মওদুদের লাশ সামনে রেখে যা বললেন ফখরুল 
jugantor
মওদুদের লাশ সামনে রেখে যা বললেন ফখরুল 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ মার্চ ২০২১, ১৪:১০:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনের দুপাশের সড়ক তখন কানায় কানায় পূর্ণ। লোকে লোকারন্য বিএনপির রাজনীতির এই আঁতুড়ঘর। দূর দূরান্ত থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা এসেছেন প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। মওদুদ আহমদের লাশবাহী কফিন এলো বেলা ১১ টার কিছু সময় পর। প্রিয় নেতার জানাজায় অংশ নিতে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন। লাশ আসার পর সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি। ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছেন মওদুদের সহযোদ্ধারা। কারো কারো চোখে কোন বেয়ে পানি বেরিয়ে আসছিল।

এমতাবস্থায় জানাজার আগমুহূর্তে দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার লাশ সামনে রেখে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিতে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারাক্রান্ত ফখরুল কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এসময়।

নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে ফখরুল বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আমাদের একজন অভিভাবক ছিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ও আমাদের দল শূন্যতা অনুভব করছি। আজকে আপনারা সবাই দেখছেন এই বরেণ্য ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষ এসেছেন। তারা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আমরা পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে দোয়া করব— তিনি যেন তার সব গুনাহ মাফ করে দিয়ে তাকে বেহেশত নসিব করেন।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একজন অভিভাবক ছিলেন। তার এ প্রয়াণে জাতির বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর শূন্যতা অনুভব করছি। যখন আমরা এক রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি, তখন তার শূন্যতা আরও বেশি অনুভব করব।

দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা মওদুদকে হারিয়ে শোকাহত মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমাদের নেতা ও দেশের অন্যতম জাতীয় নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের জানাজায় শরিক হয়েছি। যিনি ছাত্রজীবন থেকে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। আজ তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, রাজনীতিক কিংবদন্তি ছিলেন। তিনি অনেক পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিটি পরিবর্তনেই তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী হয়েছেন। প্রায় ৮১ বছর বয়সে তিনি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তার এই চলে যাওয়া শুধু বিএনপির জন্য নয়, সমগ্র দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান সালাউদ্দিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম নীরব, মোরতাজুল করিম বাদরু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. মাইনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সেখানে প্রবাসীরা তার প্রথম জানাজায় অংশ নেন। পরে মওদুদের মরদেহ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে মির্জা ফখরুলসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা লাশ গ্রহণ করেন।

আজ সকাল সোয়া ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মওদুদ আহমদের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সকাল ১০টা পর্যন্ত মরহুমের মরদেহ রাখা হয় সেখানে। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দল ও সংগঠন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মওদুদ আহমদের মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিমকোর্টে প্রাঙ্গণে। সেখান থেকে নয়াপল্টন কার্যালয়ে তার লাশ নেওয়া হয়। সেখান থেকে জানাজা শেষে লাশ নেওয়া হচ্ছে নোয়াখালীতে। বসুরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মাঠে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে।

মওদুদের লাশ সামনে রেখে যা বললেন ফখরুল 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ মার্চ ২০২১, ০২:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনের দুপাশের সড়ক তখন কানায় কানায় পূর্ণ।  লোকে লোকারন্য বিএনপির রাজনীতির এই আঁতুড়ঘর। দূর দূরান্ত থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা এসেছেন প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।  মওদুদ আহমদের লাশবাহী কফিন এলো বেলা ১১ টার কিছু সময় পর।  প্রিয় নেতার জানাজায় অংশ নিতে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন।  লাশ আসার পর সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি। ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছেন মওদুদের সহযোদ্ধারা।  কারো কারো চোখে কোন বেয়ে পানি বেরিয়ে আসছিল। 

এমতাবস্থায় জানাজার আগমুহূর্তে দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার লাশ সামনে রেখে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিতে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  ভারাক্রান্ত ফখরুল কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এসময়।  

নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে ফখরুল বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আমাদের একজন অভিভাবক ছিলেন।  আমি ব্যক্তিগতভাবে ও আমাদের দল শূন্যতা অনুভব করছি। আজকে আপনারা সবাই দেখছেন এই বরেণ্য ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষ এসেছেন। তারা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আমরা পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে দোয়া করব— তিনি যেন তার সব গুনাহ মাফ করে দিয়ে তাকে বেহেশত নসিব করেন।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একজন অভিভাবক ছিলেন। তার এ প্রয়াণে জাতির বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর শূন্যতা অনুভব করছি। যখন আমরা এক রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি, তখন তার শূন্যতা আরও বেশি অনুভব করব।

দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা মওদুদকে হারিয়ে শোকাহত মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমাদের নেতা ও দেশের অন্যতম জাতীয় নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের জানাজায় শরিক হয়েছি। যিনি ছাত্রজীবন থেকে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন।  তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। আজ তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, রাজনীতিক কিংবদন্তি ছিলেন। তিনি অনেক পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।  প্রতিটি পরিবর্তনেই তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী হয়েছেন। প্রায় ৮১ বছর বয়সে তিনি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তার এই চলে যাওয়া শুধু বিএনপির জন্য নয়, সমগ্র দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম,  যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান সালাউদ্দিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম নীরব, মোরতাজুল করিম বাদরু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. মাইনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সেখানে প্রবাসীরা তার প্রথম জানাজায় অংশ নেন। পরে মওদুদের মরদেহ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে মির্জা ফখরুলসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা লাশ গ্রহণ করেন।

আজ সকাল সোয়া ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মওদুদ আহমদের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সকাল ১০টা পর্যন্ত মরহুমের মরদেহ রাখা হয় সেখানে। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দল ও সংগঠন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মওদুদ আহমদের মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিমকোর্টে প্রাঙ্গণে। সেখান থেকে নয়াপল্টন কার্যালয়ে তার লাশ নেওয়া হয়। সেখান থেকে জানাজা শেষে লাশ নেওয়া হচ্ছে নোয়াখালীতে। বসুরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মাঠে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মওদুদ আহমদ আর নেই