স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলবেন বাবুনগরী
jugantor
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলবেন বাবুনগরী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ জুলাই ২০২১, ২২:৩৬:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলবেন বাবুনগরী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন আলোচিত ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

সোমবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার পর মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় যান তিনি। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তারা।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার নেতা-কর্মীদের মুক্তিসহ কয়েকটি ইস্যুতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হেফাজতে সূত্রে জানা গেছে, এতে কারাবন্দি নেতাদের ঈদুল আজহার আগে মুক্তি চাওয়া হবে।

সূত্র জানিয়েছে, আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসায় শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন বাবুনগরী। ১৫ জুলাই আল্লামা শফী হত্যা মামলার বিষয়ে পরবর্তী রায় দেবে আদালত। আজকের বৈঠকে এ বিষয়টিগুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর ডায়াবেটিস, প্রেশারসহ বিভিন্ন রোগের কারণে প্রায় সময় অসুস্থ থাকেন জুনায়েদ বাবুনগরী। এর মধ্যে গত মে মাসে তার ব্যক্তিগত খাদেম (সেবক) মাওলানা ইনআমুল হাসান ফারুকীকে গ্রেফতার করা হলে আরও ভেঙে পড়েন তিনি।

ইনআমুল আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা ও গত ২৬ মার্চ হাটহাজারী থানা ভবন, ভূমি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাসহ দুইটি মামলার আসামী। ওই দুই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গত ২৭ জুন সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাবুনগরী বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগসহ উচ্চতর ডায়াবেটিস, প্রেশার ইত্যাদি রোগে ভুগছি। তিন বেলায় দৈনিক আমার অর্ধশত ট্যাবলেট খেতে হয় এবং ইনসুলিন নিতে হয়। খাদেমদের সহযোগিতা ছাড়া একাকী চলাফেরা করতে পারি না। আমার ব্যক্তিগত খাদেম (সেবক) মাওলানা ইনআমুল হাসান ফারুকীকেও সম্পূর্ণ বিনাদোষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে জেলে আটক থাকায় ওষুধ সেবনসহ নানা কাজে আমি যারপরনাই কষ্ট পাচ্ছি। শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে আমার সেবক ইনআমুল হাসানেরও মুক্তি চাচ্ছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াও খাদেম ইনআমের মুক্তি- এ দু’টি বিষয়ে বাবুনগরীর পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হবে। এছাড়া দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দিতে এবং সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে জোর দাবি জানাবেন বাবুনগরী।

প্রসঙ্গত, হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আজগর আলী হসপিটালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর আগের দিন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি মহাপরিচালকের পদ ছাড়েন।

পরে গত ১৭ ডিসেম্বর আহমদ শফীর শ্যালক মইন উদ্দিন চট্টগ্রামের আদালতে মামলা করেন। মামলায় ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।

গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল তৃতীয় জজ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এতে হেফাজতের বর্তমান আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব নাসির উদ্দিন মুনিরসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলবেন বাবুনগরী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ জুলাই ২০২১, ১০:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলবেন বাবুনগরী
হেফাজতের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন আলোচিত ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

সোমবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার পর মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় যান তিনি। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তারা।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার নেতা-কর্মীদের মুক্তিসহ কয়েকটি ইস্যুতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হেফাজতে সূত্রে জানা গেছে, এতে কারাবন্দি নেতাদের ঈদুল আজহার আগে মুক্তি চাওয়া হবে। 

সূত্র জানিয়েছে, আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসায় শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন বাবুনগরী। ১৫ জুলাই আল্লামা শফী হত্যা মামলার বিষয়ে পরবর্তী রায় দেবে আদালত। আজকের বৈঠকে এ বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। 

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর ডায়াবেটিস, প্রেশারসহ বিভিন্ন রোগের কারণে প্রায় সময় অসুস্থ থাকেন জুনায়েদ বাবুনগরী। এর মধ্যে গত মে মাসে তার ব্যক্তিগত খাদেম (সেবক) মাওলানা ইনআমুল হাসান ফারুকীকে গ্রেফতার করা হলে আরও ভেঙে পড়েন তিনি। 

ইনআমুল আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা ও গত ২৬ মার্চ হাটহাজারী থানা ভবন, ভূমি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাসহ দুইটি মামলার আসামী। ওই দুই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। 

গত ২৭ জুন সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাবুনগরী বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগসহ উচ্চতর ডায়াবেটিস, প্রেশার ইত্যাদি রোগে ভুগছি। তিন বেলায় দৈনিক আমার অর্ধশত ট্যাবলেট খেতে হয় এবং ইনসুলিন নিতে হয়। খাদেমদের সহযোগিতা ছাড়া একাকী চলাফেরা করতে পারি না। আমার ব্যক্তিগত খাদেম (সেবক) মাওলানা ইনআমুল হাসান ফারুকীকেও সম্পূর্ণ বিনাদোষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে জেলে আটক থাকায় ওষুধ সেবনসহ নানা কাজে আমি যারপরনাই কষ্ট পাচ্ছি। শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে আমার সেবক ইনআমুল হাসানেরও মুক্তি চাচ্ছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও খাদেম ইনআমের মুক্তি- এ দু’টি বিষয়ে বাবুনগরীর পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হবে। এছাড়া দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দিতে এবং সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে জোর দাবি জানাবেন বাবুনগরী। 

প্রসঙ্গত, হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আজগর আলী হসপিটালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর আগের দিন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি মহাপরিচালকের পদ ছাড়েন। 

পরে গত ১৭ ডিসেম্বর আহমদ শফীর শ্যালক মইন উদ্দিন চট্টগ্রামের আদালতে মামলা করেন। মামলায় ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। 

গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল তৃতীয় জজ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এতে হেফাজতের বর্তমান আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব নাসির উদ্দিন মুনিরসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : হেফাজতে অস্থিরতা