সময় হয়েছে আঘাতের প্রতিঘাত করার: হানিফ (ভিডিও)
jugantor
সময় হয়েছে আঘাতের প্রতিঘাত করার: হানিফ (ভিডিও)

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৭:২৬:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ধর্মের নামে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও ভাংচুর করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এখন থেকে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিচ্ছি সরকারের পাশে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার। সময় হয়েছে আঘাতের প্রতিঘাত করার।

বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আঘাত এসেছে, সময় হয়েছে প্রতিঘাত করার, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ধর্মের নামে হেফাজত অধর্মের কাজ করছে, রিসোর্টে নারী নিয়ে ধরা পড়েছে হেফাজতের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক। তাকে রিসোর্ট থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ অফিস, আওয়ামী লীগ যুবলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। আমি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের মামলা করার নির্দেশ দিয়ে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, হেফাজত বিএনপি জামায়াতের যেসব সন্ত্রাসীরা এসব ভাংচুর জ্বালাও-পোড়াও করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট নাম ঠিকানা সংগ্রহ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আসামি করুন।

তিনি বলেন, যেসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের নামে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব। এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের নাম করে অধর্মের কাজ করছে। এসব ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে হবে। এই ধর্ম ব্যবসার দোহাই দিয়ে যারা ভাংচুর করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করা মানে সব নেতাকর্মীর বাড়িঘরে হামলা করা। যারা এ কাজ করেছে কাউকে রেহাই দেয়া হবে না।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে হানিফ বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাকালীন দুর্যোগের সময় মাস্ক পরে মানুষকে সহায়তা করতে হবে।

পরে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হেফাজতের হামলা ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের মোগড়াপারা চৌরাস্তা প্রধান কার্যালয়, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি, তার শ্বশুরবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনির বাড়ি পরিদর্শন করেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস এমপি, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দীঘিরপার এলাকায় অবস্থিত রয়েল রিসোর্টে এক নারীকে নিয়ে উঠেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন রিসোর্টে নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখে। মামুনুল হক দাবি করেন ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে পুলিশ গেয়ে তাকে উদ্ধার করে।

এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ প্রচার করেন। তখন হেফাজতের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে রিসোর্টে ভাংচুর করে হেফাজত নেতাকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর চালায়।

সময় হয়েছে আঘাতের প্রতিঘাত করার: হানিফ (ভিডিও)

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৭ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ধর্মের নামে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, সারা দেশে  জ্বালাও-পোড়াও ভাংচুর করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এখন থেকে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিচ্ছি সরকারের পাশে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার। সময় হয়েছে আঘাতের প্রতিঘাত করার।

বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ অফিস, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আঘাত এসেছে, সময় হয়েছে প্রতিঘাত করার, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ধর্মের নামে হেফাজত অধর্মের কাজ করছে, রিসোর্টে নারী নিয়ে ধরা পড়েছে হেফাজতের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক। তাকে রিসোর্ট থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ অফিস, আওয়ামী লীগ যুবলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। আমি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের মামলা করার নির্দেশ দিয়ে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, হেফাজত বিএনপি জামায়াতের যেসব সন্ত্রাসীরা এসব ভাংচুর জ্বালাও-পোড়াও করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট নাম ঠিকানা সংগ্রহ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আসামি করুন।

তিনি বলেন, যেসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের নামে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব। এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের নাম করে অধর্মের কাজ করছে। এসব ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে হবে। এই ধর্ম ব্যবসার দোহাই দিয়ে যারা ভাংচুর করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করা মানে সব নেতাকর্মীর বাড়িঘরে হামলা করা। যারা এ কাজ করেছে কাউকে রেহাই দেয়া হবে না।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে হানিফ বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনাকালীন দুর্যোগের সময় মাস্ক পরে মানুষকে সহায়তা করতে হবে।

পরে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হেফাজতের হামলা ভাংচুরে ক্ষতিগ্রস্ত সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের মোগড়াপারা চৌরাস্তা প্রধান কার্যালয়, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি,  তার শ্বশুরবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনির বাড়ি পরিদর্শন করেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস এমপি, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দীঘিরপার এলাকায় অবস্থিত রয়েল রিসোর্টে এক নারীকে নিয়ে উঠেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন রিসোর্টে নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে রাখে। মামুনুল হক দাবি করেন ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে পুলিশ গেয়ে তাকে উদ্ধার করে।

এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ প্রচার করেন। তখন হেফাজতের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে রিসোর্টে ভাংচুর করে হেফাজত নেতাকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর চালায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন