আ’লীগ-বিএনপির মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মানায় না: জিএম কাদের
jugantor
আ’লীগ-বিএনপির মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মানায় না: জিএম কাদের

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৬ মার্চ ২০২১, ১৭:৩০:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জনবন্ধু জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জনবন্ধু জিএম কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মানায় না। তারা ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কবর দিয়েছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে তারা যেভাবে সংবিধান সংশোধন করেছে, তাতে দেশে গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ নেই। দেশে আইনের শাসন নেই, সুশাসন নেই। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ, জননিরাপত্তার অভাব সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে পার্টির নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় সদস্যদের সাংগঠনিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দলীয়করণ করেছে, যাকে স্বৈরতন্ত্র বলা যায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয়করণে দেশের মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করলেই চাকরি ও ব্যবসায় সুযোগ আছে, সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার নেই।

তিনি বলেন, হিসাব মতো দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু যারা সরকারি দল করে তাদের আয় বেড়েছে হাজার হাজার গুণ। কিন্তু দেশের মানুষ মাথাপিছু আয়ের সুফল থেকে বঞ্চিত।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সৃষ্ট বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, তারা রাজনীতি করে ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করার লক্ষ্য নিয়ে। লুটপাট করে তারা এত টাকার মালিক হয়েছে যে, ছোটখাটো নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোটি কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নামে।

যারা রিকশা ভাড়া দিতে পারতো না, তারা এখন পাজেরো গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যারা বাসা ভাড়া দিতে পারতো না, তারা অসংখ্য বাড়ির মালিক। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা কালোটাকার সাথে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ কলুষিত করেছে।

এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে সংবিধান সংশোধন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যারা সরকার গঠন করে সেই দলের কোনো এমপি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারে না ৭০ ধারার কারণে।

এতে প্রধানমন্ত্রী যা চান, তাই পাস হয়। তার ইচ্ছার বাইরে কিছুই হয় না। তাই দেশের নির্বাহী বিভাগের সাথে আইন সভা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। আর বিচার বিভাগের প্রায় ৯৯ ভাগই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। তাই সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দলীয়করণের কারণে একনায়কতন্ত্র এখন স্বৈরতন্ত্র পর্যায়ে।

জিএম কাদের আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টির ওপর হামলা ও মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে। অফিস দখল করেছে, গুণ্ডা ও পুলিশ পাঠিয়ে সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দিয়েছে।

জাতীয় পার্টির ওপর বিএনপি যে অত্যাচার করেছে, আল্লাহর বিচারে তারা এখন দশগুণ বেশি ফিরে পাচ্ছে। আবার আওয়ামী ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, জাতীয় পার্টিকে ভাঙনের মুখে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউই জাতীয় পার্টির বন্ধু নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কখনই জোর করে ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। তখনকার রাষ্ট্রপতি দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করে রেডিও-টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন।

তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পল্লীবন্ধুকে জেলে দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। তারপরও জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। পল্লীবন্ধু ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জেলে থেকেই ৫টি করে আসনে জয়ী হয়েছিলেন।

দেশের মানুষ সব সময় পল্লীবন্ধু ও জাতীয় পার্টির সাথে ছিল, এখনো আছে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, দলকে আরও শক্তিশালী করুন, আগামী নির্বাচনে সব চেয়ে সম্ভাবনাময় পার্টি হচ্ছে জাতীয় পার্টি।

এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, আওয়ামী লীগ লুটপাটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও জাতির পিতাকে অসম্মান করেছে। কারণ শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়নি। দেশে এখন আর বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই। লুটপাটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাখো-কোটি টাকা পাচার করেছে। দেশে আইনের শাসন নেই, লেখক মুশতাক কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। নির্যাতনের শিকার কার্টুনিস্ট কিশোর জেল থেকে মুক্তি পেলেও এখনো অসুস্থ। রাজনীতি করার অধিকার যেন শুধুই আওয়ামী লীগের।

তিনি বলেন, বিএনপি ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। হাওয়া ভবন তৈরি করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিল। পল্লীবন্ধুর উপজেলা পরিষদসহ সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থগিত করেছিল। পল্লীবন্ধুর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি কোনো জোটে নেই। আগামী নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করবে জাতীয় পার্টি। দেশের মানুষের এখনো জাতীয় পার্টির ওপর আস্থা আছে। তাই দলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

এ সময় বক্তৃতা করেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, মীর আবদুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, মোস্তফা আল মাহমুদ, এইচএম শাহরিয়ার আসিফসহ নেতারা।

আ’লীগ-বিএনপির মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মানায় না: জিএম কাদের

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৬ মার্চ ২০২১, ০৫:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জনবন্ধু জিএম কাদের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জনবন্ধু জিএম কাদের।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জনবন্ধু জিএম কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা মানায় না। তারা ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কবর দিয়েছে। 

সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে তারা যেভাবে সংবিধান সংশোধন করেছে, তাতে দেশে গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ নেই। দেশে আইনের শাসন নেই, সুশাসন নেই। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ, জননিরাপত্তার অভাব সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে পার্টির নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় সদস্যদের সাংগঠনিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দলীয়করণ করেছে, যাকে স্বৈরতন্ত্র বলা যায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয়করণে দেশের মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করলেই চাকরি ও ব্যবসায় সুযোগ আছে, সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার নেই।

তিনি বলেন, হিসাব মতো দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু যারা সরকারি দল করে তাদের আয় বেড়েছে হাজার হাজার গুণ। কিন্তু দেশের মানুষ মাথাপিছু আয়ের সুফল থেকে বঞ্চিত।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সৃষ্ট বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, তারা রাজনীতি করে ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করার লক্ষ্য নিয়ে। লুটপাট করে তারা এত টাকার মালিক হয়েছে যে, ছোটখাটো নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোটি কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নামে। 

যারা রিকশা ভাড়া দিতে পারতো না, তারা এখন পাজেরো গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যারা বাসা ভাড়া দিতে পারতো না, তারা অসংখ্য বাড়ির মালিক। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা কালোটাকার সাথে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ কলুষিত করেছে।

এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে সংবিধান সংশোধন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যারা সরকার গঠন করে সেই দলের কোনো এমপি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারে না ৭০ ধারার কারণে। 

এতে প্রধানমন্ত্রী যা চান, তাই পাস হয়। তার ইচ্ছার বাইরে কিছুই হয় না। তাই দেশের নির্বাহী বিভাগের সাথে আইন সভা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। আর বিচার বিভাগের প্রায় ৯৯ ভাগই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। তাই সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দলীয়করণের কারণে একনায়কতন্ত্র এখন স্বৈরতন্ত্র পর্যায়ে।

জিএম কাদের আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টির ওপর হামলা ও মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে। অফিস দখল করেছে, গুণ্ডা ও পুলিশ পাঠিয়ে সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। 

জাতীয় পার্টির ওপর বিএনপি যে অত্যাচার করেছে, আল্লাহর বিচারে তারা এখন দশগুণ বেশি ফিরে পাচ্ছে। আবার আওয়ামী ক্ষমতায় গিয়ে জাতীয় পার্টির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, জাতীয় পার্টিকে ভাঙনের মুখে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কেউই জাতীয় পার্টির বন্ধু নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কখনই জোর করে ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। তখনকার রাষ্ট্রপতি দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করে রেডিও-টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। 

তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পল্লীবন্ধুকে জেলে দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। তারপরও জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে জয়ী হয়েছে। পল্লীবন্ধু ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জেলে থেকেই ৫টি করে আসনে জয়ী হয়েছিলেন। 

দেশের মানুষ সব সময় পল্লীবন্ধু ও জাতীয় পার্টির সাথে ছিল, এখনো আছে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, দলকে আরও শক্তিশালী করুন, আগামী নির্বাচনে সব চেয়ে সম্ভাবনাময় পার্টি হচ্ছে জাতীয় পার্টি।

এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, আওয়ামী লীগ লুটপাটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও জাতির পিতাকে অসম্মান করেছে। কারণ শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়নি। দেশে এখন আর বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই। লুটপাটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাখো-কোটি টাকা পাচার করেছে। দেশে আইনের শাসন নেই, লেখক মুশতাক কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। নির্যাতনের শিকার কার্টুনিস্ট কিশোর জেল থেকে মুক্তি পেলেও এখনো অসুস্থ। রাজনীতি করার অধিকার যেন শুধুই আওয়ামী লীগের।

তিনি বলেন, বিএনপি ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। হাওয়া ভবন তৈরি করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিল। পল্লীবন্ধুর উপজেলা পরিষদসহ সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থগিত করেছিল। পল্লীবন্ধুর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি কোনো জোটে নেই। আগামী নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করবে জাতীয় পার্টি। দেশের মানুষের এখনো জাতীয় পার্টির ওপর আস্থা আছে। তাই দলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

এ সময় বক্তৃতা করেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, মীর আবদুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, মোস্তফা আল মাহমুদ, এইচএম শাহরিয়ার আসিফসহ নেতারা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর