আইনজীবী জয়নুল

খালেদা জিয়ার হাত ফুলে উঠেছে, ঘাড় নাড়াতে পারছেন না

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ মে ২০১৮, ১৪:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়ে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, কারাগারে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছি। তার হাত ফুলে উঠেছে। ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। কথাও বলতে পারছেন না। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, খালেদা জিয়া বিশ্রামে আছেন। মানুষের জন্য আদালত; আদালত সবকিছুই দেখবেন।

বুধবার খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানিতে সপক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়নুল আবেদীন আদালতের কাছে এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে আপিলের ওপর আজ দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার আদেশ দেবেন আদালত।

আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৩ বছর। আদালতের চোখ আছে, মন আছে ও বিবেক আছে। পাবলিক পারসেপশন আছে। এই কোর্ট ছাড়া আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক মামলায় জামিন হয়ে গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তো আপিল করে না।

এ সময় তিনি সরকারদলীয় দুজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মামলায় জামিন ও খালাসের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল না করার বিষয়টি আদালতের কাছে তুলে ধরেন।

শুনানির শুরুতে জয়নুল আবেদীন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এ মামলায় কোনো অথরিটি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন?

তখন আদালত তার উদ্দেশে বলেন, আপনারাই তো রাষ্ট্রপক্ষকে সংযুক্ত করেছেন। সেই সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ যখন এক হয়, তখন ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমাদের সংশয় দেখা দিয়েছে।’

তিনি আদালতকে আরও বলেন, লঘু দণ্ডের যেসব মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত সাধারণত হস্তক্ষেপ করেন না।

খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন তার শুনানিতে আদালতের কাছে দাবি করেন, ১/১১ সরকারের সময় এ মামলা শুরু হয়েছিল।

এ সময় তিনি পত্রিকার খবর পড়ে আদালতকে বলেন, এখন সারা দেশে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে লাখ লাখ মামলা ঝুলে আছে। অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের ওপর দায় দিয়ে অশুভ পাঁয়তারা করছেন।

খন্দকার মাহবুব বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করছি, হাইকোর্ট কোনো মামলায় জামিন দিলে আপিল বিভাগ সেখানে হস্তক্ষেপ করেন না। করার নজির নেই।

তখন প্রধান বিচারপতি তার উদ্দেশে বলেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলেও আমরা তা আটকে দিয়েছি।

খন্দকার মাহবুব বলেন, খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ নির্দোষ। এই মামলাসংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্রে তার কোনো স্বাক্ষর নেই। এ মামলা যখন শুরু হয়েছিল, তখন ছিল মাইনাস টু ফর্মুলা। আর এখন ফর্মুলা মাইনাস ওয়ান।

দিনের শুরুতে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, হাইকোর্টে কোনো মামলায় জামিন হলে উচ্চ আদালত সাধারণত সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ করেন না। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, তিনি কোনো পার্টির অ্যাটর্নি জেনারেল না।

এ মামলায় বিচারিক আদালত তার রায়ে কিছু ভুল করেছেন বলে দাবি করেন এজে মোহাম্মদ আলী। আদালতের উদ্দেশে এজে মোহাম্মদ আলী সম্প্রতি পুলিশের হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেন, আমার এ কথা অন্যভাবে দেখবেন না। জামিন হবে কি হবে না, ক্লিয়ারেন্স আছে কি নেই? তখন আদালত বলেন, এগুলো বলে লাভ নেই।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে। তার জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আপিল করে, যার ওপর গতকাল শুনানি শুরু হয়।

গত ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন ওই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেন। এ ছাড়া আপিল শুনানির তারিখ ৮ মে ধার্য করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter