব। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি পালন করার একটাই উদ্দেশ্য তা হলো আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। আমরা কোনো একজন ব্যক্তি, কোনো একটা পরিবার, কোনো একটা দলের একান্ত ব্যক্তিগত পারিবারিক সম্পত্তি করার জন্য এ দেশ স্বাধীন করিনি। বাংলাদেশের মালিক জনগণ- এটা মূল কথা। এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান কেন করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সুবর্ণজয়ন্তী করছি কার? স্বাধীনতার। এটা আমার, এ দেশের মানুষের, কৃষকের, শ্রমিকের সবার। এটা বাস্তবতা। আমি এখানে স্বাধীনভাবে একটা জাতিকে নির্মাণ করতে চাই। কে কী করল না করল বড় কথা নয়। এটা আমার অধিকার, আমি এই স্বাধীনতার ৫০ বছর অবশ্যই পালন করব। এটা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অনির্বাচিত সরকারের পালন করার সঙ্গে সম্পর্ক নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস আজকের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য আমরা সারা বছরের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। কিন্তু অত্যন্ত বেদনাদায়ক গত ১২ বছর দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিতর্কিত করতে হেন চেষ্টা নেই তা করা হচ্ছে না। যিনি প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, যিনি প্রথম সেক্টার কমান্ডার, প্রথম ফোর্সেস কমান্ডার তাকে বিতর্কিত করার জন্য কিনা করেছে। সর্বশেষ তার খেতাব বাতিলের জন্য আজকে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যে প্রচেষ্টা নিচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিশ্বাস করি, জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করার অর্থ মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা।

গুলশানে হোটেল লেকসোরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির আয়োজনে গণমাধ্যমের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা হয়। মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মিডিয়া কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিন, আতিকুর রহমার রুমন, শায়রুল কবির খান, ফারজানা শারমিন পুতুল, ইয়াসির খান, মাহমুদা হাবিবা, শফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, মীর সোলায়মান, নুরুল ইসলাম সাজু, বাবুল তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর