সেই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে যা বললেন বিএনপি নেতা মিনু
jugantor
সেই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে যা বললেন বিএনপি নেতা মিনু

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৭ মার্চ ২০২১, ১৫:৩৬:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পচাত্তরের ১৫ আগস্ট স্মরণ করিয়ে দিয়ে জনসভায় আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।

রোববার এক বিবৃতিতে রাজশাহীর সাবেক এ মেয়র দুঃখ প্রকাশ করেন। রাজশাহী নগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন ই-মেইলে বিবৃতিটি গণমাধ্যমের কাছে পাঠিয়েছেন।

এর আগে মিনুকে ক্ষমা চাইতে নগর আওয়ামী লীগের বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হয় শনিবার সন্ধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ক্ষমা না চাইলেও পর দিন তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেন।
বিবৃতিতে মিনু উল্লেখ করেন—‘আমার বক্তব্যের জন্য যারা ব্যথিত হয়েছেন, মর্মাহত হয়েছেন, আমি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
মিনু আরও বলেন, আমি এই মহানগরীতে জন্মগ্রহণ করে দীর্ঘদিন রাজশাহীবাসীকে নিয়ে রাজনৈতিক নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে পাশে পেয়েছি। সুতরাং কোনো ব্যক্তি বিশেষ বা গোষ্ঠী বিশেষকে উদ্দেশ্য করে আক্রোশমূলক বক্তব্য দেওয়া আমার স্বভাববহির্ভূত। তাই সবাইকে আমার বক্তব্যে ষড়যন্ত্র না খোঁজার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
গত মঙ্গলবার বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আজ রাত, কাল আর সকাল নাও হতে পারে। পচাত্তর মনে নাই?’ এর প্রতিবাদ জানায় রাজশাহী আওয়ামী লীগ। পর দিন এক বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মিনুকে বক্তব্য প্রত্যাহারে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
লিটন ঘোষণা দেন, এই সময়ের মধ্যে মিনু ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। আর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এক প্রতিবাদলিপিতে মিনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে মিনুর বিবৃতি পাঠানোর আগে আলটিমেটামের সময় শেষ হওয়ায় নগর আওয়ামী লীগ মিনুর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার ৭ মার্চের আলোচনা অনুষ্ঠানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উপস্থিত ছিলেন। সেই আলোচনাসভায় মিনুর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।
সভাশেষে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমরা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের আইনজীবীদের বলা হয়েছে। কোন কোন ধারায় মামলা করা যায় সেটি তারা দেখবেন। সোমবার আদালতে মামলা করা হবে। এ ছাড়া আগামী ৯ মার্চ রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। সেখানে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনও উপস্থিত থাকবেন।’
এসব সিদ্ধান্তের পর মিনুর দুঃখ প্রকাশ নিয়ে আওয়ামী লীগ কী ভাবছে জানতে চাইলে ডাবলু সরকার বলেন, ‘সেটা আবার আলোচনার বিষয়। আমরা আবার একটু আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।’

সেই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে যা বললেন বিএনপি নেতা মিনু

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৭ মার্চ ২০২১, ০৩:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পচাত্তরের ১৫ আগস্ট স্মরণ করিয়ে দিয়ে জনসভায় আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু।

রোববার এক বিবৃতিতে রাজশাহীর সাবেক এ মেয়র দুঃখ প্রকাশ করেন। রাজশাহী নগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন ই-মেইলে বিবৃতিটি গণমাধ্যমের কাছে পাঠিয়েছেন।

এর আগে মিনুকে ক্ষমা চাইতে নগর আওয়ামী লীগের বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হয় শনিবার সন্ধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ক্ষমা না চাইলেও পর দিন তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেন। 
বিবৃতিতে মিনু উল্লেখ করেন—‘আমার বক্তব্যের জন্য যারা ব্যথিত হয়েছেন, মর্মাহত হয়েছেন, আমি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ 
মিনু আরও বলেন, আমি এই মহানগরীতে জন্মগ্রহণ করে দীর্ঘদিন রাজশাহীবাসীকে নিয়ে রাজনৈতিক নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে পাশে পেয়েছি। সুতরাং কোনো ব্যক্তি বিশেষ বা গোষ্ঠী বিশেষকে উদ্দেশ্য করে আক্রোশমূলক বক্তব্য দেওয়া আমার স্বভাববহির্ভূত। তাই সবাইকে আমার বক্তব্যে ষড়যন্ত্র না খোঁজার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
গত মঙ্গলবার বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আজ রাত, কাল আর সকাল নাও হতে পারে। পচাত্তর মনে নাই?’ এর প্রতিবাদ জানায় রাজশাহী আওয়ামী লীগ। পর দিন এক বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মিনুকে বক্তব্য প্রত্যাহারে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
লিটন ঘোষণা দেন, এই সময়ের মধ্যে মিনু ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। আর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এক প্রতিবাদলিপিতে মিনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।  
এদিকে মিনুর বিবৃতি পাঠানোর আগে আলটিমেটামের সময় শেষ হওয়ায় নগর আওয়ামী লীগ মিনুর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার ৭ মার্চের আলোচনা অনুষ্ঠানেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন উপস্থিত ছিলেন। সেই আলোচনাসভায় মিনুর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।
সভাশেষে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমরা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের আইনজীবীদের বলা হয়েছে। কোন কোন ধারায় মামলা করা যায় সেটি তারা দেখবেন। সোমবার আদালতে মামলা করা হবে। এ ছাড়া আগামী ৯ মার্চ রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। সেখানে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনও উপস্থিত থাকবেন।’
এসব সিদ্ধান্তের পর মিনুর দুঃখ প্রকাশ নিয়ে আওয়ামী লীগ কী ভাবছে জানতে চাইলে ডাবলু সরকার বলেন, ‘সেটা আবার আলোচনার বিষয়। আমরা আবার একটু আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।’ 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন