নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি গর্ববোধ করি: অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি
jugantor
নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি গর্ববোধ করি: অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৮ মার্চ ২০২১, ১৮:৫৯:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি গর্ববোধ করি: অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, ‘আল্লাহর দরবারে নারী-পুরুষ নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। তিনি আমাদের মানুষ হিসেবে ও সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাহলে আমরা কেন নারী-পুরুষ বিভাজনে গিয়ে নিজেদের দুর্বল মনে করি!’

তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রথম স্ত্রী খাদিজার (রা.) নারী নেতৃত্ব আমাদের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে আছে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ উপলক্ষে ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’ শীর্ষক শিরোনামে আলোচনা সভার এসব কথা বলেন অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি।

সোমবার বেলা ৩টায় দৈনিক যুগান্তর ভবনের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় মহিলা পার্টির পক্ষ থেকে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জেসমীন নূর প্রিয়াঙ্কার সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হেনা খান পন্নি, রওশন আরা মান্নান এমপিসহ জাতীয় মহিলা পার্টির নারী নেতাকর্মীরা।

নারী হিসেবে সৃষ্টি করায় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এমপি সালমা ইসলাম। বলেন, ‘নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। গর্ববোধ করি। কারণ বর্তমান সমাজে পুরুষের চাইতেই বেশি শ্রম দিচ্ছে নারী। কোথায় নেই নারীদের অবদান? এখন নারীদের পদচারণায় মুখর দেশের প্রতিটি সেক্টর। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে নারীরাও।আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। এতো বিপুলসংখ্যক নারী যদি উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত না হয় তবে দেশ এগিয়ে যাবে কীভাবে? দেশের অর্ধেক জনশক্তি দিয়ে তো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা অসম্ভব।এই বাস্তব সত্যটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলেই আজ দেশের নারীরা পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হতে পারছেন। দেশের অর্থনীতির অন্যতম জনশক্তি এখন নারী। বিশেষকরে পোশাকশিল্প খাতে নারীরা এখন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।’

এমপি সালমা ইসলাম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে আনতে প্রথম কাজগুলো করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ স্বাধীনের পর তিনি যতটুকু সময় পেয়েছেন নারীদের উন্নয়নে একটা ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়ে গেছেন। এখন তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একইভাবে নারীদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। আজ রাজনীতিতে নারীদের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে তার শেখ হাসিনার কল্যাণেই। শুধু রাজনীতিই নয়; নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি দেশের নারীদের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন।’


বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান অনস্বীকার্য বলে জানান এমপি সালমা ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এক সময় দেশের নারীরা যৌতুক আর বাল্যবিবাহের বলি ছিল। নারী নির্যাতন রোধে পারিবারিক আইন প্রণয়ন করেছেন তিনি। আজ নারীরা যৌতুকের যাতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে না। এই যে সংসদে সংরক্ষিত আসনে নারী, রাজনীতিতে নারীদের ক্ষমতায়ন এ সবই পল্লীবন্ধুর অবদান।’

জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে এমপি সালমা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যরা এমন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবেন, যেন তার সমহিমায় উজ্জ্বল থাকেন। তারা প্রত্যেকে একে অপরের আত্মার আত্মীয়। তারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে মহান আল্লাহ অসন্তোষ হন। তাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, পুরুষরা তাদের সম্মানীয় সহকর্মী। মহান আল্লাহ তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পৃথিবীর সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হেনা খান পন্নি বলেন, ‘নারীরা কোনোভাবেই উপেক্ষিত নন। নারীদের সামর্থ আছে নিজেকে সমহিমায় প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু বিষয়টি সেভাবে হচ্ছে না। এখনও নারীরা নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। সামাজিকভাবে তাদের দমিয়ে রাখা হচ্ছে। এ প্রতিবন্ধকতা নারীদেরই অতিক্রম করতে হবে। আপ্রাণ চেষ্টায় নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নারীদের অগ্রগামী হতে প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন - আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেব। সেক্ষেত্রে নারী শিক্ষায় অগ্রবর্তী হয়ে আমাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

বক্তব্যে রওশন আরা মান্নান এমপি বলেন, ‘আজকের এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যদি বর্তমান সময়ের নারীদের রোল মডেল খুঁজলে উদাহরণ আমাদের সামনেই বিদ্যমান। তিনি হচ্ছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম। তিনি এখন দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান যুমনা গ্রুপের চেয়ারম্যান। তিনি ঘর সামলে নিয়ে রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত। যমুনা গ্রুপের এতোগুলো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতীয় পার্টির জন্য সময় বের করে নেন। অর্থ, সময়, মেধা ও পরিকল্পনা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের সেরা তিন নারী উদ্যোক্তার মধ্যে অ্যাড. সালমা ইসলাম অন্যতম। তাকেই রোল মডেল হিসেবে উদাহরণ রেখে পার্টির নারীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে।’


আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরা বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের নারীরাও এখন পিছিয়ে নেই। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের ছোঁয়া লাগছে। জাতীয় উন্নয়নে নারীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে নারীরা অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সংসদের স্পিকার নারী, বিরোধী দলীয় নেতা নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমা ইসলামের হাত ধরে দেশের নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।


আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শারমীন পারভীন লিজা, হাসনা হেনা, এসপি লিজা, নিগার সুলতানা রানি, লাকি বেগম, মোমেনা বেগম, জেসমীন নূর প্রিয়াংকা, কুমিল্লা উত্তরের সভাপতি ফেরদৌসি বকুল, তাজনীনা আহমেদ, সাদিয়া শারমীন, রওশন আখতার, লুবনা আহমেদ, মিথিলা রোয়াজা, আনোয়ারা, গোলেনূর, সম্পমী দাস, রেহানা আক্তার, রেহানা, কেয়া মাসুদ প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে করোনাকালে নারী নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব শীর্ষক শিরোনামে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যরা।

সোমবার বেলা ৩টায় দৈনিক যুগান্তর ভবনের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জেসমীন নূর প্রিয়াঙ্কার সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হেনা খান পন্নি, রওশন আরা মান্নান এমপিসহ জাতীয় মহিলা পার্টির নারী নেতাকর্মীরা।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি বলেন, নারী দিবসকে কেন্দ্র করে অনেকেই নারী-পুরুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে। অথচ আল্লাহর দরবারে এ নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। তিনি আমাদের মানুষ হিসেবে, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সমাজের কতিপয় স্বার্থান্বেষীরা নারীদের অগ্রগামিতা রুখতে অপচেষ্টায় লিপ্ত।

নারী হিসেবে সৃষ্টি করায় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এমপি সালমা ইসলাম। বলেন, নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। গর্ববোধ করি। কারণ বর্তমান সমাজে পুরুষের চাইতেই বেশি শ্রম দিচ্ছে নারী। কোথায় নেই নারীদের অবদান? এখন নারীদের পদচারণায় মুখর দেশের প্রতিটি সেক্টর। বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে আনতে প্রথম কাজগুলো করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ স্বাধীনের পর তিনি যতটুকু সময় পেয়েছেন নারীদের উন্নয়নে একটা ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়ে গেছেন। এখন তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একইভাবে নারীদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। আজ রাজনীতিতে নারীদের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে তার শেখ হাসিনার কল্যাণেই। শুধু রাজনীতিই নয়; নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি দেশের নারীদের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন।

বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান অনস্বীকার্য বলে জানান এমপি সালমা ইসলাম।

তিনি বলেন, এক সময় দেশের নারীরা যৌতুক আর বাল্যবিবাহের বলি ছিল। নারী নির্যাতন রোধে পারিবারিক আইন প্রণয়ন করেছেন তিনি। আজ নারীরা যৌতুকের যাতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে না। এই যে সংসদে সংরক্ষিত আসনে নারী, রাজনীতিতে নারীদের ক্ষমতায়ন এ সবই পল্লীবন্ধুর অবদান।

জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে এমপি সালমা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যরা এমন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবেন, যেন তার সমহিমায় উজ্জ্বল থাকেন। তারা প্রত্যেকে একে অপরের আত্মার আত্মীয়। তারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে মহান আল্লাহ অসন্তোষ হন। তাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, পুরুষরা তাদের সম্মানীয় সহকর্মী। মহান আল্লাহ তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পৃথিবীর সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হেনা খান পন্নি বলেন, নারীরা কোনোভাবেই উপেক্ষিত নন। নারীদের সামর্থ আছে নিজেকে সমহিমায় প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু বিষয়টি সেভাবে হচ্ছে না। এখনও নারীরা নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। সামাজিকভাবে তাদের দমিয়ে রাখা হচ্ছে। এ প্রতিবন্ধকতা নারীদেরই অতিক্রম করতে হবে। আপ্রাণ চেষ্টায় নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নারীদের অগ্রগামী হতে প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন - আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেব। সেক্ষেত্রে নারী শিক্ষায় অগ্রবর্তী হয়ে আমাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বক্তব্যে রওশন আরা মান্নান এমপি বলেন, আজকের এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যদি বর্তমান সময়ের নারীদের রোল মডেল খুঁজি তো, উদাহরণ আমাদের সামনেই বিদ্যমান। তিনি হচ্ছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম। তিনি এখন দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান যুমনা গ্রুপের চেয়ারম্যান। নারী হয়ে তিনি ঘর সামলে নিয়ে রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত। যমুনা গ্রুপের এতোগুলো প্রতিষ্ঠানের দায়িথ্ব পালন করে তিনি জাতীয় পার্টির জন্য সময় বের করে নেন। অর্থ, সময়, মেধা ও পরিকল্পনা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের সেরা তিন নারী উদ্যোক্তার মধ্যে অ্যাড. সালমা ইসলাম অন্যতম। তাকেই রোল মডেল হিসেবে উদাহরণ রেখে পার্টির নারীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরা বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের নারীরাও এখন পিছিয়ে নেই। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের ছোঁয়া লাগছে। জাতীয় উন্নয়নে নারীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে নারীরা অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সংসদের স্পিকার নারী, বিরোধী দলীয় নেতা নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমা ইসলামের হাত ধরে দেশের নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।


আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শারমীন পারভীন লিজা, হাসনা হেনা, এসপি লিজা, নিগার সুলতানা রানি, লাকি বেগম, মোমেনা বেগম, জেসমীন নূর প্রিয়াংকা, কুমিল্লা উত্তরের সভাপতি ফেরদৌসি বকুল, তাজনীনা আহমেদ, সাদিয়া শারমীন, রওশন আখতার, লুবনা আহমেদ, মিথিলা রোয়াজা, আনোয়ারা, গোলেনূর, সম্পমী দাস, রেহানা আক্তার, রেহানা, কেয়া মাসুদ প্রমুখ।

নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি গর্ববোধ করি: অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৮ মার্চ ২০২১, ০৬:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি গর্ববোধ করি: অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে যুগান্তর ভবনে সভায় বক্তব্য রাখছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি। ছবি: যুগান্তর

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, ‘আল্লাহর দরবারে নারী-পুরুষ নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। তিনি আমাদের মানুষ হিসেবে ও সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাহলে আমরা কেন নারী-পুরুষ বিভাজনে গিয়ে নিজেদের দুর্বল মনে করি!’

তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রথম স্ত্রী খাদিজার (রা.) নারী নেতৃত্ব আমাদের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে আছে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ উপলক্ষে ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’ শীর্ষক শিরোনামে আলোচনা সভার এসব কথা বলেন অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি।

সোমবার বেলা ৩টায় দৈনিক যুগান্তর ভবনের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় মহিলা পার্টির পক্ষ থেকে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জেসমীন নূর প্রিয়াঙ্কার সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হেনা খান পন্নি, রওশন আরা মান্নান এমপিসহ জাতীয় মহিলা পার্টির নারী নেতাকর্মীরা।

নারী হিসেবে সৃষ্টি করায় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এমপি সালমা ইসলাম। বলেন, ‘নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। গর্ববোধ করি। কারণ বর্তমান সমাজে পুরুষের চাইতেই বেশি শ্রম দিচ্ছে নারী। কোথায় নেই নারীদের অবদান? এখন নারীদের পদচারণায় মুখর দেশের প্রতিটি সেক্টর। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে নারীরাও।আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। এতো বিপুলসংখ্যক নারী যদি উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত না হয় তবে দেশ এগিয়ে যাবে কীভাবে? দেশের অর্ধেক জনশক্তি দিয়ে তো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা অসম্ভব।এই বাস্তব সত্যটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলেই আজ দেশের নারীরা পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হতে পারছেন। দেশের অর্থনীতির অন্যতম জনশক্তি এখন নারী। বিশেষকরে পোশাকশিল্প খাতে নারীরা এখন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।’

এমপি সালমা ইসলাম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে আনতে প্রথম কাজগুলো করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ স্বাধীনের পর তিনি যতটুকু সময় পেয়েছেন নারীদের উন্নয়নে একটা ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়ে গেছেন। এখন তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একইভাবে নারীদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। আজ রাজনীতিতে নারীদের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে তার শেখ হাসিনার কল্যাণেই। শুধু রাজনীতিই নয়; নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি দেশের নারীদের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন।’
 


বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান অনস্বীকার্য বলে জানান এমপি সালমা ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এক সময় দেশের নারীরা যৌতুক আর বাল্যবিবাহের বলি ছিল। নারী নির্যাতন রোধে পারিবারিক আইন প্রণয়ন করেছেন তিনি। আজ নারীরা যৌতুকের যাতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে না। এই যে সংসদে সংরক্ষিত আসনে নারী, রাজনীতিতে নারীদের ক্ষমতায়ন এ সবই পল্লীবন্ধুর অবদান।’

জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে এমপি সালমা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যরা এমন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবেন, যেন তার সমহিমায় উজ্জ্বল থাকেন। তারা প্রত্যেকে একে অপরের আত্মার আত্মীয়। তারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে মহান আল্লাহ অসন্তোষ হন। তাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, পুরুষরা তাদের সম্মানীয় সহকর্মী। মহান আল্লাহ তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন।’ 

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পৃথিবীর সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হেনা খান পন্নি বলেন, ‘নারীরা কোনোভাবেই উপেক্ষিত নন। নারীদের সামর্থ আছে নিজেকে সমহিমায় প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু বিষয়টি সেভাবে হচ্ছে না। এখনও নারীরা নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। সামাজিকভাবে তাদের দমিয়ে রাখা হচ্ছে। এ প্রতিবন্ধকতা নারীদেরই অতিক্রম করতে হবে। আপ্রাণ চেষ্টায় নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নারীদের অগ্রগামী হতে প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন - আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেব। সেক্ষেত্রে নারী শিক্ষায় অগ্রবর্তী হয়ে আমাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

বক্তব্যে রওশন আরা মান্নান এমপি বলেন, ‘আজকের এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যদি বর্তমান সময়ের নারীদের রোল মডেল খুঁজলে উদাহরণ আমাদের সামনেই বিদ্যমান। তিনি হচ্ছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম। তিনি এখন দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান যুমনা গ্রুপের চেয়ারম্যান। তিনি ঘর সামলে নিয়ে রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত। যমুনা গ্রুপের এতোগুলো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে তিনি জাতীয় পার্টির জন্য সময় বের করে নেন। অর্থ, সময়, মেধা ও পরিকল্পনা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের সেরা তিন নারী উদ্যোক্তার মধ্যে অ্যাড. সালমা ইসলাম অন্যতম। তাকেই রোল মডেল হিসেবে উদাহরণ রেখে পার্টির নারীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে।’


আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরা বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের নারীরাও এখন পিছিয়ে নেই। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের ছোঁয়া লাগছে। জাতীয় উন্নয়নে নারীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে নারীরা অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সংসদের স্পিকার নারী, বিরোধী দলীয় নেতা নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী।’ 

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমা ইসলামের হাত ধরে দেশের নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।


আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শারমীন পারভীন লিজা, হাসনা হেনা, এসপি লিজা, নিগার সুলতানা রানি, লাকি বেগম, মোমেনা বেগম, জেসমীন নূর প্রিয়াংকা, কুমিল্লা উত্তরের সভাপতি ফেরদৌসি বকুল, তাজনীনা আহমেদ, সাদিয়া শারমীন, রওশন আখতার, লুবনা আহমেদ, মিথিলা রোয়াজা, আনোয়ারা, গোলেনূর, সম্পমী দাস, রেহানা আক্তার, রেহানা, কেয়া মাসুদ প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে করোনাকালে নারী নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব শীর্ষক শিরোনামে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যরা।

সোমবার বেলা ৩টায় দৈনিক যুগান্তর ভবনের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জেসমীন নূর প্রিয়াঙ্কার সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হেনা খান পন্নি, রওশন আরা মান্নান এমপিসহ জাতীয় মহিলা পার্টির নারী নেতাকর্মীরা।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. সালমা ইসলাম এমপি বলেন, নারী দিবসকে কেন্দ্র করে অনেকেই নারী-পুরুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে।  অথচ আল্লাহর দরবারে এ নিয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। তিনি আমাদের মানুষ হিসেবে, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।  কিন্তু সমাজের কতিপয় স্বার্থান্বেষীরা নারীদের অগ্রগামিতা রুখতে অপচেষ্টায় লিপ্ত।  

নারী হিসেবে সৃষ্টি করায় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এমপি সালমা ইসলাম। বলেন, নারী হয়ে জন্ম নিয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। গর্ববোধ করি। কারণ বর্তমান সমাজে পুরুষের চাইতেই বেশি শ্রম দিচ্ছে নারী।  কোথায় নেই নারীদের অবদান? এখন নারীদের পদচারণায় মুখর দেশের প্রতিটি সেক্টর।  বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে আনতে প্রথম কাজগুলো করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ স্বাধীনের পর তিনি যতটুকু সময় পেয়েছেন নারীদের উন্নয়নে একটা ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়ে গেছেন।  এখন তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একইভাবে নারীদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।  আজ রাজনীতিতে নারীদের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে তার শেখ হাসিনার কল্যাণেই।  শুধু রাজনীতিই নয়; নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদান অবিস্মরণীয়।  তিনি দেশের নারীদের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন।          

বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান অনস্বীকার্য বলে জানান এমপি সালমা ইসলাম।

তিনি বলেন, এক সময় দেশের নারীরা যৌতুক আর বাল্যবিবাহের বলি ছিল।  নারী নির্যাতন রোধে পারিবারিক আইন প্রণয়ন করেছেন তিনি।  আজ নারীরা যৌতুকের যাতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে না।  এই যে সংসদে সংরক্ষিত আসনে নারী, রাজনীতিতে নারীদের ক্ষমতায়ন এ সবই পল্লীবন্ধুর অবদান।

জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে এমপি সালমা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় মহিলা পার্টির সদস্যরা এমন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবেন, যেন তার সমহিমায় উজ্জ্বল থাকেন।  তারা প্রত্যেকে একে অপরের আত্মার আত্মীয়।  তারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে মহান আল্লাহ অসন্তোষ হন। তাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, পুরুষরা তাদের সম্মানীয় সহকর্মী।  মহান আল্লাহ তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন। 
  
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পৃথিবীর সব নারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব হেনা খান পন্নি বলেন, নারীরা কোনোভাবেই উপেক্ষিত নন। নারীদের সামর্থ আছে নিজেকে সমহিমায় প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু বিষয়টি সেভাবে হচ্ছে না।  এখনও নারীরা নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। সামাজিকভাবে তাদের দমিয়ে রাখা হচ্ছে।  এ প্রতিবন্ধকতা নারীদেরই অতিক্রম করতে হবে।  আপ্রাণ চেষ্টায় নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে।  নারীদের অগ্রগামী হতে প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা।  নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন - আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেব।  সেক্ষেত্রে নারী শিক্ষায় অগ্রবর্তী হয়ে আমাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বক্তব্যে রওশন আরা মান্নান এমপি বলেন, আজকের এই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যদি বর্তমান সময়ের নারীদের রোল মডেল খুঁজি তো, উদাহরণ আমাদের সামনেই বিদ্যমান।  তিনি হচ্ছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম। তিনি এখন দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান যুমনা গ্রুপের চেয়ারম্যান। নারী হয়ে তিনি ঘর সামলে নিয়ে রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত।  যমুনা গ্রুপের এতোগুলো প্রতিষ্ঠানের দায়িথ্ব পালন করে তিনি জাতীয় পার্টির জন্য সময় বের করে নেন।  অর্থ, সময়, মেধা ও পরিকল্পনা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের সেরা তিন নারী উদ্যোক্তার মধ্যে অ্যাড. সালমা ইসলাম অন্যতম।  তাকেই রোল মডেল হিসেবে উদাহরণ রেখে পার্টির নারীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরা বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের নারীরাও এখন পিছিয়ে নেই।  সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের ছোঁয়া লাগছে। জাতীয় উন্নয়নে নারীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।  বাংলাদেশে নারীরা অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সংসদের স্পিকার নারী, বিরোধী দলীয় নেতা নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমা ইসলামের হাত ধরে দেশের নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।

 
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শারমীন পারভীন লিজা, হাসনা হেনা, এসপি লিজা, নিগার সুলতানা রানি, লাকি বেগম, মোমেনা বেগম, জেসমীন নূর প্রিয়াংকা, কুমিল্লা উত্তরের সভাপতি ফেরদৌসি বকুল, তাজনীনা আহমেদ, সাদিয়া শারমীন, রওশন আখতার, লুবনা আহমেদ, মিথিলা রোয়াজা, আনোয়ারা, গোলেনূর, সম্পমী দাস, রেহানা আক্তার, রেহানা, কেয়া মাসুদ প্রমুখ। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন