ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করবে ইসলামী ঐক্যজোট
jugantor
ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করবে ইসলামী ঐক্যজোট

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৫৬:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করবে ইসলামী ঐক্যজোট

কুমিল্লায় পবিত্র কুরআন অবমাননাকারী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা মণ্ডপে আক্রমণ ও মূর্তি ভাঙার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানান বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ ও বর্ণবাদ মানবসমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু। এই মানবতার শত্রুদেরকে প্রতিহত করতে হবে। এ জন্য দেশ, অঞ্চল ও বিশ্বের অসাম্প্রদায়িক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে মানুষ ও মানবতার দুশমনদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে যারা হিন্দুদের পূজা মণ্ডপে আক্রমণ করেছে, তাদের পূজার মুর্তি ভেঙেছে, এদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সকল সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার নানুয়া দিঘির পাড়ে পবিত্র কুরআন অবমাননা কারা করেছে, এখনও প্রশাসন তা সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই বলছে না। আমরা দাবি করেছিলাম গত শুক্রবারের আগে আসল অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবগত করতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করেছে কিনা, আমরা জানি না। আমরা ওই ঘটনার প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করছি।

এসময় ওলামা-মাশায়েখ ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন করে একটি অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ঘোষণা দেন তিনি।

কর্মসূচিগুলো হচ্ছে— ১. মহানবী (স.) এর জন্ম ও মৃত্যুর এই মাসে (রবিউল আউয়াল) তার মহান জীবনের ওপরে আলোচনা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরসহ দেশের প্রতিটি জেলা শহরে এক বা একাধিক সিরাত সম্মেলন করা হবে।

২. দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে দুই মাসব্যাপী সকল ধর্মের ধর্মীয় নেতা, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হবে।

৩. ৩০-৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় দেশের বিখ্যাত অসাম্প্রদায়িক ওলামা-মাশায়েখ ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন করে একটি অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৪. সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যারা মিথ্যাচার করে, সেই বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের নাম ও কর্মস্থলের তালিকা প্রকাশ করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিতে তথ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

৫. যেসব দেশ থেকে এই মিথ্যাচারীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মিথ্যাচার করে সাম্প্রদায়িকতা উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদসহ নানামুখী বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে, ঢাকায় অবস্থিত সেইসব দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে তাদের অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানানো হবে।

ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করবে ইসলামী ঐক্যজোট

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করবে ইসলামী ঐক্যজোট
বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় পবিত্র কুরআন অবমাননাকারী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা মণ্ডপে আক্রমণ ও মূর্তি ভাঙার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানান বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ ও বর্ণবাদ মানবসমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু। এই মানবতার শত্রুদেরকে প্রতিহত করতে হবে। এ জন্য দেশ, অঞ্চল ও বিশ্বের অসাম্প্রদায়িক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে মানুষ ও মানবতার দুশমনদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে যারা হিন্দুদের পূজা মণ্ডপে আক্রমণ করেছে, তাদের পূজার মুর্তি ভেঙেছে, এদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সকল সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার নানুয়া দিঘির পাড়ে পবিত্র কুরআন অবমাননা কারা করেছে, এখনও প্রশাসন তা সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই বলছে না। আমরা দাবি করেছিলাম গত শুক্রবারের আগে আসল অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবগত করতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করেছে কিনা, আমরা জানি না। আমরা ওই ঘটনার প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করছি।

এসময় ওলামা-মাশায়েখ ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন করে একটি অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ঘোষণা দেন তিনি। 

কর্মসূচিগুলো হচ্ছে— ১. মহানবী (স.) এর জন্ম ও মৃত্যুর এই মাসে (রবিউল আউয়াল) তার মহান জীবনের ওপরে আলোচনা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরসহ দেশের প্রতিটি জেলা শহরে এক বা একাধিক সিরাত সম্মেলন করা হবে।

২. দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্যে দুই মাসব্যাপী সকল ধর্মের ধর্মীয় নেতা, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হবে।

৩. ৩০-৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় দেশের বিখ্যাত অসাম্প্রদায়িক ওলামা-মাশায়েখ ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন করে একটি অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৪. সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যারা মিথ্যাচার করে, সেই বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের নাম ও কর্মস্থলের তালিকা প্রকাশ করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিতে তথ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

৫. যেসব দেশ থেকে এই মিথ্যাচারীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মিথ্যাচার করে সাম্প্রদায়িকতা উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদসহ নানামুখী বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে, ঢাকায় অবস্থিত সেইসব দেশের  রাষ্ট্রদূতদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে তাদের অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানানো হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন