মুন্সীগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে ফুঁসছেন নেতাকর্মীরা
jugantor
মুন্সীগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে ফুঁসছেন নেতাকর্মীরা
কমিটির কার্যক্রম বন্ধের হুমকি

  আরিফ উল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ থেকে  

০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৯:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে ফুঁসে উঠছেন নেতাকর্মীরা। এ কমিটির কার্যক্রম বন্ধের হুমকিও দিচ্ছেন তারা।

নবগঠিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুল হাইয়ের অনুরোধে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সব কর্মসূচি স্থগিত রেখেছেন কমিটিতে জায়গা না পাওয়া নেতারা।

এদিকে 'নতুন মোড়কে পুরাতন পণ্য’ দিয়ে দায়সারা কমিটি ঘোষণাকে মুন্সীগঞ্জে বিএনপির শক্ত অবস্থানকে দুর্বল করার একটি কৌশল হিসাবে দেখছেন অধিকাংশ নেতাকর্মী।

তারা মনে করেন, চার বছর আগে মো. আবদুল হাইকে সভাপতি ও কামরুজ্জামান রতনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর থেকে মুন্সীগঞ্জ বিএনপিতে বিভাজন সৃষ্টি হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা তো দূরের কথা, অঙ্গসংগঠনগুলোর কোনো কমিটিই আলোর মুখ দেখতে পারেনি।

দুই-একটা কমিটি আলোর মুখ দেখলেও সভাপতি-সম্পাদকের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্কের কারণে আন্দেলন-সংগ্রামে অংশ নেয়া তো দূরের কথা কমিটির সভাও করতে পারেনি।

মো. আবদুল হাই ও কামরুজ্জামান রতন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক থেকে যা করতে পারেনি তারাই আবার আহ্বায়ক/ সদস্য সচিব হিসাবে কতটুকু করতে পারবেন।

জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিম স্বপন জানান, যারা বিএনপির দুঃসময়ের কাণ্ডারি, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তাদের অনেকেই আজ এই কমিটিতে নেই। দল তাদের মূল্যায়ন করেনি।

শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বকুল জানান, আন্দোলন-সংগ্রামে সব ইউনিটের ভূমিকা থাকলেও শহর ও সদর থানা ইউনিটের ভূমিকা একটু বেশি থাকে। কারণ শহরকেন্দ্রিক আন্দোলন প্রশাসনের নজরে পড়ে বেশি।

সব রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম শহরকেন্দ্রিকই হয়ে থাকে। এ জন্য কমিটিতে শহর ও সদরের নেতাদের নাম বেশি থাকে। অথচ এই কমিটিতে তাদের সংখ্যা কম। এই কমিটিতে আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা না হলে আমরা বিএনপি অফিসে কাউকে ঢুকতে দেব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, আবদুল হাই ও কামরুজ্জামান রতন দুজন দুই মেরুর নেতা। একজনের সঙ্গে অন্যজনের সম্পর্ক খুবই খারাপ। সভাপতি/ সম্পাদক হিসাবে তারা দুজন বিগত চার বছরে একসঙ্গে বসে সভা করতে পারেনি। তাদের দিয়ে আবার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা— এটি তামাশা ছাড়া আর কিছুই না।

কেন্দ্র এ কমিটি কিভাবে ঘোষণা দিল তা বুঝতে পারলাম না, তা হলে কেন্দ্র কী চায়না বিএনপি শক্তিশালী হোক। তিনি বলেন, কেন্দ্রের উচিত ছিল দুজনের একজনকে বাদ দিয়ে কমিটি করা।

জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট তাতা মিয়া ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হালিম হোসেইন জানান, বিএনপির এই দুঃসময়ে আইনজীবীরা আদালতে ও আন্দেলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। অথচ আইনজীবীরা এ কমিটিতে বঞ্চিত হয়েছেন।

সদ্যঘোষিত জেলা বিএনপির অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন জানান, বিএনপিতে অনেক নেতা আছে, সবাইকে তো আর পদ দেওয়া যাবে না। এর মধ্যে হয়তো কেউ কেউ বাদ পড়েছে। পদ বড় কথা না, তাদের কর্মকাণ্ডকে দল মূল্যায়ন করবে।

তিনি বলেন, বিগত কমিটিতে হাই ভাইয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব থাকায় কাজ করতে পারিনি। এবার তা হবে না। দুজনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করব, তা ছাড়া কেন্দ্রও মনিটরিং করছে। কেউ অসহযোগিতা করলে কেন্দ্রই তার ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, আগের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিএনপি মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে গত ২৫ আগস্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মো. আব্দুল হাইকে আহ্বায়ক ও মো. কামরুজ্জামান রতনকে সদস্য সচিব করে ৫৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। একই দিন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে ফুঁসছেন নেতাকর্মীরা

কমিটির কার্যক্রম বন্ধের হুমকি
 আরিফ উল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ থেকে 
০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে ফুঁসে উঠছেন নেতাকর্মীরা। এ কমিটির কার্যক্রম বন্ধের হুমকিও দিচ্ছেন তারা।

নবগঠিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুল হাইয়ের অনুরোধে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সব কর্মসূচি স্থগিত রেখেছেন কমিটিতে জায়গা না পাওয়া নেতারা।

এদিকে 'নতুন মোড়কে পুরাতন পণ্য’ দিয়ে দায়সারা কমিটি ঘোষণাকে মুন্সীগঞ্জে বিএনপির শক্ত অবস্থানকে দুর্বল করার একটি কৌশল হিসাবে দেখছেন অধিকাংশ নেতাকর্মী।

তারা মনে করেন, চার বছর আগে মো. আবদুল হাইকে সভাপতি ও কামরুজ্জামান রতনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর থেকে মুন্সীগঞ্জ বিএনপিতে বিভাজন সৃষ্টি হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা তো দূরের কথা, অঙ্গসংগঠনগুলোর কোনো কমিটিই আলোর মুখ দেখতে পারেনি।

দুই-একটা কমিটি আলোর মুখ দেখলেও সভাপতি-সম্পাদকের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্কের কারণে আন্দেলন-সংগ্রামে অংশ নেয়া তো দূরের কথা কমিটির সভাও করতে পারেনি।

মো. আবদুল হাই ও কামরুজ্জামান রতন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক থেকে যা করতে পারেনি তারাই আবার আহ্বায়ক/ সদস্য সচিব হিসাবে কতটুকু করতে পারবেন।

জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিম স্বপন জানান, যারা বিএনপির দুঃসময়ের কাণ্ডারি, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তাদের অনেকেই আজ এই কমিটিতে নেই। দল তাদের মূল্যায়ন করেনি।

শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বকুল জানান, আন্দোলন-সংগ্রামে সব ইউনিটের ভূমিকা থাকলেও শহর ও সদর থানা ইউনিটের ভূমিকা একটু বেশি থাকে। কারণ শহরকেন্দ্রিক আন্দোলন প্রশাসনের নজরে পড়ে বেশি।

সব রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রাম শহরকেন্দ্রিকই হয়ে থাকে। এ জন্য কমিটিতে শহর ও সদরের নেতাদের নাম বেশি থাকে। অথচ এই কমিটিতে তাদের সংখ্যা কম। এই কমিটিতে আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা না হলে আমরা বিএনপি অফিসে কাউকে ঢুকতে দেব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, আবদুল হাই ও কামরুজ্জামান রতন দুজন দুই মেরুর নেতা। একজনের সঙ্গে অন্যজনের সম্পর্ক খুবই খারাপ। সভাপতি/ সম্পাদক হিসাবে তারা দুজন বিগত চার বছরে একসঙ্গে বসে সভা করতে পারেনি। তাদের দিয়ে আবার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা— এটি তামাশা ছাড়া আর কিছুই না।

কেন্দ্র এ কমিটি কিভাবে ঘোষণা দিল তা বুঝতে পারলাম না, তা হলে কেন্দ্র কী চায়না বিএনপি শক্তিশালী হোক। তিনি বলেন, কেন্দ্রের উচিত ছিল দুজনের একজনকে বাদ দিয়ে কমিটি করা।

জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট তাতা মিয়া ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হালিম হোসেইন জানান, বিএনপির এই দুঃসময়ে আইনজীবীরা আদালতে ও আন্দেলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। অথচ আইনজীবীরা এ কমিটিতে বঞ্চিত হয়েছেন।

সদ্যঘোষিত জেলা বিএনপির অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন জানান, বিএনপিতে অনেক নেতা আছে, সবাইকে তো আর পদ দেওয়া যাবে না। এর মধ্যে হয়তো কেউ কেউ বাদ পড়েছে। পদ বড় কথা না, তাদের কর্মকাণ্ডকে দল মূল্যায়ন করবে।

তিনি বলেন, বিগত কমিটিতে হাই ভাইয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব থাকায় কাজ করতে পারিনি। এবার তা হবে না। দুজনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক রয়েছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করব, তা ছাড়া কেন্দ্রও মনিটরিং করছে। কেউ অসহযোগিতা করলে কেন্দ্রই তার ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, আগের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিএনপি মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে গত ২৫ আগস্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মো. আব্দুল হাইকে আহ্বায়ক ও  মো. কামরুজ্জামান রতনকে সদস্য সচিব করে ৫৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। একই দিন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।   

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর