'সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে'
jugantor
'সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে'

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৩ মে ২০২১, ১৬:৪৬:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে যে মাস্টারপ্ল্যান জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে, এতে উদ্যানের কিছু গাছ কাটা হতে পারে। কিন্তু সরকারবিরোধী শক্তিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশ্ববর্তী নির্বাচনী অফিসে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

করোনা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেৃতত্বে করোনার মধ্যেও বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নশীল দেশ। সমৃদ্ধির দেশ হিসাবে এগিয়ে চলার কথা তুলে ধরেন।

সরকারবিরোধী সেই অপশক্তি বিএনপি-জামায়াতসহ অতি বাম, অতি ডানপন্থীদের দিকে ইঙ্গিত করে এসএম কামাল বলেন, সেই অপশক্তি আজকে আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা মানে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা মানে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই মির্জা ফখরুলরা এবং জামায়াত হেফাজতে ইসলাম নামে একটি সংগঠনকে দাঁড় করিয়েছে। আসলে এরা ইসলামের হেফাজতকারী না। এরা বাবুনগরী-মামুনুল হকদের সামনে রেখে তাণ্ডব তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চেয়েছেন। আমাদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর হামলা করে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছেন বলে উল্লেখ করেন এসএম কামাল।

তিনি বলেন, এই শক্তি আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে যে মাস্টারপ্ল্যান আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুই একটি গাছ কাটা হতে পারে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন এক হাজার নতুন গাছ রোপণ করার জন্য।শেখ হাসিনা ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক কোটির বেশি গাছ লাগানো জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ও সরকারিভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এক কোটির বেশি গাছ রোপণ হয়েছে শেখ হাসিনার নির্দেশে বলে দাবি করেন।

এসএম কামাল বলেন, আজকে নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই পরিবেশবাদীরা তো কথা বলেন নাই? যেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১৫ একর জমি দখল করে জিয়াউর রহমান শিশু পার্ক করলেন? সেদিন তো কথা বলেন নাই, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে? যেদিন ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানো, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর অবরোধের নামে যে শতশত গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড করা হয়েছে? সেদিন কিন্তু পরিবেশবাদীরা কোনো কথা বলেন নাই!

‘কিন্তু আজকে তারা নতুন করে কথা বলছেন।কারণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন বাংলার জনগণ। এই সোহরওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির সামনে স্বাধীনতার চূড়ার দিক-নির্দেশনা ঘোষণা করেছিলেন। এই সোহরায়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম এসেছিলেন জনতার কাছে ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী আর বঙ্গবন্ধু বক্তব্য রেখেছেন।

‘সেই জায়গাকে ঘিরে যখন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সেই ক্ষেত্রে আজকে দুই একটি গাছ কাটা হতে পারে, তার বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। সেখানে কোনো খাবারের দোকান করা হয়নি, সেখানে কোনো রুটির দোকান ভাতের দোকান করা হয়নি।

আজকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এসএম কামাল বলেন, কারণ আমাদের নেত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার পথকে মসৃণ করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসসহ উপ-কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

'সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে'

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৩ মে ২০২১, ০৪:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে
আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে যে মাস্টারপ্ল্যান জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে, এতে উদ্যানের কিছু গাছ কাটা হতে পারে। কিন্তু সরকারবিরোধী শক্তিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশ্ববর্তী নির্বাচনী অফিসে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

করোনা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেৃতত্বে করোনার মধ্যেও বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নশীল দেশ। সমৃদ্ধির দেশ হিসাবে এগিয়ে চলার কথা তুলে ধরেন।

সরকারবিরোধী সেই অপশক্তি বিএনপি-জামায়াতসহ অতি বাম, অতি ডানপন্থীদের দিকে ইঙ্গিত করে এসএম কামাল বলেন, সেই অপশক্তি আজকে আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা মানে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা মানে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই মির্জা ফখরুলরা এবং জামায়াত হেফাজতে ইসলাম নামে একটি সংগঠনকে দাঁড় করিয়েছে। আসলে এরা ইসলামের হেফাজতকারী না। এরা বাবুনগরী-মামুনুল হকদের সামনে রেখে তাণ্ডব তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চেয়েছেন। আমাদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর হামলা করে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছেন বলে উল্লেখ করেন এসএম কামাল।

তিনি বলেন, এই শক্তি আজকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে যে মাস্টারপ্ল্যান আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুই একটি গাছ কাটা হতে পারে। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন এক হাজার নতুন গাছ রোপণ করার জন্য।শেখ হাসিনা ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক কোটির বেশি গাছ লাগানো জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ও সরকারিভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এক কোটির বেশি গাছ রোপণ হয়েছে শেখ হাসিনার নির্দেশে বলে দাবি করেন।

এসএম কামাল বলেন, আজকে নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই পরিবেশবাদীরা তো কথা বলেন নাই? যেদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১৫ একর জমি দখল করে জিয়াউর রহমান শিশু পার্ক করলেন? সেদিন তো কথা বলেন নাই, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে? যেদিন ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানো, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর অবরোধের নামে যে শতশত গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড করা হয়েছে? সেদিন কিন্তু পরিবেশবাদীরা কোনো কথা বলেন নাই!

‘কিন্তু আজকে তারা নতুন করে কথা বলছেন।কারণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন বাংলার জনগণ। এই সোহরওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির সামনে স্বাধীনতার চূড়ার দিক-নির্দেশনা ঘোষণা করেছিলেন। এই সোহরায়ার্দী উদ্যানে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী  আমাদের মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম এসেছিলেন জনতার কাছে ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী আর বঙ্গবন্ধু বক্তব্য রেখেছেন।

‘সেই জায়গাকে ঘিরে যখন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, সেই ক্ষেত্রে আজকে দুই একটি গাছ কাটা হতে পারে, তার বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। সেখানে কোনো খাবারের দোকান করা হয়নি, সেখানে কোনো রুটির দোকান ভাতের দোকান করা হয়নি।

আজকে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এসএম কামাল বলেন, কারণ আমাদের নেত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার পথকে মসৃণ করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসসহ উপ-কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন