ড. কামাল কি গণফোরামের শীর্ষ পদে থাকছেন? 
jugantor
ড. কামাল কি গণফোরামের শীর্ষ পদে থাকছেন? 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:২৮:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

গণফোরামের সংকট যেন কাটছেই না। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই থেকেই গৃহবিবাদ শুরু হয়েছে দলটিতে, যেটি প্রকাশ্য রূপ নেয় নির্বাচনের পরপরই। মাঝখানে সব বিভেদ ভুলে এক কাতারে চলার ঘোষণা দেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এর পর আবারও অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। কিছুদিন আগে দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া গণফোরাম ছাড়ার ঘোষণা দেন। এবার দলের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন যাকে সংগঠনের নিউক্লিয়াস ভাবা হয় তার ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেছেন নেতাকর্মীদের একাংশ। তাকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। এমতাবস্থায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, বঙ্গবন্ধু সরকারের আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন কি নিজের হাতে গড়া দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকছেন?
শনিবার রাজধানীতে গণফোরামের একটি বর্ধিত সভা হয়। এই সভায় ছিলেন না দলের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। এদিন দলটির শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের প্রতি। তাকে বাদ দিয়েই নতুন করে দলটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।
এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। বর্ধিত সভা থেকে ড. কামাল হোসেনকে গণফোরামের সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আগামী ২৮ ও ২৯ মে ঢাকায় দুদিনব্যাপী গণফোরামের কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। বর্ধিত সভায় ২১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং মোস্তফা মহসিন মন্টুকে আহ্বায়ক করে ২০১ সদস্যের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটিও গঠন করা হয়।
এর আগে বর্ধিত সভায় দলটির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য মহসিন রশিদ ড. কামাল হোসেনকে গণফোরামের সভাপতি পদ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, দলের মধ্যে আজ অনেক বিভাজন চলছে। এই বিভাজন বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে সভাপতির পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়া উচিত। কমিটির সাবেক সদস্য সত্তার পাঠানও একই প্রস্তাব করেন। পরে জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও এই প্রস্তাব সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন।
বর্ধিত সভা শেষে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে মহসিন মন্টু বলেন, গণফোরামের আগামী কাউন্সিলে কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নেবেন ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি হিসেবে রাখা হবে কিনা। তিনি বলেন, আগামী কাউন্সিলে পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করা হবে।
সভাপতির পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে অপসারণ প্রসঙ্গে মোস্তফা মহসিন মন্টু আরও বলেন, গণফোরাম গণতান্ত্রিক দল। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র আনতে হলে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি বানিয়েছিলেন কাউন্সিলররা। আগামী কাউন্সিলে তারাই (কাউন্সিলর) সিদ্ধান্ত নেবেন দলটির পরবর্তী সভাপতি কে হবেন। এ সময় বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, আমরা নতুন নির্বাচন দাবি করছি। সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। নতুন নির্বাচন না দিলে স্বৈরাচারী এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, দেশে আজ আইনের শাসন নেই, সাংবিধানিক শাসন নেই। যে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, আজ সে বৈষম্যের কশাঘাতে মানুষ দিশেহারা।
বর্ধিত সভায় মাঠের নেতারা যা বললেন : সভাপতি পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে গণফোরাম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বর্ধিত সভায় উপস্থিত জেলা পর্যায়ের নেতারা বলেন, ড. কামাল হোসেনকে রাখলে গণফোরাম কখনোই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। উনি বঙ্গবন্ধুর সহচর ছিলেন ঠিকই, মেধার কারণে বঙ্গবন্ধু তাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। আসলে উনি এখন জিরো।
এ সময় অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন পলিটিশিয়ান নয়। তাকে নিয়ে রাজনীতি হবে না। তিনি একটা জিরো পারসন। তিনি ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করেন। ড. কামালকে বাদ দিয়েই গণফোরামকে এগিয়ে নিতে হবে।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগের পক্ষে মির্জা হাসান, ময়মনসিংহের অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন ও ঢাকা বিভাগের বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি, ঠাকুরগাঁওয়ের অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন, জাফর সাদেক, রাজবাড়ী জেলা সাধারণ সম্পাদক ওয়াজি উল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম পর্বত।
বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনকে অদৃশ্য একটি সুতা টেনে ধরেছে। ফলে গণফোরাম পেছনের দিকে ছুটছে। সামনে আর এগোতে পারেনি। তাই সময় এসেছে সুতা কেটে দেওয়ার। সুতাটি কেটে দিন গণফেরাম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’


ড. কামাল কি গণফোরামের শীর্ষ পদে থাকছেন? 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গণফোরামের সংকট যেন কাটছেই না। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই থেকেই গৃহবিবাদ শুরু হয়েছে দলটিতে, যেটি প্রকাশ্য রূপ নেয় নির্বাচনের পরপরই।  মাঝখানে সব বিভেদ ভুলে এক কাতারে চলার ঘোষণা দেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। 
এর পর আবারও অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।  কিছুদিন আগে দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া গণফোরাম ছাড়ার ঘোষণা দেন।  এবার দলের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন যাকে সংগঠনের নিউক্লিয়াস ভাবা হয় তার ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেছেন নেতাকর্মীদের একাংশ।  তাকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।  এমতাবস্থায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, বঙ্গবন্ধু সরকারের আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন কি নিজের হাতে গড়া দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকছেন? 
শনিবার রাজধানীতে গণফোরামের একটি বর্ধিত সভা হয়।  এই সভায় ছিলেন না দলের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন।  এদিন দলটির শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের প্রতি। তাকে বাদ দিয়েই নতুন করে দলটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। 
এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। বর্ধিত সভা থেকে ড. কামাল হোসেনকে গণফোরামের সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আগামী ২৮ ও ২৯ মে ঢাকায় দুদিনব্যাপী গণফোরামের কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। বর্ধিত সভায় ২১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং মোস্তফা মহসিন মন্টুকে আহ্বায়ক করে ২০১ সদস্যের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটিও গঠন করা হয়।
এর আগে বর্ধিত সভায় দলটির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য মহসিন রশিদ ড. কামাল হোসেনকে গণফোরামের সভাপতি পদ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, দলের মধ্যে আজ অনেক বিভাজন চলছে। এই বিভাজন বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে সভাপতির পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়া উচিত। কমিটির সাবেক সদস্য সত্তার পাঠানও একই প্রস্তাব করেন। পরে জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও এই প্রস্তাব সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন।
বর্ধিত সভা শেষে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে মহসিন মন্টু বলেন, গণফোরামের আগামী কাউন্সিলে কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নেবেন ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি হিসেবে রাখা হবে কিনা। তিনি বলেন, আগামী কাউন্সিলে পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করা হবে।
সভাপতির পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে অপসারণ প্রসঙ্গে মোস্তফা মহসিন মন্টু আরও বলেন, গণফোরাম গণতান্ত্রিক দল। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র আনতে হলে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি বানিয়েছিলেন কাউন্সিলররা। আগামী কাউন্সিলে তারাই (কাউন্সিলর) সিদ্ধান্ত নেবেন দলটির পরবর্তী সভাপতি কে হবেন। এ সময় বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, আমরা নতুন নির্বাচন দাবি করছি। সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। নতুন নির্বাচন না দিলে স্বৈরাচারী এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, দেশে আজ আইনের শাসন নেই, সাংবিধানিক শাসন নেই। যে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, আজ সে বৈষম্যের কশাঘাতে মানুষ দিশেহারা।
বর্ধিত সভায় মাঠের নেতারা যা বললেন : সভাপতি পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে গণফোরাম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বর্ধিত সভায় উপস্থিত জেলা পর্যায়ের নেতারা বলেন, ড. কামাল হোসেনকে রাখলে গণফোরাম কখনোই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। উনি বঙ্গবন্ধুর সহচর ছিলেন ঠিকই, মেধার কারণে বঙ্গবন্ধু তাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। আসলে উনি এখন জিরো।
এ সময় অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন পলিটিশিয়ান নয়। তাকে নিয়ে রাজনীতি হবে না। তিনি একটা জিরো পারসন। তিনি ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করেন। ড. কামালকে বাদ দিয়েই গণফোরামকে এগিয়ে নিতে হবে।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগের পক্ষে মির্জা হাসান, ময়মনসিংহের অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন ও ঢাকা বিভাগের বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি, ঠাকুরগাঁওয়ের অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন, জাফর সাদেক, রাজবাড়ী জেলা সাধারণ সম্পাদক ওয়াজি উল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম পর্বত।
বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনকে অদৃশ্য একটি সুতা টেনে ধরেছে। ফলে গণফোরাম পেছনের দিকে ছুটছে। সামনে আর এগোতে পারেনি। তাই সময় এসেছে সুতা কেটে দেওয়ার। সুতাটি কেটে দিন গণফেরাম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

 


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন