খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ‘নোংরা’ রাজনীতি করছে

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ‘নোংরা’ রাজনীতি করছে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অবিলম্বে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে দলটি বলেছে, অন্যথায় কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তার দায়দায়িত্ব পুরোটাই সরকারকে বহন করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাবেক সংসদ সদস্য কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিশ প্রমুখ। 

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কারাগারে ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি। তাতে সারা দেশ, জাতি এবং আমরা উৎকণ্ঠিত। সরকারকে বলব, এখনও সময় আছে অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাকে তার পছন্দনীয় চিকিৎসক দ্বারা এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তার দায়দায়িত্ব পুরোটাই সরকারকে বহন করতে হবে। এ বিষয়ে নোংরা রাজনীতি না করে সোজা পথে তাকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সংবাদপত্র সূত্রে জানতে পেরেছি সরকার কর্তৃক গঠনকৃত একটি মেডিকেল টিম দেশনেত্রীকে পরীক্ষা করতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক মালিহা রশিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি মেডিকেল টিম তাকে দেখতে যান। তিনি (খালেদা জিয়া) বেশকিছু ব্যাধিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে এক্যুইট রিউমেটিক আর্থারাইটিস তাকে বেশ কষ্ট দিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চিকিৎসকরা যে পরীক্ষাগুলো করেছেন সেখানে এমআরআই ও অন্যান্য যেসব বিশেষায়িত পরীক্ষাগুলো করা দরকার তা করা হয়নি। মাঝখানে তাকে একবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল, সেখানে এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের যেসব পরীক্ষাগুলো করার জন্য ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন সেটা হচ্ছে তার একটা বিশেষ ধরনের এমআরআই  (স্পাইনাল) করা জরুরি। এছাড়া তার হোল এবডুমিনের আল্টাসোনোগ্রাফি করা প্রয়োজন। তার রক্তের বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সে জন্য তারা (চিকিৎসকরা) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরকে দেখানোর জন্য সুপারিশ করেছেন। সেগুলো হচ্ছে- ইমুটোলজিস্ট, অর্থালমোজিস্ট চোখের জন্য (তার চোখ লাখ হয়ে গেছে), ফিজিক্যাল মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন এবং ইন্টারন্যাল মেডিসিন। এসব বিশেষজ্ঞদের তাকে দেখানো জরুরি বলা হয়েছে। তারা (ডাক্তার) অতিদ্রুত বিশেষ এমআরআই করার জন্য বলেছেন।  তারা অবিলম্বে তার পছন্দনীয় হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করেছেন। বিশেষ করে কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা ও এমআরআই পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। অথচ এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য আমাদের কাছে ও জাতির সামনে দেননি।

মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকরা কারাগারে দেশনেত্রীর জন্য যে বিছানা তা উপযোগী নয় বলেছেন। সে জন্য অর্থোপেডিক বেডের সুপারিশ তারা করেছিলেন। তাও করা হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন এ দেশের গণমানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। মিথ্যা সাজানো মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাকে ও তার দলকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া।

তিনি বলেন, গণবিচ্ছিন্ন ও রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে সরকার। তাই ২০১৪-এর মতো একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও ক্ষমতা দখলই হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য। আইনের বিধানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে দেশনেত্রীকে জামিন না দেয়ায় কারাগারে তার প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সুচিকিৎসা থেকে তাকে বঞ্চিত করা এটা অমানবিক।

মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকরা তাকে (খালেদা জিয়া) থেরাপি দেয়ার সুপারিশ করেছেন যা কারাগারে সম্ভব নয়।  কারাগারের যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থী। পরিত্যক্ত একটা কারাগারে রাখা হয়েছে যেটা স্যাঁতসেঁতে।

দলের নেতারা ও পরিবারের সদস্যদের গত ১০ দিন ধরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে না দেয়ার ঘটনাকে ‘হীন উদ্দেশ্যমূলক’ বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। 

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের এ বিষয়ে মন্তব্য ও কটূক্তি সব শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং চক্রান্তের বহিঃকাশ। তারা (সরকার) দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে ও আসন্ন সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। এত ভয় কেন?

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে মাঠে নামতে দিন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দিন। যথেচ্ছা পুলিশ ব্যবহার বন্ধ করুন। দেখুন আপনারা কোথায় দাঁড়াতে পারেন। রাজনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সাহস আপনাদের নেই।