কারাগার থেকে ফিরে ফখরুল

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও উদ্বেগজনক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

ফখরুল
কারাগার থেকে ফিরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘আগের চেয়েও খারাপ এবং তা উদ্বেগজনক’ বলে দাবি করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার বিকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করে এসে এই দাবি করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ ও উদ্বেগজনক। মেডিকেল বোর্ডের দেয়া ওষুধে তার কাজ হচ্ছে না।

গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সাহসের সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। আজকে আমরা তাকে যতদূর দেখেছি, তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। তিনি যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন, সেখানে রেখে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। তার পছন্দ ইউনাইটেড হাসপাতাল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বাম হাত আস্তে আস্তে শক্ত হয়ে যাচ্ছে। বাম হাতের ওজনও বেড়ে গেছে। বাম পা থেকে শুরু করে গোটা বাম দিক পেছনে পর্যন্ত ব্যথা বেড়ে গেছে। এখন সাধারণভাবে হাঁটাচলা করাও তার জন্য মুশকিল হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুপুরে ডাক্তাররাও বলেছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় তার প্যারালাইসিসের মতো হয়ে যেতে পারে। তার ডান চোখ লাল হয়ে গেছে। ডাক্তাররা আজও বলেছেন, তার যে অসুখ, এটা বেড়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তখনও বলেছি, এখনও বলছি, অবিলম্বে তিনি (খালেদা জিয়া) যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন, সে হাসপাতালে রেখে বিশেষভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এটা সরকারের দায়িত্ব। এর যদি কোনও ব্যত্যয় ঘটে বা কোনও রকমের ক্ষতি হয়, তার দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

এর আগে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান।

গত ১৯ এপ্রিল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ফখরুলসহ এ তিন নেতা। কারাগারে যাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আইজি প্রিজন না থাকায় সাক্ষাৎ হবে না। তবে পরের বার অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হবে না।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জারিমানা করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। প্রথম শ্রেণির কারাবন্দি হিসেবে বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন।

কারাবন্দির পর থেকেই খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন বিএনপির নেতারা।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter